মিজানুর রহমান শমশেরীর দুটি কবিতা

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

একুশের কবিতা 

এইদিন থেকে কিছুদিন আগে-

যখন ফাগুন নব-প্রতিভাত

কৃষ্ণচূড়ার রঙিন আমেজ

একদল কিশোরের প্রাণে জাগে।

 

আর কিছু মানুষেরা সাগরবেলায়

নিজের অস্তিত্ব ভুলে 

দাসত্বের রজ্জু পরে গলে মত্ত ছিল

কিছুদিন রাজা রাজা খেলায়।

 

খেলা জমেছিল, ওরা ঘাগু খেলোয়াড়;

আর সহসা মৌসুম গেলো ঘুরে।

 

দখিন দুয়ার থেকে নিদাঘ-বসন্ত বায়ু

ছুটে আসে দীর্ঘশ্বাসে

স্বদেশ-জননী চায় মাতৃ-অধিকার।

 

করপুটে করবীর রঙিন চুম্বনে

কিশোর-বালক আসে মা’র পাশে;

কণ্ঠে তার উদাত্ত মায়ের ভাষা।

 

রক্তের গোধূলি থেকে টেনে নিয়ে মুখ

জননী- শোকার্তা মাতা চলে রাজপথে

অশ্রুহীন শত আঁখি বিমুগ্ধ বিমূঢ়।

 

দেয়ালিকা

পাষাণ মানুষ বুঝলে না কেউ জীবনের অভিপ্রায়,

তাই লিখে যাই অমর কাহিনি মূক দেয়ালের গায়।

আঁধার জীবনে আলেয়ার আলো স্বপ্নসৌধ গড়ে,

দিনের আলোতে রাতের স্বপন নিমেষে নিমেষে ঝরে।

 

চলতি পথের এধারে ওধারে নিত্য বাসনা কুড়াই,

রোশনিবিহীন বাস্তবতায় ধূলিতে যে তা ওড়াই।

তিমির রাতের আঁধার ভাঙিয়া স্বপ্ন-আহত পাখি

নিয়ত খুঁজিছে আলোর পরশ তন্দ্রাবিহীন আঁখি।

 

মানবতাহীন মানব সমাজ- হায়রে কঠিন বিধা!

মানুষ চিবোতে মানুষের হাড় কেউ তো করে না দ্বিধা।

মানুষে মানুষে এতো ব্যবধান! কালের প্রবাহ শেষে-

হায়, বুঝি আজ সব খোয়ালাম বিংশুতি যুগে এসে!

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

বান্দরবান ভ্রমণ – নীলাচল ও মেঘলায় (দ্বিতীয় পর্ব)

সবুজে নীলে আঁচলে বান্দরবান শহর ছাড়িয়ে নীলাচলের পথে উঠতে শুরু করলেই মনে হয়, আপনি আর স্রেফ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন...

নবাবগঞ্জের গ্রামগুলি | গ্রামের তালিকা

নবাবগঞ্জের গ্রামগুলি পদ্মা, ইছামতি ও কালিগঙ্গা এই তিন নদীর অববাহিকায় ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে ইছামতি এর প্রাণ, আর...

দোহারের গ্রামগুলি | গ্রামের তালিকা

দোহারের গ্রামগুলি, বদলে যাচ্ছে দ্রুত। গ্রামগুলো বড় হচ্ছে, এ গ্রাম ও গ্রাম মিলে এক হয়ে যাচ্ছে। যেখানে ছিল...

কুর্দি কারা? ইতিহাস ও পরিচয়

মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রে এমন এক বিশাল জনপদ রয়েছে, যাদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি এবং সুদীর্ঘ ইতিহাস থাকলেও নেই কোনো নিজস্ব...