আতঙ্কিত গ্রামবাসীর হাতেই মারা পড়লো বিরল বাগডাশ, দায় কার?

509
বিরল বাগডাশ
বিরল বাগডাশ

ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামে উদ্ধারকৃত একটি বিরল বাগডাশ পিটিয়ে মেরে ফেলেছে গ্রামবাসী। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, দোহার উপজেলা প্রশাসনকে বারবার ফোন করেও যখন আতঙ্কিত গ্রামবাসীকে কোন সহায়তা করতে রাজি হন নি, তখনই গ্রামবাসী একত্রিত হয়ে এই বাঘডাশটি খুজে বের করে এবং পিটিয়ে হত্যা করে।  এখনো ধারনা করা হচ্ছে দুটি ছানাসহ একটি বাঘডাশ অবস্থান করছে মাহমুদপুর ইউনিয়নে। একদিকে এলাকাবাসী যেমন আতঙ্কিত, ঠিক একইভাবে হুমকির মুখে রয়েছে বিলুপ্ত প্রায় ৩টি প্রাণী।

একসময় গ্রাম অঞ্চলে সচরাচর দেখা যাওয়া বিড়াল জাতীয় এই শিকারী প্রাণীটি এলাকাভেদে গন্ধগোকুল ও খাটাশ নামেও পরিচিত (Large Indian civet)। হাস-মুরগী ও ছোটখাট গৃহপালিত পশু শিকার করে থাকে এই প্রাণীটি

বুধবার দিন থেকেই মাহমুদপুরে এই বাঘডাশ আতংক ছড়িইয়ে পড়ে। মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল মিয়াকে এই ব্যাপারটা জানানো হলে তিনি তাচ্ছিল্য ভরে বিরল এই বাঘডাশটির ছবি তুলে আনতে বলেন, এবং ছবি তুলে আনলে এই ব্যাপারটা বন্য প্রানী অধিদপ্তরে তিনি জানাবেন বলে জানান। এরই মাঝে আতংক বাড়তে থাকায় শুক্রবার সকালে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সবাইকে জানানো হয় যে, বাঘ এসেছে মুন্সী বাড়ি পুরাতন ক্লাবের পাশে ছোট কাশ বনে তাই বাঘ কে ধরা হবে সকাল ১০টায়।

অন্য খবর  দোহারে ইসলামী ব্যাংকের শীতবস্ত্র বিতরণ:

এ মাইকিং শুনে গ্রামের সবাই ১০টার দিকে নেমে যায় বাঘডাশ শিকারে।  এই সময় কাশবনে কিছুক্ষন খোজাখুজির  পর বাগডাশার ছানার সন্ধান মিলে। তখন আতঙ্কিত একটি বাঘডাশ আঘাত করে ও একজনকে আচর কেটে আবার বনে লুকিয়ে পড়ে।

এক পর্যায়ে বনে আগুন লাগিয়ে ও সারা বন তল্লাশি করে একটি বাঘদাশ আটক করা হয় এবং টেটা দিয়ে খুচিয়ে খুচিয়ে বাঘডাশটি হত্যা করা হয়।

সবাই ধারণা করছে ওখানে বাচ্চা সহ আরো তিনটি বাঘডাশ আছে। চারদিন ধরে বাগডাশ এর আওয়াজ শুনতে ও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।

বিরল বাগডাশ টি হত্যার পর মাহমুদপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান ঘটনা স্থলে এসে পরিদর্শন করেন এবং বন্যপ্রাণী বিভাগ ও প্রশাসন কে ফোন দেন।

আপনার মতামত দিন