হঠাৎ রশিদ মোল্লার গা গরম । রাতে বাড়তে থাকে জ্বর আর হাঁচি কাশি। দুদিন পর পরিবারের অন্য সদস্যদের মধ্যে দেখা দেয় করোনার উপসর্গ। স্ত্রী ও দুই সন্তানের করোনা টেস্ট করা হয় স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল হাসপাতালে। কিন্তু মহাখালী আইইডিসিআর থেকে শুধু রশিদ মোল্লাকে জজানানো হয় আপনি করোনা আক্রান্ত। পরিবার থেকে আলাদা থাকুন। এটুকুই শেষ। এখন পর্যন্ত জানানো হয়নি পরিবার তিন সদস্যের করোনা রিপোর্ট । কিন্তু রশিদ মোল্লা পরিচিত চিকিৎসকদের কাছ থেকে চিকিৎসা নিয়ে এখন তারা দিব্যি সুস্থ।
কথা হয় করোনা আক্রান্ত এডভোকেট রশিদ মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, করোনায় আমি চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ওষুধ সেবন করেছি। একই সঙ্গে কিছু নিয়মকানুন ফলো করেছি। নিয়মিত ঔষধ যেমন Napa extend,Rozith( antibiotic), Fexo, Cevit,Cavic- C, Orsaline খেয়েছি। গরম পানির মধ্যে লবন ও ভিনেগার দিয়ে বেশি বেশি গারগল করেছি। আদা, রসুন লবঙ্গ, এলাচি, গুলমরিচ, তেজপাতা ও কালো জিরা একটু ছেচে পানি ফুটিয়ে ওই পানির বাস্প নাকে মুখে টেনেছি। এই বাস্পটা টানার জন্য মাথায় গামছা হাত দিয়ে এমন ভাবে ধরতে হবে যাতে উক্ত বাস্প পুরোটাই নাকে মুখে লাগে। এরপর আদা জাতীয় গরম পানি, লেবুর রস ও মধু সরিষার তেল দিয়ে খেয়েছি। এর পর গরম পানির মধ্যে গামছা ভিজিয়ে হালকা চিপুর দিয়ে নাকে চেপে ধরে নাকে টেনেছি। তাতে নাকের ভিতরের কফ/ নস জাতীয় পদার্থ বেরিয়ে এসেছে। সব সময় গরম পানি খেয়েছি। গরম পানি দিয়ে গোসল করেছি। ব্যবহৃতত কাপর চোপর, চাদর, বালিশের কভার প্রতিদিন ফুটন্ত পানি ও ডিটার্জেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করেছি। বাথরুমে বার বার ফুটন্ত পানি ঢেলেছি।
এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এমন ফলমূল খেয়েছি প্রচুর। মাল্টা, আনারস, মাছ,মাংস ডিম বেশী বেশী খেয়েছি।
আর সবচেয়ে বেশি আল্লাহকে ডেকেছি। আল্লাহ আমাদেরকে মাফ করেছেন। শুভাকাংখী বহু মানুষ আমাদের জন্য দোয়া করেছেন। বন্ধু এড. সোহেল ও আমাদের বিল্ডিং এর অন্য ভারাটিয়া রানা ভাই কয়েকদিন বাজার সদাই। ঔষধ ক্রয় করে দিয়েছেন। বেশ কয়েকজন সাংবাদিক কলিগ অনেক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।
তিনি আরো বলেন, শারীরিকভাবে আমি সুস্থ। কিন্তু আমাকে আর নতুন করে কোনো পরীক্ষা করা হয়নি।আমার পরিবারের ৩ জনের করোনা পরীক্ষার টেস্টের রিপোর্ট আজ ২১ দিন পার হলেও জানতে পারলাম না। এখনো আতংকে আছি। তবে সুস্থ্যতা বোধ করছি।