৪০ টি জেলার চেয়েও বেশি নবাবগঞ্জ উপজেলার করোনাভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা

2327

কোন ভাবে করোনা সংক্রামন ঠেকানো যাচ্ছে না ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায়। ঢাকার একেবারে কাছে অবস্থিত ও প্রবাসী অধ্যুষিত এই নবাবগঞ্জ উপজেলায় নিয়মিত পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনাভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা। কোন ভাবেই নিয়ন্ত্রনে আনা যাচ্ছে না এই উপজেলার করোনা পরিস্থিতি

বাংলাদেশের অনেক জেলার চেয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। দোহার উপজেলায় আক্রান্ত সংখ্যা ৩১ টি জেলার চেয়ে বেশি, নবাবগঞ্জ উপজেলার করোনাভাইরাস আক্রান্ত সংখ্যা ৪০ টি জেলার চেয়েও বেশি! শুরু থেকে প্রশাসনের যথেষ্ট প্রচেষ্টটা ছিল, কিন্তু জনসাধারণের অসহযোগিতাই  মূল কারণ। অনেকে করোনাভাইরাসকে কোনো গুরুত্বই দিতে চান না। পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল দিয়ে নিজেকে আলাদা করার বদলে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করেন, রিপোর্ট আসার আগে কেনো ধরণের সাবধানতা অবলম্বন করছেন না। এই সময়ের মধ্যে তারা ভাইরাস ছড়িয়ে দিচ্ছেন পরিবার ও সমাজে। বান্দুরা-নয়নশ্রী খুব কাছাকাছি যায়গা, এটি হয়ে গেছে নবাবগঞ্জের হটস্পট। এটি হটস্পট হয়ে উঠার পেছনে এই অসচেতনতাই দায়ী।

নিচে চার্টে পরিসংখ্যান দেখতে পাবেন।

করোনা নিয়ন্ত্রনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কাজ করে যাচ্ছে দিনের পর দিন। দায়িত্বে থাকা নবাবগঞ্জ উপজেলার মেডিকেল অফিসার ও করোনা ইউনিটের ফোকাল পার্সন নবাবগঞ্জের সন্তান ডা. হরগোবিন্দ সরকার অনুপ প্রতিদিনই চষে বেড়াচ্ছেন নবাবগঞ্জের সম্ভাব্য করোনা আক্রান্তের বাসায়। তারপরও বাড়ছে করোনা রোগীর সংখ্যা। জুনের ১ তারিখে নবাবগঞ্জে একদিনে সর্বোচ্চ ৯১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে।

অন্য খবর  দেড় বছর পর দুই মায়ের কোলে প্রকৃত সন্তানঃ ঘটনাস্থল দোহার জেনারেল হাসপাতাল

নবাবগঞ্জে করোনা পরিস্থিতির দিক দিয়ে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে নবাবগঞ্জের বান্দুরা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৫২ জন করোনা আক্রান্ত রোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মাঝে ঢাকায় মারা গেছেন এই ইউনিয়নের গৌরাঙ্গ বণিক নামে একজন ব্যবসায়ী। বান্দুরার জেলে পাড়ার একই পরিবারের এক যুবক সদস্য বাদে সবাই করোনা আক্রান্ত। সেই যুবকের সাথে পরবর্তীতে যোগাযোগ মানবজমিনের সাংবাদিক রাশিম মোল্লা। তিনি সেই যুবক ও তার পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ, মানসিক শক্তি প্রদান, আর চিকিৎসা পরামর্শ দিয়েছেন।

বান্দুরার পরেই আছে কলাকোপা ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ জন। এখন পর্যন্ত কেউ মারা না গেলেও নবাবগঞ্জের অন্যতম করোনা সংক্রামিত ইউনিয়ন কলোকোপা।
সংক্রমনের দিক থেকে ৩য় অবস্থানে আছে নয়নশ্রী ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নে আক্রান্তের সংখ্যা ১১ জন। তারপরের অবস্থান আগলা ইউনিয়নের। আগলাতে করোনায় আক্রান্তের সখ্যা ১০ জন। বাহ্রাতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ জন। যন্ত্রাইলে আক্রান্তের সংখ্যা ৭ জন।

চুড়াইনে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ জন। কিন্তু এরই মাঝে মারা গেছেন করোনা আক্রান্ত এক রোগী। বক্সনগর ও কৈলাইলে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ জন করে। গালিমপুরে ৩ জন করোনায় আক্রান্ত। বারুয়াখালিতে ২ জন, শিকারিপাড়া, জয়কৃষ্ণপুর ও শোল্লায় ১ জন করে করোনা আক্রান্ত শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সিরাজদিখানের (খারশুর) এর ১ জন করোনা আক্রান্ত চিহ্নিত হয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

অন্য খবর  নবাবগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ২৪
জেলা/উপজেলাআক্রান্ত
নবাবগঞ্জ উপজেলা১৫২
যশোর১৪৪
জয়পুরহাট১৩৫
মানিকগঞ্জ১৩৪
শরিয়তপুর১১৯
দিনাজপুর১১৭
ব্রাহ্মণবাড়ীয়া১১৬
মাদারিপুর১১৫
চাঁদপুর১০৯
নওগাঁ১০২
দোহার উপজেলা৯১
নীলফামারি৯০
চুয়াডাঙ্গা৮৯
শেরপুর৮৬
খুলনা৭৩
বরিশাল৭০
রাঙামাটি৬৫
কুড়িগ্রাম৬৪
ঠাকুরগাঁও৬১
রাজশাহী৫৯
চাপাই নবাবগঞ্জ৫৪
নাটোর৫৩
টাঙ্গাইল৫২
কুষ্টিয়া৫১
ঝিনাইদহ৪৮
বরগুনা৪৪
সাতক্ষীরা৪৩
পঞ্চগড়৪০
গাইবান্ধা৪০
পটুয়াখালি৪০
পাবনা৩৮
লালমনিরহাট৩৬
খাগড়াছড়ি৩৫
ঝালকাঠি৩০
বান্দরবান২৯
নড়াইল২৬
মাগুড়া২৫
পিরোজপুর২৪
ভোলা২৩
সিরাজগঞ্জ১৯
বাগেরহাট১৮
মেহেরপুর১৪

জেলার তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা, ০২ জুন, ২০২০

Comments

comments