নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাডেমী কাউন্সিলে জরুরি সভায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ একাডেমি কাউন্সিলরা। নবাবগঞ্জ উপজেলার ইউএনও দিলরুবা ইসলাম সরকারী দোহার নবাবগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর মুহম্মদ আব্দুর রাজ্জাক কে ষ্টুপিড অসাধারণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় তাৎক্ষণিকভাবে লিখিত প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষকরা । এই নিয়ে কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

৭ জুলাই ২০২৬ বেলা দশটায় কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভা থেকে জানা যায়, নবাবগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা দিলরুবা ইসলামের সরকারি দোহার নবাবগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় এন্ড কলেজে প্রশাসনিক কাজে নগ্ন হস্তক্ষেপ করা , প্রসাশনিক অফিস আদেশ জারি করা, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তিনটি গাড়ি নিয়ে আনসার পুলিশ সশস্ত্র অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা চলাকালীন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে তিনি নিজেই পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন এবং আনসারদের মাধ্যমে তিনি ভিডিও ধারণ করেন যা সম্পূর্ণ আইন বহির্ভূত। এমনকি কলেজ থেকে বের হবার সময় অধ্যক্ষের সাথে সৌজন্যমূলক দেখা না করাও অসৌজন্যমূলক আচরণ করার প্রতিবাদে নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এবং একজন উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা সপ্তম গ্রেডের কর্মকর্তা হয়ে চতুর্থ গ্রেডের সিনিয়র কর্মকর্তা অধ্যক্ষের সাথে অশোভন অসৌজন্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন একাডেমি কাউন্সিলের সদস্যরা। এবং মানববন্ধন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
শিক্ষকদের স্বাক্ষরিত লিখিত নিন্দা বার্তায় জানা যায় ২৯ জুন ২৬ উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মত বিনিময় সভা শেষে অধ্যক্ষ মহোদয়ের অফিসে দাপ্তরিক কাজে আমরা ৪ জন প্রভাষক উপস্থিত হই। কিছুক্ষণের মধ্যে অধ্যক্ষ মহোদয়ের মোবাইলে একটি কল আসে। আমরা বুঝতে পারি ইউএনও মহোদয়ের ফোন এবং তিনি উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষা-২০২৬ এর বিষয়ে কথা বলার জন্য অধ্যক্ষ মহোদয়কে কল দিয়ে ‘‘আপনার কলেজ কেন্দ্রে মোট হল সংখ্যা কত?’’ প্রশ্ন করেন। অধ্যক্ষ মহোদয় পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কের নিকট জেনে তাঁকে জানাতে চাইলে তিনি উত্তেজিত স্বরে অধ্যক্ষ মহোদয়কে বলেন ‘‘কেন্দ্র সচিব কে?’’। অধ্যক্ষ মহোদয় তাৎক্ষণিক লাউড স্পীকার অন করে জবাবে বলেন তিনি নিজে। তৎক্ষণাৎ তিনি (ইউ.এন.ও) আরো উত্তেজিত স্বরে ধমক দিয়ে বলেন, ‘‘আপনি কেন্দ্র সচিব, আহবায়কের কাছে জেনে জানাতে হবে কেন? আপনার কেন্দ্রে সিকিউরিটি খাম শর্ট পড়েছে, আপনি জানেন? এখনো সিকিউরিটি খাম আনার ব্যবস্থা নেননি কেন?’’। উত্তরে অধ্যক্ষ মহোদয় জানান- ‘‘আপনি এত এক্সাইটেড হচ্ছেন কেন? অফিসিয়াল আলাপ আলোচনায় আপনি এত এক্সাইটেড হবেন, তা আশা করিনি’’। তিনি (ইউ.এন.ও) অধ্যক্ষ মহোদয়কে বলেন, সিকিউরিটি খাম আপনি সংগ্রহ করেন। জবাবে অধ্যক্ষ মহোদয় বলেন বিষয়টি তিনি এইমাত্র জেনেছেন, অবশ্যই ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু ‘‘আপনি আমার মত একজন ৪র্থ গ্রেডের সিনিয়র অফিসারের সঙ্গে এভাবে কথা বলাটা কতটা শোভনীয় আমি বুঝতে পারছি না।’’ এটা শোনার পর তিনি আরো উত্তেজিত হয়ে অধ্যক্ষ মহোদয়কে ধমকিয়ে ‘‘স্টুপিড’’ বলে গালি দেন, যা আমরা উপস্থিত সকলেই স্পষ্ট শুনতে পাই এবং আমাদেরকে হতচকিত করে। তার এরূপ অশোভন ও অমার্জিত আচরণে অধ্যক্ষ মহোদয় তো বটেই, তার সাথে আমরাও ভীষণভাবে মর্মাহত হই। একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে জনাব দিলরুবা ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নবাবগঞ্জ, ঢাকা এর এরূপ অশোভন ও অমার্জিত আচরণের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
এ বিষয়ে সরকারি দোহার নবাবগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডক্টর মুহম্মদ আব্দুর রাজ্জাক এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিকট এই অশুভ আচরণ কখনোই কাম্য নয় । আমি চতুর্থ গ্রেডের কর্মকর্তা আর তিনি সপ্তম গ্রেড কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে একজন সিনিয়রের সাথে এই অসাচরন আচরণ করতে পারেন আমার মাথায় আসে না। আমি এর বিচার দাবি করছি এবং এরকম আচরণের কারণে আমি মনে করি শিক্ষকদের তিনি অপমানিত করেছেন।
