নবজাতকের সুন্দর নাম রাখা সুন্নত

32
নবজাতকের সুন্দর নাম রাখা সুন্নত

মুফতি রুহুল আমিন কাসেমী

প্রতিটি মুসলিম নবজাতকের জন্য তার পিতা-মাতার ওপর বিশেষ কর্তব্য হলো অন্তত জন্মের সপ্তম দিবসে তার জন্য একটি শ্রুতিমধুর, ঐতিহাসিক ও অর্থবোধক সুন্দর নাম রাখা। আল্লাহ হজরত আদম (আ.)-কে সব জিনিসের নাম শিখিয়ে তাঁকে শ্রেষ্ঠ ঘোষণা করলেন।  এতে বোঝা গেল প্রতিটি জিনিসের নাম রাখা জরুরি।

হজরত সাইদ ইবনে মুসাইয়িব (রা.) বর্ণনা করেন, ‘আমার দাদা হাজন প্রিয় নবীর খেদমতে গেলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন তোমার নাম কী? তিনি বললেন আমার নাম হাজন (শক্ত) প্রিয় নবী বললেন, না, বরং তোমার নাম হওয়া উচিত সাহল (সহজ ও সরল)। তিনি উত্তরে বললেন, আমার পিতা আমার যে নাম রেখেছেন তা আমি পরিবর্তন করব না। এরপর আমাদের পরিবারে পরবর্তীকালে কঠিন অবস্থা ও পেরেশানি লেগেই থাকত।’ (বুখারি)।

তাই অর্থ না জেনে নাম রাখাও ঠিক নয়। এতে অর্থ বিকৃতি ও হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

যেসব নাম অন্যান্য জাতির উপাস্য ও দেবতাদের সঙ্গে খাস, যেমন আবদুল উজ্জা, আবদুল কাবা, দুর্গা, কালী প্রভৃতি নাম রাখাও নাজায়েজ ও হারাম। তাই নাম রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, ‘নবজাতকের পিতা-মাতার ওপর দায়িত্ব হলো জন্মের সপ্তম দিনে সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখা, আকিকা করা ও তার মাথা মু-ন করা।’ (তিরমিজি)।

অন্য খবর  ইচ্ছাকৃত রোজা ভঙ্গকারীর শাস্তি

প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো আবদুল্লাহ আবদুর রহমান। আল্লাহর বহু গুণবাচক নাম রয়েছে, ওইসব নামের সঙ্গে আবদ শব্দযোগে নাম রেখে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রভুত্ব স্বীকার করার ইঙ্গিত দেয় এমন নাম রাখা সর্বোত্তম।

অনুরূপভাবে নবী-রসুল, সাহাবি ও অলি-বুজুর্গদের নামের সঙ্গে মিলিয়ে নাম রাখাও উত্তম। অজ্ঞাতসারে বা অবহেলাবশত অর্থহীন বা বিদঘুটে কোনো নাম রেখে ফেললে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর, শ্রুতিমধুর, অর্থবোধক ও ঐতিহাসিক নাম রাখা অবশ্যকর্তব্য।  প্রিয় নবী (সা.) সাহাবিদের ইসলাম-পূর্ববর্তী যুগের রাখা এ ধরনের কোনো নাম শুনতে পেলে মুসলিম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা পরিবর্তন করে একটি সুন্দর নাম রেখে দিতেন।হজরত জুয়াইরিয়া (রা.)-এর ইসলামপূর্ব নাম ছিল ‘বাররাহ’। প্রিয় নবী তাঁর নাম পরিবর্তন করে জুয়াইরিয়া রাখলেন। (মুসলিম) হজরত ইবনে ওমর বলেন, ‘প্রিয় নবী আসিয়ার নাম পরিবর্তন করে জামিলা রেখেছিলেন, কেননা আসিয়া অর্থ পাপী, আর জামিলা অর্থ রূপসী।’ (মুসলিম)।

কারি তৈয়ব (রহ.) বলেন, ‘মানুষকে তার পোশাক দিয়ে চেনা যায় না বরং নাম ও আচরণ দিয়ে তার জাতীয়তা বোঝা যায়। কারও নাম বিকৃত করে সংক্ষিপ্ত আকারে ডাকাও উচিত নয়, কেননা এতে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। প্রিয় নবী ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কাউকে তার নাম পরিবর্তন করে বিকৃত করে ডাকবে, আল্লাহর ফেরেশতারা তার ওপর লানত করেন। এ ক্ষেত্রে যাকে ডাকা হলো, খুশি না হয়ে বরং সম্মানের সঙ্গে তারও প্রতিবাদ করা উচিত।

অন্য খবর  শিগগির কলেজ সরকারিকরণের আদেশ জারি

লেখক : ইমাম খতিব, কাওলার বাজার জামে মসজিদ, দক্ষিণখান, ঢাকা

আপনার মতামত দিন