কে হচ্ছেন দোহার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী? (পর্ব – ০১)

1350

সারা দেশে পৌরসভা নির্বাচন হলেও নানা জটিলতায় হচ্ছে না দোহারে। তবে দোহার পৌরসভায় শীঘ্রই কেটে যাচ্ছে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা। তাই যতই দিন যাচ্ছে ততোই ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে দোহার পৌরসভার মেয়র নির্বাচন। সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারনে বিভিন্ন সময়ে হাইকোর্টের আদেশে নির্বাচন পিছিয়ে আজ ১৫ বছর ধরে একনায়কতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারীভাবে চলছে দোহার পৌরসভা। ‘ক’ তালিকাভুক্ত পৌরসভা হওয়া স্বত্বেও নেই তেমন নাগরিক সুযোগ-সুবিধা। এর কারণ পৌরসভার উপর একচ্ছত্রভাবে প্রভাব বিস্তার করে চলছে দোহার পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ও মেয়র আব্দুর রহিম মিয়া।

আর অনেকেরই ধারণা সীমানা সংক্রান্ত জটিলতায় আদালতে যে মামলা আছে তার কারণও আব্দুর রহিম মিয়া। মামলা যিনি পরিচালনা করছেন তিনি পৌর বিএনপির-ই এক নেতা এবং আব্দুর রহিম মিয়ার আস্থাভাজন। তাই দোহার পৌরসভার মামলা শেষ হইয়াও হয় না শেষ। আর এভাবেই এক নির্বাচন দিয়ে ৩(তিন) নির্বাচনী মেয়াদ পার করলেন এই পৌর মেয়র। অথচ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় প্রতি ৫(পাঁচ) বছর পরপর নির্বাচনের মাধ্যমে সরকারের ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের ধারা দৃঢ় করা হয়। অথচ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়েও অনেক গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভা মেয়র পদটি; কেননা এখানে অনেক বেশি জনকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়া যায়, এছাড়া টেন্ডার ও অন্যান্য উন্নয়ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়।

আর এই কারণেই সরকার হিসাবে ক্ষমতায় থাকলেও পৌর নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও  উন্নয়নের যে ধারাবাহিকতা সে ধারাবাহিকতায় দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা নিজেদের আয়েত্বে নিতে পারছেন না দোহার পৌরসভার মেয়র পদটি। একদিকে যেমন দোহার পৌরসভার উন্নয়ন কাজ যেমন থেমে আছে, তেমনি পৌরসভায় দেখা গেছে একনায়কতন্ত্র।

কিন্ত সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তন হয়েছে অনেক কিছু। দোহারে ব্যাক্তি উদ্যোগে বদলে গেলো অবকাঠামো। আর আ. রহিম চেয়ারম্যানের ছোয়ায় বদলে গেছে পৌরসভা গেট, নিজের ও ইঞ্জিনিয়ারের গাড়ী। তবে এবার মামলা সংক্রান্ত জটিলতা শেষ হয়ে আগামী মার্চ-এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে পারে দোহার পৌরসভার বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে নেমেছে দোহার পৌরসভার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা কর্মীরা।

অন্য খবর  ঢাকা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন পত্র কিনলেন ভিপি কামাল

ক্ষমতাসীন বিধায় দোহার পৌরবাসী ও দোহার উপজেলা বাসীর অনেকেরই আগ্রহ আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পর আওয়ামীলীগের প্রয়োজন পৌর মেয়রের পদটি। তবে পদটি নিয়ে আওয়ামীলীগে রয়েছে নানা হিসাব নিকাশ। বিভিন্ন নেতার প্রভাব বজায় রাখতেও দলে রয়েছে আভ্যন্তরীন প্রতিযোগীতা।  কিন্তু অনেক বেশী মনোনয়ন প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়েও আছে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা। প্রার্থীরা নিজেরা নিজেদের মতো করে চালাচ্ছেন প্রচারণা। সবাই নিজের মনোনয়নের ব্যাপারে আছেন শতভাগ নিশ্চিত। কিন্তু দেখার বিষয় কে হচ্ছেন দোহার পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী।

দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল, দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব খান, দোহার উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আলামাসউদ্দিন (ভিপি আলমাস), সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান আকন্দ, আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হোসেন সুরুজ, ঢাকা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি ও সালমান এফ রহমানের কাছের লোক বলে পরিচিত পীর শফিকুল ইসলাম সেন্টু, জাহাজ ব্যবসায়ী আমির হোসেন। তবে শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যের শিকি ছিঁড়বে সে ব্যাপারে এখনও নিশ্চিত নয় কেউ। সবাই আছেন মনোনয়ন পাওয়ার লক্ষে। তবে শেষ পর্যন্ত সালমান এফ রহমান যার দিকে ইঙ্গিত দিবেন সেই হচ্ছেন দোহার পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী।

দোহার পৌরসভা ২০০০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গঠিত হয়। জয়পাড়া ইউনিয়নকে দোহার পৌরসভায় পরিণত করে রায়পাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের কিছু অংশ কেটে নেয়া হয়। ফলে অনেকটা জোড়াতালির মতো করেই শুরু হয়েছিল দোহার পৌরসভার যাত্রা। এরপর রায়পাড়া ও সুতারপাড়া ইউনিয়নের সাথে সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার শুরু হয়। এই সীমানা সংক্রান্ত জটলতাকে কেন্দ্র করে আজ ১৫ বছর ধরে নির্বাচনবিহীন দোহার পৌরসভা। ফলে দোহার পৌরসভায় যেমন শুরু হয়েছে উন্নয়ন স্থবিরতা, তেমনি ভাবে জনমনে সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ।

দীর্ঘ ১৫ বছরের এই নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতা খুব সম্ভবত কিছু দিনের মধ্যেই শেষ হচ্ছে। ফলে দোহার পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ছে জনমনের আগ্রহ। সেই আগ্রহের সাথে সাথে গুঞ্জনও আছে সরকারে অধিঠিত আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে। প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় সতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদন্ধিতা করার সুযোগ কমে এসেছে অনেক। ফলে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য দোহার পৌরসভা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের দৌড়ঝাপ শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। তাই যাদের কিছুদিন আগেও রাজনৈতিক মাঠে কম দেখা গিয়েছে তারাও এখন নিয়মিত অংশ নিচ্ছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে।

অন্য খবর  যমদূত ট্রাক ও মাহেন্দ্রের আতংকে দোহারবাসী

ইতিমধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নিয়ে। ইতিমধ্যে দোহার পৌরসভা প্রার্থী হিসাবে অনেকেই শুরু করেছেন ব্যক্তি প্রচারনা। বিভিন্ন রাজনৈতিক হিসাব নিকাশ ও মারপ্যাচে বিভিন্ন আঙ্গিকে অনেকেই নিজের প্রার্থিতা নিয়ে কথা বলছেন নিজের পরিচিত অঙ্গনে।

এর মধ্যে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল ও তার অনুসারীরা অনেকটাই নিশ্চিত দোহার পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন। বিগত ২০১৩ সালে দোহার পৌরসভায় নির্বাচনে নজরুল ইসলাম বাবুল প্রার্থী হয়েছিলেন। এদিকে দোহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচলিত গুজবটি হচ্ছে যে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রার্থী ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল। কিন্তু ধানমন্ডির সালমান এফ রহমানের অফিস – বেল টাওয়ার বৈঠকে  উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে মনোনয়ন দেয়া হলে নজরুল ইসলাম বাবুল নিজের প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন; তখন তাকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় পৌরসভা নির্বাচনের মেয়র পদের জন্য। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হোচ্ছেন দোহার পৌরসভায়, রাজনৈতিক অঙ্গনে এর জোর গুঞ্জন। একজন রাজনৈতিক নেতা হিসাবে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মাঝে তার জনপ্রিয়তাও রয়েছে। সুতারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন দুইবার। ফলে অভিজ্ঞতার হিসাবে তিনি মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন বেশ ভালভাবেই।

** ২য় পর্বের জন্য অপেক্ষায় থাকুন।

Comments

comments