ইছামতি নদীতে বর্নিল নৌকা বাইচ; চ্যাম্পিয়ন লিটন এক্সপ্রেস, রানার্সআপ শেখবাড়ি

96
ইছামতি নদীতে বর্নিল নৌকা বাইচ

ইছামতি। নদীর বিভিন্ন স্থানে কচুরীপানার স্তুপ। এর মধ্যে আবার পানি কম। তবু জনগণকে বিনোদন দিতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউথ ক্লাব আয়োজন করে বিশাল নৌকা বাইচ।শুক্রবার নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ মোল্লার সার্বিক সহযোগিতা ও পরিচালনায় দুই দিনের এ সমাপনী বাইচে চারটি নৌকা অংশ গ্রহণ করার যোগ্যতা অর্জন করে। এতে আগলার লিটন এক্সপ্রেস চ্যাম্পিয়ন ও খানেপুরের শেখ বাড়ি রানার্স আপ হয়। শ্রীনগর আলমপুরের মামা ভাগিনা তৃতীয় ও খান বাড়ি চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে।
বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে বড় বড় বাইচের নৌকা ও মাঝি-মাল্লার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর ছন্দ মাতিয়ে তোলে ইছামতির দুই তীর। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নারী পুরুষ এ দৃশ্য দেখতে ভিড় করে। শুক্রবার ঢাকার নবাবগঞ্জে ইছামতী নদীতে হয় গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এ নৌ-র‌্যালি। বাইচে দুপুর থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীরা ভিড় করে। আশেপাশ ও দূর-দূরান্ত থেকে নারী পুরুষসহ সব বয়সী মানুষ নৌকা বাইচ দেখতে নদীর তীরে জড়ো হন। বাইচে বিভিন্ন এলাকা থেকে সুসজ্জিত ঘাসী নৌকা অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মাঝির কান্দার খান বাড়ি, শ্রীনগর আলমপুরের মামা ভাগ্নে,আগলার লিটন এক্সপ্রেস, খানেপুরের শেখ বাড়ি নৌকা অংশ গ্রহণ করে । প্রথমে শেখ বাড়ি ও খান বাড়ি টান দেয়। এতে শেখ বাড়ি জয়ী হয়। এরপর শেখ বাড়ি , লিটন এক্সপ্রেস ও মামা ভাগিনার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন টান দেয়। এ পর্যায়ে লিটন এক্সপ্রেস ১ম, শেখ বাড়ি ২য়, মামা ভাগিনা ৩য় স্থান অর্জন করে।
নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা সংগঠনের পক্ষ থেকে দুই দফা দাবির কথা জানান। ১. দ্রুত ইছামতী নদী সচল করতে সোনাবাজু বেড়িবাঁধে প্রয়োজনীয় জলকপাট স্থাপন
২. প্রতিটি জেলা উপজেলায় সরকারীভাবে নৌকা বাইচ আয়োজন করলে নৌকা বাইচ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় নৌকা বাইচ খুব সহসাই বিলুপ্ত ঘটবে।
সূত্র জানায়, ২০১০ সালে এই বাধে পর্যাপ্ত সুইচগেট, ইছামতী নদীর ৭২ কিলোমিটার খনন করার দাবি জানিয়ে স্বারক লিপি দিয়েছি। শুনেছি বেশ কিছু দূর এগিয়েছে। কবে তা আলোর মুখ দেখবে তা কেউ জানেনা। আমরা মাননীয় এমপি সালমান এফ রহমানের হস্তক্ষেপ কমানা করছি। তিনিই পারেন আমাদের এই সমম্যা সমাধান দিতে।
নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, একে অপরে বেশ কয়েকটি টান দিয়েছে। আমরা খুব আননৃদ পেয়েছি। এই ঐতিহ্য টিকে আজীবন।
নৌকাবাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, নবাবাগঞ্জে নৌকাবাইচের ঐতিহ্য প্রায় শত বছরের। এক দশক আগেও ইছামতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পুরো ভাদ্র্র্র্র মাসজুড়ে নৌকাবাইচ হতো। কিন্তু এখন নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকা ও কচুরিপানার কারণে বাইচে ভাটা পড়েছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে কচুরীপানা থাকায় এ বছর নৌকা বাইচ আয়োজন করা গেল না। আর এজন্য দায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০০১ সালে ইছামতী নদীর উৎপত্তিস্থল কাশিয়াখীলীতে বেড়িবাঁধ দেয়া হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের অদক্ষতা ও অপরিপক্কতায় বাঁধের ইছামতী-পদ্মা নদীর সংযোগ স্থলে জলকপাট (স্লুইস গেট) স্থাপন না করে অন্যত্র স্লুইসগেট স্থাপন করা হয়।

অন্য খবর  বেকার সমস্যার সমাধানে দোহারে ‘অর্থনীতি অঞ্চল’ হয়েছে – বিলাশপুরে সালমান রহমান

মন্তব্য