আইসিটি খাতে এবারও কর নয়: সালমান এফ রহমান

22

শরিফ হাসান,সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট,news39.net: আইসিটি খাতে সরকার ঘোষিত কর অব্যাহতি সুবিধা চলমান থাকছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। বেসিসের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমা জানালেন, আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সেই কর সুবিধা প্রত্যাহার করা নাও হতে পারে।

সালমান এফ রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আইসিটি খাতের এই কর অব্যাহতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীও এই সুবিধা আপাতত বহাল রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। আগামী বাজেট উত্থাপনের আগেই ফের বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন তিনি। এর সূত্র ধরেই তিনি আশা করছেন, আইসিটি খাতে কর অব্যাহতি আগামী বাজেটেও বহালই থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে আমি বলেছি, হঠাৎ যদি এটা (কর অব্যাহতি) তুলে দেন, তাদের ব্যবসায় সমস্যা হবে। আপনি আমাদের বলে দেন যে আগামী তিন বছর বা পাঁচ বছর (কর অব্যাহতি সুবিধা) থাকবে। একপর্যায়ে স্বাভাবিক করহার প্রযোজ্য হবে। প্রধানমন্ত্রী তখন আমার সঙ্গে মোটামুটি একমত হয়েছেন। এখন দেখি, বাজেটে কী হবে সেটা নিয়ে আমি আবার উনার সঙ্গে কথা বলব।
আগামী বাজেটে কর অব্যাহতি বহাল রাখার আশাবাদ জানিয়ে সালমান এফ রহমান আরও বলেন, যেহেতু উনি (প্রধানমন্ত্রী) এ কথাটা বলেছেন যে ধীরে ধীরে আইসিটি খাতের কর স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে, তাই আমি আশা করি যে আগামী বাজেটে (২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট) আইসিটি খাতে কর ধার্য করা হবে না। আমি আশা করি, এই বাজেটে একটা পরিকল্পনা দেওয়া হবে যে আইসিটি খাতে দুই বছর বা চার বছর পর কী হবে। আশা করছি আমরা সেই কথাটা বা পরিকল্পনাটা জানতে পারব।

অন্য খবর  ১৫ বছর পর দেশে কেন চাচা: নাজমুল হুদা

সালমান এফ রহমান বলেন, গার্মেন্টস খাতে আমরা অসম্ভব ভালো করেছি। বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ অন্যান্য সংগঠন যেগুলো রয়েছে, তারা অবিশ্বাস্য সাফল্য নিয়ে এসেছে দেশের জন্য। কিন্তু এই খাতের জন্য পরবর্তী পর্যায় কী হবে, সেটা নিয়ে তারা ভাবেনি। আমাদের গার্মেন্টস রফতানির ৯০ শতাংশই কটন, যা বৈশ্বিক পোশাকের বাজারের মাত্র ২০ শতাংশ। বাকি ৮০ শতাংশ বাজার ‘ম্যান মেড ফাইবারে’র। আমরা নিজেদের খাতটিতে খুব ভালো করেছি। কিন্তু ওই খাতেরই বৈশ্বিক বাজারের সবচেয়ে বড় অংশটি নিয়ে চিন্তাই করিনি।

আইসিটি খাতের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতার কথা তুলে ধরেন সালমান এফ রহমান। বলেন, আপনারাও (আইসিটি খাত) যা করছেন, অসাধারণ করছেন। কিন্তু আইসিটি খাতের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, সেদিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, এখন সময়টা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই)। এখন সময় বিগ ডাটার। এসব বিষয়ে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার জন্য কী করতে হবে, সেই পরবর্তী পর্যায়টা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। সেটা আপনাদেরই করতে হবে। আর আপনারা সরকারকে গাইড করবেন যে সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের কী নীতিসহায়তা বা অন্য কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন। সরকার সেভাবে কাজ করতে চেষ্টা করবে।

বেসিসের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আপনাদের অন্য পর্যায়ে (ডিফরেন্ট লেভেল) চিন্তা করতে হবে। ট্যাক্সের জন্য (কর অব্যাহতি) আপনারা লড়াই করবেন, ঠিক আছে। কিন্তু এই খাতের সার্বিক যে চিত্র, সেখানে এটা সামান্য একটি বিষয়। এর চেয়ে বড় বড় সমস্যা এই খাতে আছে। সেই সঙ্গে সুযোগও রয়েছে। সমস্যাগুলো দূর করে সুযোগগুলো কাজে লাগানোর জন্য কী কী করা প্রয়োজন, সেই গাইডেন্সটা আপনাদের দিতে হবে। এই খাতের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে কী কী নীতিসহায়তা প্রয়োজন, সেটা আমাদের বলবেন আপনারা, সরকার সেভাবে আপনাদের সহায়তা দেবে।

অন্য খবর  প্রেসিডেন্ট স্কাউটিং অ্যাওয়ার্ড অর্জন করলো দোহারের তামিম বিন জামান

সালমান এফ রহমান আরও বলেন, এখন চ্যাটজিপিটি নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, চ্যাটজিপিটির আইকিউ লেভেল ১৫০, যেখানে সবচেয়ে প্রতিভাবান হিসেবে স্বীকৃত আইনস্টাইনের আইকিউ লেভেল ১৫৫। বলা হচ্ছিল, চ্যাটজিপিটি তাদের নতুন ভার্সন ৪.০ নিয়ে আসার কথা বলেছিল এই ডিসেম্বরে, যেটা তারা মে মাসে বাজারে নিয়ে এসেছে। এত দ্রুততার সঙ্গে এখন কাজ চলছে। এটা তো প্রাইভেট একটি কোম্পানির কথা বললাম। বিভিন্ন দেশের সরকারগুলো এআই নিয়ে যে কতদূর বা কতটা গবেষণা করছে, কতদূর তারা এগিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণাই আমাদের নেই। বৈশ্বিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের নতুন এই পরিবেশে বেসিসকেও তাদের কাজ ও চিন্তাভাবনা নিয়ে রিফোকাস করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম (টিটু)। সম্মানিত অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. মাহবুবুল আলম।

আপনার মতামত দিন