অবরোধের নতুন সংস্করণ “বাংলা ব্লকেড”! 

17
অবরোধের নতুন সংস্করণ “বাংলা ব্লকেড”!

বাংলাপিডিয়ার  তথ্য মতে ১৯২০ ও ১৯৩০-এর মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে প্রথম অবরোধ বা হরতাল শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে ব্রিটিশ বিরোধী বন্ধ বা ধর্মঘটের ডাক দিয়ে হরতালকে একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের রূপ দেন।
কালের পরিক্রমায় বাংলাদেশে হরতাল জনগণের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনের  একটি পন্থা হয়ে ওঠে ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ব যে সব আন্দোলন হয়েছে যার মধ্যে ভাষা আন্দোলনের সফলতা, ৬৬ এর ছয় দফাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ১৯৬৯ এর অসহযোগ আন্দোলনের সফল করে ৭০ এর নির্বাচনের  অধিকার ফিরে পাওয়া অথবা সর্বোপরি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতার রূপ রেখা অঙ্কিত হয়েছে এসব আন্দোলন হরতালের মাধ্যমে।

তবে স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরবর্তী সময় থেকে বিভিন্ন দাবি আদায় নিয়ে বিভিন্ন সময় আন্দোলন দেখা রাজনৈতিক দল ও  সাধারন মানুষের মধ্যে । যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য  সমস্ত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহনে গনতন্ত্র ফিরে পাবার জন্য  ৯০ এর এরশাধ বিরোধী আন্দোলন, ১৯৯৬ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাওয়ার আন্দোলন, একই ভাবে ২০১৪ সাল থেকে  বিএনপি একই দাবি নিয়ে আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে এখনো আন্দোলনরত, ২০১৩ সালে হেফাজত ইসলামের ১৩ দফা দাবি আদায়ে লং মার্চ অথবা ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে তৈরি গনজাগরন মঞ্চ। রাজনৈতিক দলের এসব আন্দো্লন নদীর মত প্রবাহমান। ভিন্ন ভিন্ন সময় এক এক নামে উপস্থাপিত হয়।

অন্য খবর  চলে গেলেন প্রিয় হায়াত আলী স্যারঃ শূণ্যতা অপরিমেয়

এসব আন্দোলনের সাথে সাথে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের চাকুরির বয়স বৃদ্ধির আন্দোলন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, বা ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নতুন আবরণে আরেক নাম বাংলা ব্লকেড।

কোটা সংস্কার ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের জন্য ২০১৮ সালের সরকারি পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। গত ৫ জুন হাইকোর্ট ২০১৮ সালের পরিপত্রের আংশিক অবৈধ ঘোষণা করার পর আবার এই আন্দোলন শুরু হয়। শনিবার (৬ জুলাই) শাহবাগে ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। তারা রবিবার (৭ জুলাই) সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক আটকে দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া।
২০২৪ সালে এই চলমান আন্দোলনে দেশের মানুষ প্রথমবার এই বাংলা ব্লকেড নামের সাথে পরিচয় হয়, এই বাংলা ব্লকেড সম্পর্কে কোটা আন্দোলনের  প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ হাসান বলেন, ‘বাংলা ব্লকেড মানে হলো, সারা দেশে আমরা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অবরোধ করবো, যাতে কোনও গাড়ি চলতে না পারে। শহরের যান চলাচল (সারা দেশ ব্লক করার জন্য আমরা সম্ভাব্য সব রুট অবরোধ করবো। যদি জানতে পারি কোনও বিকল্প রুটে বাইপাস দিয়ে গাড়ি যাচ্ছে, সেটিও অবরোধ করবো। ’
এই অবরোধ কতক্ষণ পর্যন্ত চলবে, তা সম্পর্কে কোটা আন্দোলনের অন্যতম শারজিস বলেন, ‘এটি আসলে এখন সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। আমরা যত বেশি সময় থাকা যায়, সেই চেষ্টা করবো। সম্ভব হলে আমরা রাত পর্যন্ত অবস্থান করবো। ’

আপনার মতামত দিন