
Tec39 ♦ এক বছরের ব্যবধানে দেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে এক কোটির ও বেশি। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে গ্রাহক বাড়ছে ৫০ হাজারের অধিক। আর এই হিসাব অনুযায়ী দেশে এই মুহূর্তে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা অতিক্রম করেছে নয় কোটির মাইলফলক।
বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের কোনো এক সময়ে মোবাইল গ্রাহকের এই মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বিটিআরসি’র ওয়েবসাইট থেকেও এই তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে নতুন অবয়বে প্রকাশিত দেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি’র ওয়েবসাইটের ‘টেলকো নিউজ’ বিভাগে গত বৃহস্পতিবার দেশের সক্রিয় মোবাইল গ্রাহকদের একটি বার্ষিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের গত ৩১ মার্চ পর্যন্ত গ্রাহক সংখ্যা দাঁড়ায় আট কোটি ৯৪ লাখ ৫৭ হাজার। হিসাব মতে, বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার গ্রাহক বৃদ্ধির পাওয়ায় ১০ এপ্রিলের মধ্যেই গ্রাহক সংখ্যা নয় কোটির মাইলফলক পেরিয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন পরিসংখ্যানবিদরা।
বিটিআরসি প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, কেবল গত মার্চ মাসেই টেলিকম খাতে যুক্ত হয়েছে ১৫ লাখ ৭০ হাজার মোবাইল গ্রাহক। তবে এই সময়ে সিম বিক্রির পরিমাণ আরো বেড়েছে বলে জানা গেছে। আবার টানা তিন মাস ধরে বন্ধ থাকা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় নিয়মে অনেক সিমের হিসাবও এর মধ্যে বাদ পড়েছে। এতসবের পরও বছরের প্রথম তিন মাসে এ বছর যোগ হয়েছে ৪০ লাখ ২০ হাজার গ্রাহক।
প্রকাশিত এই প্রতিবেদন মতে, শেষ হওয়া মার্চ মাসের পর গ্রামীণফোনের গ্রাহক দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ৭৬ লাখ ৩৩ হাজার। দ্বিতীয় সেরা বাংলালিংকের গ্রাহক দুই কোটি ৪৭ লাখ ৪১ হাজার। অন্যদিকে রবি’র গ্রাহক এক কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার; এয়ারটেলের গ্রাহক ৬৩ লাখ ৪৫ হাজার; সিটিসেলের গ্রাহক ১৭ লাখ ৮৬ হাজার এবং টেলিটকের গ্রাহক ১২ লাখ ৮৫ হাজার।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলতি অর্থ বছরের বাজেটে সিম প্রতি ট্যাক্স ৮০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৬০০ টাকায় নির্ধারণ করায় সর্বশেষ তিনটি প্রান্তিকের প্রতিটিতে কমপক্ষে ৪০ লাখ করে গ্রাহক বৃদ্ধি পেয়েছে। হিসাব মতে, গত বছর জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে ৪৪ লাখ ৭৭ হাজার গ্রাহক বাড়ে। পরবর্তি তিন মাসে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫ লাখ ৪৪ হাজারে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের (২০১১ সাল) সেপ্টেম্বরে দেশে মোবাইল গ্রাহক ছিল আট কোটি। একই বছরের জানুয়ারিতে এই সংখ্যা অতিক্রম করে সাত কোটি গ্রাহকের মাইলফলক। আর এর আগের বছর ২০১০ সালে গ্রাহক সংখ্যা পাঁচ কোটির মাইলফলক অতিক্রম করে ছয় কোটি ছাড়িয়ে যায়।