নবাবগঞ্জে ৩০ হাজার গ্রামবাসীর ভরসা একটি বাঁশের সাঁকো

204

শুধু মাত্র ইছামতী নদীর উপর একটা বাঁশের সাঁকোর উপর নির্ভর করে আছে নয়নশ্রী ও বারুয়াখালীর ৩০ হাজার জন সাধারন। ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের তুইতাল আর বারুয়াখালী ইউনিয়নের বকচর গ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে ইছামতি নদী। বর্ষাকালে নৌকা, আর শুষ্ক মৌসুমে নদীর উপর বাঁশের সাঁকোই গ্রামবাসীর ভরসা। স্থানীয় এলাকাবাসীর আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেনি বলে মন্তব্য করেন তাঁরা। দুর্ভোগই যেন তাদের নিয়তি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা ও জানা যায়, জীর্ণ বাঁশের সাঁকোটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সাঁকো দিয়ে মানুষ পারাপার সম্ভব হলেও যানবাহন চলাচল করা সম্ভব নয়। তবুও ব্যবসা-বাণিজ্য, হাট-বাজার, কৃষি কাজের জন্য দু’পারের মানুষ সাঁকো দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। তাইতো বাংলাবাজার হয়ে দাউদপুর দিয়ে ৮ কিলোমিটার ঘুরে যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। সড়কের অবস্থাও নাজুক। ফলে কৃষকের উত্পাদিত পণ্য বাজারজাতকরণে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে কোমলমতি শিশু-কিশোর ও গর্ভবতী এবং বৃদ্ধাদের।

এলাকাবাসী জানান, দু’পারের ১৫ গ্রামের ৩০ হাজার মানুষের ভরসা এই বাঁশের সাঁকোটি। স্থানীয় প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র তুইতাল বাজারে এলাকাবাসীর যাতায়াত প্রতিদিনের। রয়েছে খ্রীস্টান ধর্মপল্লী তুইতাল গির্জা। তাছাড়া বকচর উচ্চ বিদ্যালয়, তুইতাল বালিকা উচ্চ বিদ্যলয়, বকচর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয়, তুইতাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যলয়ের হাজারো শিক্ষার্থী প্রতিদিন এ সেতুদিয়ে চলাচল করে থাকেন। বর্ষাকালে নৌকা পারাপার, আর শুস্ক মৌসুমে এই বাঁশের সাঁকোই তাদের প্রধান বাহন। তার উপর দু’পারের কাঁচা সড়কে পায়ে হেটে চলাচল করেন এলাকাবাসী। তাঁরা বলেন, জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে অনেকেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবুও স্বাধীনতার ৪৬ বছরেও একটি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয়নি কেউ।

অন্য খবর  নবাবগঞ্জে সাদাপুর সেতুর জরাজীর্ণ অবস্থা

তুইতাল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সিস্টার রিনা কিস্টেল বলেন, মেয়েরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়। তাই অনেকে সাঁকো পারাপারের ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না। ছাত্রীদের বেশি কষ্ট হয় বৃষ্টির দিনে। এই সময় পা পিছলে নিচে পরে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে অনেক। স্থানীয়দের জন্য সেতুটি অত্যন্ত জরুরি। অতিসত্বর সেতু নিমার্ণের দাবি জানান তিনি।

নয়নশ্রী ইউপি চেয়ারম্যান রিপন মোল্লা বলেন, এলাকাবাসীর সেতুর দাবি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলমান বলে জেনেছি। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাহ্জাহান বলেন, বিষয়টি জানা রয়েছে। সেতুর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া উচ্চ পর্যায়ে পাঠানো হয়েছে।

Comments

comments