রোজা অবস্থায় রক্ত দিলে কি রোজা নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

রোজা ভঙ্গের কারণ হচ্ছে স্বাভাবিক প্রবেশ পথ দিয়ে শরীরে কোনো কিছু প্রবেশ করা। শরীর থেকে কোন কিছু বের হলে রোজা ভঙ্গ হয় না। তাই রক্ত দিলে রোজা ভঙ্গ হবে না।

কেননা, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রোজা রেখে সিঙ্গা লাগিয়েছেন। তা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

সিঙ্গার মাধ্যমে শরীরের বিষাক্ত রক্ত বের করা হয়। তাই রোজা রেখে নিজের টেস্ট/পরীক্ষার জন্য কিংবা কোনো রোগীকে দেওয়ার জন্য রক্ত দিলে, রোজার কোন ক্ষতি হবে না। তবে রক্ত দিতে গিয়ে দুর্বল হয়ে রোজা ভেঙ্গে ফেলার আশঙ্কা থাকলে, সে অবস্থায় রক্ত দেওয়া মাকরুহ হবে।

সাবিত আল-বুনানি (রহ.) বলেন- আনাস ইবনে মালিক (রা.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে যে, রোজাদারের জন্য শরীর থেকে শিঙ্গা লাগিয়ে রক্ত বের করাকে কি আপনি অপছন্দ করেন? জবাবে তিনি বলেন- না, আমি অপছন্দ করি না। তবে দুর্বল হয়ে পড়ার ভয় থাকলে ভিন্ন কথা। (বুখারি, হাদিস : ০১/২৬০)

তাই দুর্বল লোকদের জন্য রোজা অবস্থায় অন্য রোগীকে রক্ত দেওয়া ঠিক নয়। আর এমন সবল ব্যক্তি যে রোজা অবস্থায় অন্যকে রক্ত দিলে রোজা রাখা তার জন্য কষ্টকর হবে না সে রক্ত দিতে পারবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

তথ্যসূত্র: বোখারী শরিফ, হাদিস নং-১৯৩৮, মুসলিম শরিফ, হাদিস নং-১১০৬,আবু দাউদ শরিফ, হাদিস নং-২৩৭২

বৈজ্ঞানিক দিক থেকে কোনও ব্যাখ্যা রয়েছে কিরক্তদান একটি নিরাপদ ও মানবিক কাজ, তবে এটি করার জন্য শরীরকে প্রস্তুত রাখা জরুরি। রমজানে রক্তদানের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা উচিত: ১. রক্তদানের সময়: সেহরির পর বা ইফতারের ২-৩ ঘণ্টা পর রক্তদান করা উত্তম। কারণ, ইফতারের পর শরীরে পানিশূন্যতা কমে আসে এবং শরীর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। ২. পর্যাপ্ত পানি পান: রক্তদানের আগে ও পরে শরীরে পানিশূন্যতা রোধের জন্য ইফতার ও সেহরিতে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করা জরুরি। ৩. পুষ্টিকর খাবার: রক্তদানের পর শক্তি ফিরে পেতে প্রোটিন ও আয়রন সমৃদ্ধ খাবার যেমন খেজুর, দুধ, ডিম, মাছ ও শাকসবজি খাওয়া প্রয়োজন। ৪. শরীরের অবস্থান: রক্তদানের পর কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া উচিত যাতে মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভব না হয়।

রক্তদাতাদের বিষয়ে রোগীর স্বজনদের কি করনীয়রমজানে রক্তদাতার সংখ্যা কমে যায়, ফলে রোগীদের জন্য রক্ত সংগ্রহ করা কষ্টকর হয়ে ওঠে। তাই রোগীর স্বজনদের উচিত: • রক্তদাতাদের যথাযথ সম্মান জানানো এবং তাদের জন্য উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা। • ইফতারের পর বা রাতের সময়ে রক্তদানের জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের উৎসাহিত করা। • হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রক্ত সংগ্রহ করা।

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তা বদলি

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। ‎মঙ্গলবার...

বিদ্যুতের দাম বাড়ল প্রায় ২০ শতাংশ

এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম ১ দশমিক ৫০ টাকা...

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের মিতসুই প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সচিবালয়ে সাক্ষাৎ করেন জাপানের মিতসুই অ্যান্ড কোম্পনির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের সিইও মাকাতো সাতো। প্রধানমন্ত্রী তারেক...

ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় ও চিকিৎসকের ফি মওকুফের নির্দেশ

ডেঙ্গু চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ সিট ফাঁকা রাখা এবং টেস্টে ৮০ শতাংশ...