চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েল ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা এবং প্রতিবেশী লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। দুই ফ্রন্টে এই আগ্রাসন মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করেছে।
গাজায় গতকাল হামলায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৭৭ জন। আল-মাওয়াসি, শুজাইয়া ও জয়তুন এলাকায় পাঁচটি লক্ষ্যবস্তুতে বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। আলজাজিরার প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানান, আল-মাওয়াসির একটি ভবনে একই পরিবারের বাবা, মা ও তিন সন্তানসহ পুরো পরিবারই ধ্বংসস্তূপে প্রাণ হারিয়েছে। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি চললেও বাস্তবে প্রতিদিনই গাজায় মৃত্যু ঝরছে আইডিএফের হামলায়।”
অপরদিকে আইডিএফ দাবি করেছে, সব হামলাই যুদ্ধবিরতির শর্তের আওতায় পরিচালিত হয়েছে এবং লক্ষ্যবস্তু ছিল হামাসের সামরিক অবকাঠামো। তবে হামাস এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, “এটি স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং নেতানিয়াহুর নতুন গণহত্যা শুরু করার চেষ্টা।”
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ১০ অক্টোবর থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর। আলজাজিরার হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মাত্র ৪০ দিনে ৩৯৩ বার যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এদিকে একই দিনে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের দেঈর কিফা ও চেহোর গ্রামে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলার আগেই হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হবে বলে সতর্কতা দেওয়া হয়। তবে বাস্তবে হিজবুল্লাহর কোনো স্থাপনা সেখানে ছিল কি না—সে নিয়ে প্রশ্ন তুলছে স্থানীয় সূত্রগুলো।
এর আগে রোববার লেবাননে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর গুলি চালায় ইসরায়েলি সেনারা। জাতিসংঘ এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছে। যদিও ২০২৩ সালের শেষ দিকে ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তবুও লেবাননে ইসরায়েলের হামলা থামছে না।
গাজা ও লেবানন—দুই ফ্রন্টে ইসরায়েলের এই তৎপরতায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এমন হামলা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করতে পারে এবং বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
