নেইমার ফিরছেন সতীর্থ গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির কথায় এমন ইঙ্গিত মিলতেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে ব্রাজিলিয়ান সমর্থকরা। টুর্নামেন্টে সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় তারকার প্রত্যাবর্তন এখন অন্যতম আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। চোটের কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচ মিস করেছেন নেইমার; তাকে ছাড়াই মাঠে নেমেছে ব্রাজিল। তবে আক্রমণভাগে সেই পুরনো ধার এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি।
রিপোর্ট অনুযায়ী, তৃতীয় ম্যাচে তাকে ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। আর রাফিনিয়ার ইনজুরি সেই সম্ভাবনাকে আরো জোরালো করেছে। তাইতো প্রতিপক্ষ শিবিরেও বাড়ছে সতর্কতা। স্কটল্যান্ড কোচ স্টিভ ক্লার্ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, নেইমার এমন একজন সুপারস্টার, যিনি বেঞ্চ থেকে নেমেও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
নেইমারকে ঘিরে যখন আলাদা পরিকল্পনা করছে প্রতিপক্ষ, তখন নিজেদের কৌশলে পরিবর্তন এনেছে ব্রাজিলও। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘ইউওএল’-এর (UOL) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোচ কার্লো আনচেলত্তি এবার নেইমারকে আগের মতো প্রথাগত উইঙ্গার হিসেবে ভাবছেন না; বরং তাকে আক্রমণভাগের কেন্দ্রে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন। অনুশীলনে তাকে কখনো ‘ফলস নাইন’, আবার কখনো ‘অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার’-এর ভূমিকায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, নেইমার এখন শুধু ফিনিশার নন, বরং আক্রমণ গঠনের মূল প্লেমেকার।
আনচেলত্তির এই সিদ্ধান্তের পেছনে আছে বাস্তবতা। বয়স ও ইনজুরির কারণে আগের মতো গতি না থাকলেও নেইমারের পাসিং ভিশন, বল কন্ট্রোল এবং ম্যাচ রিডিং এখনো বিশ্বমানের। তাই তাকে মাঠের মাঝের জোনে এনে খেলা গড়ার দায়িত্ব দিতে চাইছে ব্রাজিল। এই ভূমিকায় ভিনিসিউস জুনিয়রের মতো দ্রুতগতির উইঙ্গারের জন্য জায়গা তৈরি করাই হবে নেইমারের প্রধান কাজ।
রাফিনিয়ার ইনজুরি এই সমীকরণকে আরো সহজ করেছে ব্রাজিলের জন্য। তবে শুরু থেকেই তাকে খেলানোর পরিকল্পনা নেই কোচিং স্টাফের। ধীরে ধীরে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে দেওয়া হতে পারে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের গেম টাইম। ১৭ মে-র পর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ না খেলা নেইমারের জন্য এই প্রত্যাবর্তন সহজ হবে না। বিশেষ করে, বিশ্বকাপের মতো উচ্চচাপের ম্যাচে তার শরীর কীভাবে সাড়া দেয় সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
