স্টাফ রিপোটারঃ মোঃ আল-আমিন: ঢাকার দোহার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর জয়পাড়া চৌধুরীপাড়া এলাকায় সরকারি রাস্তার প্রায় ৪ ফুট জায়গা দখল করে পুনরায় একটি বাড়ির সিঁড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশে একবার সিঁড়ি অপসারণ করা হলেও একই স্থানে আবারও অবৈধভাবে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তার প্রায় ৪ ফুট অংশ দখল করে মরহুম হোসেন আলীর পরিবারের সদস্যরা বাড়ির সিঁড়ি নির্মাণ করেছেন। এতে রাস্তা সংকুচিত হয়ে পথচারী, নারী, শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি রিকশা, ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
এ বিষয়ে গত বছর আব্দুর রহমানসহ স্থানীয় বাসিন্দারা দোহার পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর তৎকালীন পৌর প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিঁড়ি অপসারণের নির্দেশ দেন। পরে সিঁড়িটি ভেঙে ফেলা হলেও সম্প্রতি আবারও সরকারি রাস্তার ওপর নতুন করে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন,
“এ বিষয়টি নিয়ে আমরা এলাকাবাসীর কয়েকজন মিলে অবৈধ সিঁড়িটি ভাঙতে গেলে বাড়ির মালিক পক্ষই পরে সেটি ভেঙে দেয়। এর আগে ইউএনও মহোদয়ও এসে সিঁড়ি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনার পর তারা সিঁড়ি ভেঙে ফেলে। কিন্তু গত শুক্রবার ছুটির দিনে আবার সরকারি রাস্তার ওপর অবৈধভাবে সিঁড়ি নির্মাণ করেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক বলেন,
“রাস্তার মধ্যে সিঁড়ি থাকলে মানুষের চলাচলে সমস্যা হয়। তাই সবার স্বার্থে সিঁড়িটি ভেঙে দেওয়া উচিত।”
স্থানীয় বাসিন্দা বাছের উদ্দিন বলেন,
“রাস্তার ওপর সিঁড়ি নির্মাণ করায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে দাবি, দ্রুত সিঁড়িটি অপসারণ করা হোক এবং ভবিষ্যতে যেন আবার এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করতে না পারে, সে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াদ হোসেন বলেন,
“১২ ফুট রাস্তার মধ্যে সিঁড়ি নির্মাণ করায় রাস্তা অনেক সরু হয়ে গেছে। গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে, দুটি গাড়ি পাশাপাশি যেতে পারে না। একবার ভেঙে দেওয়ার পরও আবার সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।”
আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন,
“এটি একটি সরকারি রাস্তা। ভবন নির্মাণের সময় রাস্তা থেকে যে পরিমাণ জায়গা ছেড়ে নির্মাণ করার কথা ছিল, তা মানা হয়নি। বরং সিঁড়ি নির্মাণ করে সরকারি রাস্তা দখল করা হয়েছে। এর আগে ইউএনও এসে সিঁড়ি অপসারণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। পরে তারা সিঁড়ি ভেঙে ফেললেও কয়েকদিন আগে আবার নতুন করে নির্মাণ করেছে। এতে জনগণের চলাচলে চরম ভোগান্তি হচ্ছে। আমরা চাই, সরকারি রাস্তার ওপর কোনো অবৈধ স্থাপনা না থাকুক এবং প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক।”
অভিযোগের বিষয়ে আছমা বেগম বলেন,
“রাস্তা বড় হলে আমি জায়গা ছেড়ে দেব। আমার মেয়েটি পড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তার জন্য ছোট করে সিঁড়ি দিয়েছি। আগের সিঁড়ি ভেঙে দেওয়ার পর আমার ওঠানামায় খুব কষ্ট হয়েছে। এর আগেও রাস্তার ওপর দুটি সিঁড়ি ছিল, তখনও গাড়ি চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি।”
প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,
“লিখিত বা মৌখিক কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। পৌরসভার লোক এসে সিঁড়ি ভাঙেনি। আমার ভাই নিজেই ভেঙে দিয়েছিল। পরে চলাচলের সুবিধার জন্য আবার দেড় হাতের মতো সিঁড়ি তৈরি করেছি।”
এ বিষয়ে দোহার পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মামুনুর রশিদ বলেন,
“সিঁড়িটি অনেক আগেই ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। পৌরসভার লোকজন উপস্থিত থেকে সেটি অপসারণ করেছে। আবার রাস্তা দখল করে নতুন করে সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে—এ বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। আমরা দ্রুত লোক পাঠিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে পুনরায় সরকারি রাস্তার ওপর স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, যা জনসাধারণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত অবৈধ সিঁড়ি অপসারণ, সরকারি রাস্তা দখলমুক্ত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে একই ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
দোহারে সরকারি রাস্তা দখল করে পুনরায় সিঁড়ি নির্মাণের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
প্রকাশ:
শেয়ার করুন:
আপনার মতামত দিন
