ছয় বছরের ওসামা আল-রাকাব এখন খুবই দুর্বল। তার গাল বসে গেছে, শরীরের হাড় দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে তার একটা ছবি ছিল, যেখানে সে হাসছিল। এখন তাকে দেখে চিনতেই কষ্ট হয়।
“সে এক সময় খুবই প্রাণবন্ত ছিল, হাসিখুশি ছিল,” ওসামার খালা, নুর সামির আল-রাকাব, রবিবার দক্ষিণ গাজার বানি সুহেলাতে আমেরিকার এনবিসি নিউজের কর্মীদের বলেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক মাস আগে তোলা ছবিটি ওসামার মুখের পাশে ধরে বলেন, “এখন সে যেন এক কঙ্কাল।”
ওসামার দাদি উম আহমেদ আল-রাকাব ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে তার নাতিকে চিকিৎসার জন্য গাজা থেকে সরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। ওসামা সিস্টিক ফাইব্রোসিসে ভুগছিল, এই রোগে আক্রান্তরা ওজন হারাতে থাকে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সে তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।
তিনি বলেন, “যদি এইভাবে থাকে, সে বাঁচবে না।”
গাজার অসংখ্য শিশুর মতোই ওসামাও এখন বাঁচার জন্য লড়াই করছে। প্রায় দেড় মাস ধরে গাজায় কোনো ত্রাণ বা খাবার ঢুকছে না। এটা যুদ্ধ শুরুর পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ত্রাণ বন্ধ থাকার ঘটনা।
গাজায় আমরা এমন যুদ্ধ-অপরাধ প্রত্যক্ষ করছি, যেখানে মানবজীবনের প্রতি কোনো সম্মান নেই,” জাতিসংঘ সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচিসহ বিভিন্ন মানবিক ও স্বাস্থ্য সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে একথা জানায় ।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় অফিস (OCHA) তাদের সর্বশেষ আপডেটে জানিয়েছে, মার্চ মাসে ইসরায়েল অবরোধ আরোপ করার পর থেকে কোনো ত্রাণ ঢুকতে পারে নি। এর ফলে অপুষ্টি ও প্রতিরোধযোগ্য রোগ বাড়ছে, এতে শিশুদের মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ছে। ওষুধও দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে।
যদিও আন্তর্জাতিক চাপ ও সমালোচনার মুখে ইসরায়েল বলেছে যে গাজায় “মানবিক ত্রাণের কোনো ঘাটতি নেই,” কারণ যুদ্ধবিরতির সময় তারা হাজার হাজার ট্রাক ত্রাণ প্রবেশ করতে দিয়েছিল বলে দাবী করে। এনবিসি নিউজ এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে ইসরায়েলের সামরিক সংস্থা COGAT ইসরায়েলি কতৃপক্ষের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন মিলেকোস্কির (নেতানিয়াহু) দপ্তরে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সেখান থেকে কেউ উত্তর দেয়নি।
খান ইউনিসে এনবিসি নিউজ দেখেছে, শিশুরা খালি হাঁড়ি-পাতিল হাতে একটি রান্নাঘরের চারপাশে ভিড় করছে।
যদি আমি খাবার না পাই, আমরা খেতে পারব না,” বলছিল এক ছোট মেয়ে, বারা আবু মুসা। “আমাদের বাসায় কিছুই নেই।”
এক ছোট মেয়ে বারা আবু মুসা, যখন তাকে ভিড় থেকে ঠেলে বের করে দেওয়া হয় সে বলে, “যদি খাবার না পাই, আমরা খেতে পারব না। বাসায় কিছুই নেই।”
চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর, বারা তার পরিবারকে খাওয়ানোর জন্য এক মুঠো ভাত পায়।
১৮ মার্চ ইজরায়েল যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা শুরু করে, কার্যত কোনো প্রতিরোধ না আসার পরও ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের একটি মিলিটারি অভিযানের পর পাল্টা অভিযানে ইসরায়েলের হামলায় গাজার এখন পর্যন্ত ৫১,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে—তাদের অনেকেই নারী ও শিশু। গাজার বেশিরভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। এখনও সেখানে জীবিত ও মৃত মিলিয়ে ৫০ জনেরও বেশি ইসরায়েলি বন্দী রয়েছে।
