বৃক্ষ ও কলম দিয়ে ইছামতীর নবীনবরণ  

ইছামতি সংগঠনের উদ্যোগে অত্যন্ত সুন্দর ও সফলভাবে নবীনবরণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। নবীন সদস্যদের পরিবেশবান্ধব ফলজ বৃক্ষ ও কলম উপহার দিয়ে তাদের বরণ করে নেওয়া হয়, যা সংগঠনের এক অনন্য উদ্যোগ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে। নবীনদের এই উপহারের মাধ্যমে তাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতার বোধ ও প্রকৃতি রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ইছামতির সভাপতি আসিফ আকাশ রর্বাটের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈমের সঞ্চালনায় বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন কলাকোপা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মি. বাবু লাল মোদক, ইউনিয়ন সচিব আজিজুর রহমান, সংগঠনের সিনেট সদস্য রিফাত কাজী, মাসুম বিন মোশারফ, মো. ফয়সাল, তুষার আহম্মেদ, সিনিয়র সদস্য শুভাশিষ গোস্বামী, ইফতি রহমান সজল, মো. রাকিব হোসেন, মো. মনিরসহ আরও অনেকেই।

ইছামতির সভাপতি আসিফ আকাশ রর্বাট তার বক্তব্যে নবীন সদস্যদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আজকের এই নবীনবরণ অনুষ্ঠান শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি আমাদের দায়িত্ববোধ ও বন্ধুত্বের প্রতীক। পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বকে মাথায় রেখে আমরা আজ নবীনদের হাতে বৃক্ষ তুলে দিয়েছি। এই বৃক্ষ শুধু তাদের হাতে দেওয়া একটি উপহার নয়, এটি তাদের কাছে আমাদের আস্থা ও ভবিষ্যতের আশা। আমরা বিশ্বাস করি, নবীনরা এই সংগঠনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তাদের মাধ্যমে আমাদের সমাজ আরও সমৃদ্ধ হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ইছামতি সবসময় সমাজ ও পরিবেশের উন্নয়নে কাজ করে আসছে, এবং ভবিষ্যতেও আমরা এই ধারা অব্যাহত রাখব। আমি নবীনদের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে একযোগে কাজ করে।”

অনুষ্ঠানে যারা ইছামতির পক্ষ থেকে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের বিশেষ সম্মাননা স্বরূপ সনদ প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগটি ইছামতির সামাজিক দায়িত্বশীলতা ও সেবামূলক কার্যক্রমকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। অনুষ্ঠান শেষে নবীনদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও ভালোবাসা জানানো হয়, এবং ইছামতির অগ্রযাত্রাকে সমুন্নত রাখার জন্য তাদের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়।

দোহার উপজেলার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল

HSC Result Analysis-2024

পদ্মা সরকারি কলেজ 

বিভাগ মোট পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত উপস্থিত পাস অনুপস্থিতি ছাড়া ফেল পাসের হার জিপিএ ৫
ব্যবসায় ১৭৬ ১৭৬ ১২৬ ৫০ ৭১.৫৯%
মানবিক ৩১৯ ৩১৭ ১৯১ ১২৬ ৬০.২৫%
বিজ্ঞান ৫৭ ৫৫ ৪৬ ৮৩.৬৪%
মোট ৫৫২ ৫৪৮ ৩৬৩ ১৮৫ ৬৬.২৪%

 

মালিকান্দা স্কুল অ্যান্ড কলেজ

বিভাগ মোট পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত উপস্থিত পাস অনুপস্থিতি ছাড়া ফেল পাসের হার জিপিএ- ৫
ব্যবসায় ৬০ ৬০ ৪৬ ১৪ ৭৬.৬৭%
মানবিক ১৫০ ১৫০ ৯৬ ৫৪ ৬৪.০০%
বিজ্ঞান ১৯ ১৯ ১৬ ৮৪.২১%
মোট ২২৯ ২২৯ ১৫৮ ৭১ ৬৯.০০% ১১

 

জয়পাড়া কলেজ

বিভাগ মোট পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত উপস্থিত পাস অনুপস্থিতি ছাড়া ফেল পাসের হার জিপিএ- ৫
ব্যবসায় ২৬৫ ২৬২ ১৩৬ ১২৬ ৫১.৯১%
মানবিক ৩৫৭ ৩৫৭ ১৫৬ ২০১ ৪৩.৭০%
বিজ্ঞান ১৭ ১৬ ১০ ৩৭.৫০%
মোট ৬৩৯ ৬৩৫ ২৯৮ ৩৩৭ ৪৬.৯৩%

 

বেগম আয়েশা পাইলট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ

বিভাগ মোট পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত উপস্থিত পাস অনুপস্থিতি ছাড়া ফেল পাসের হার জিপিএ- ৫
ব্যবসায় ৩১ ৩১ ১৭ ১৪ ৫৪.৮৪%
মানবিক ৯১ ৯১ ৪২ ৪৯ ৪৬.১৫%
মোট ১২২ ১২২ ৫৯ ৬৩ ৪৮.৩৬%

 

কোঠাবাড়ী কলেজ

বিভাগ মোট পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত উপস্থিত পাস অনুপস্থিতি ছাড়া ফেল পাসের হার জিপিএ- ৫
ব্যবসায় ১০০.০০% 0
মানবিক ১১ ১১ ১০ ৯.০৯% 0
বিজ্ঞান ১০০.০০% 0
মোট ১৩ ১৩ ১০ ২৩.০৮% 0

দোহারে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

ঢাকার দোহার উপজেলায় মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৪ উপলক্ষে জনসচেতনামূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কুতুবপুর নৌ-পুলিশের বাস্তবায়নে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মৈনটঘাট এলাকায় নদীর পারে জেলেদের নিয়ে এ জনসচেতনামূলক মতবিনিময় সভা করা হয়।কুতুবপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ নুরুল আলমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা অঞ্চলের নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মো. দিলওয়ার হাসান ইনাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা অঞ্চলের নৌ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মো. দিলওয়ার হাসান ইনাম বলেন, ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। একে রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের সকলের। নির্দিষ্ট সময়ে ইলিশের বংশ বিস্তারের জন্য ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মা ইলিশ শিকার করলে পরবর্তী সময়ে ইলিশের সংকট দেখা দিবে। তাই অভিযান চলাকালীন সময়ে জেলেদের নৌকাসহ ঘাটে আটকে রাখতে হবে। যাতে তারা নদীতে না নামতে পারে। প্রয়োজনে ঘাটগুলোতে পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এর সুফল আমাদের জেলেরাই ভোগ করবে। তাই নির্ধারিত সময়ে আইন মান্য করে সকলকে মা ইলিশ শিকার থেকে বিরত থাকতে সকলকে আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দোহার উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল আলম, উপজেলা জাতীয়বাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রমজান মোল্লা, সিনিয়র সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান তপন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম হালদার, মাহমুদপুর ইউপি সদস্য আবুল কাসেম, কুতুবপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই নাজমুল হোসেন, এসআই শহীদুল ইসলাম, সুতারপাড়া ইউনিয়নের মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আলমগীর হোসেন, বিভিন্ন দপ্তররের কর্মকর্তা ও ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় জেলে এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।এবছর ১৩ অক্টোবর থেকে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মৎস্য শিকার বন্ধ থাকবে।

দুর্গাপূজায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্রদের সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা

মো.আল-আমিন: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী দোহার উপজেলার প্রতিনিধিরা নিউজ৩৯কে জানিয়েছেন, দুর্গাপূজায় নিরাপত্তাসহ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সকল প্রকার সহযোগিতা নিয়ে পাশে থাকবে তারা।

তারা বলেন, আমরা কাজ করছি মণ্ডপে ও পূজা পালনে, দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিত করার জন্য। ইত:মধ্যে বুধবার দুপুর দুইটা থেকে শুরু হয়েছে জয়পাড়া বাজারের যানবাহন যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ।  বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন-দোহার উপজেলার সবাই  একযুগে কাজ করছেন। এই কার্যক্রম পূজা চলাকালীন সম্পূর্ণ সময় চলতে থাকবে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে আজকে পদ্মা সরকারি কলেজ রোভার স্কাউটের সদস্যরাও স্বেচ্ছাশ্রম দিয়েছেন।

ছবিঃ সংগৃহীত

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহিদুল ইসলাম, আদর ইসলাম, মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, আরমান হোসেন সেতু, সোহেল হোসেন, শিহাব আহমেদ, শাহাদাৎ হোসেন, রাসেল হোসেন, নুরুল ইসলাম রিজভী প্রমুখ।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ” আমরা ছিলাম, আছি, থাকবো ইনশাআল্লাহ। কোন অপশক্তি যদি কোনভাবে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করে তাদের সেই কালো হাত খুবই কঠিনভাবে ভেঙে দেওয়া হবে। বাংলাদেশ মুসলমানদের, হিন্দুদের, বৌদ্ধ – খ্রিস্টান ও অন্যান্য সকল নৃগোষ্ঠীদের। এখানে সবাই সবার ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করবেন এবং আমরা তাদের নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো ইনশাআল্লাহ। “

দুর্গাপূজা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকবে ব্যাংক

দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) দেশব্যাপী সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে সমুদ্র, স্থল, বিমানবন্দর এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাংক খোলা রাখা হবে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ থেকে এ সম্পর্কিত সার্কুলার জারি করে বিভিন্ন ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় নির্বাহী আদেশে ১০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১০ অক্টোবর বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। তবে সমুদ্র, স্থল, বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখা, উপশাখা ও বুথ বিশেষ ব্যবস্থায় সার্বক্ষণিকভাবে খোলা থাকবে।

নবাবগঞ্জে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১

ঢাকার নববাবগঞ্জে ১১ বছরের এক শিশুকে জোরপূর্বক ধর্ষনের অভিযোগে শফিকুল ইসলাম নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃত শফিকুল সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার শিমলা গ্রামের আব্দুস সাত্তার প্রমানিকের ছেলে। সে দীর্ঘদিন যাবত নবাবগঞ্জের চুড়াইন এলাকায় বিভিন্ন বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতো বলে জানায় পুলিশ।

এ ঘটনায় শিশুটির চাচী বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে বিস্কুট ও খেলনা কিনে দেয়ার প্রলোভণ দেখিয়ে অভিযুক্ত শফিকুল শিশুটিকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এতে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চাচীর কাছে ধর্ষিত হওয়ার কথা স্বীকার করে। পরে শিশুটির চাচা ও স্থানীয়রা অভিযুক্ত শফিকুলকে আটক করে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেন।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম জানান, আসামিকে শনিবার দুপুরে  আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিক্টিম শিশুটিকে স্বাস্থ্য পরিক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

সবাই মিলে সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে হবে: অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম

ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ পেয়েছি। ধর্মীয় বিভেদ, বর্ণ ও শ্রেণিবৈষম্য ভুলে সবাই মিলে একটি সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে হবে। তবেই শহিদ ছাত্র-জনতার আত্মা শান্তি পাবে। বাংলাদেশ হবে বিশ্বে গণতন্ত্র, শান্তি ও উন্নয়নের মডেল। শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বর্ধনপাড়া কার্যালয়ে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান, সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম দলীয় নেতাকর্মী ও সনাতন ধর্মালম্বীদের উদ্দেশে একথা বলেন। এ সময় তিনি দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার ২২১টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে প্রতিটি মন্দিরের জন্য ব্যক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করেন।

ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম পূজারিদের উদ্দেশে বলেন, অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তিতে দলমত নির্বিশেষে দুর্গোৎসব পালন করুন। হিন্দু সম্প্রদায়ের এ উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করতে সব রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দোহার-নবাবগঞ্জ। এ ধারা অক্ষুণ্ন রাখতে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। এ সময় তিনি দুর্গাপূজা পালনে নিজ নিজ ইউনিয়নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জাতীয় পার্টির কর্মীদের নিরাপত্তা প্রহরী হিসাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সালমা ইসলাম দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টান সবাই এ মাটির সন্তান। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার-এ কথাটি আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে দুর্গাপূজায় নবাবগঞ্জ-দোহারের প্রতিটি মন্দিরে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা পাহারা দেবে। যাতে কোনো দেশবিরোধী চক্র অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারে। যাতে আমাদের বদনাম না হয়। সাবেক প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সুনাম ও মর্যাদা রক্ষায় জাতীয় পার্টি ছাত্র-জনতার পাশে থেকে দেশের জন্য কাজ করে যাবে। তিনি বলেন, বিগত সময়ে আমি আপনাদের এমপি (সংসদ-সদস্য) হিসাবে দোহার-নবাবগঞ্জে বিদ্যুতায়ন, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, স্কুল-কলেজের সরকারিকরণসহ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যাপক কাজ করেছি। কিন্তু আমার এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করতে আমাকে এমপি নির্বাচিত হতে দেওয়া হয়নি। ফলে গত ৫ থেকে ৭ বছর এখানে কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়ন হয়েছিল সালমান এফ রহমান ও তার সহযোগীদের। আপনারা জানেন, সালমান এফ রহমান ও তার দোসররা জনগণের সম্পদ লুণ্ঠন করেছে। তারা ব্যাংকসহ দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। শেয়ার বাজার লুণ্ঠন করে জনগণের স্বপ্নকে মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছিল। এসব গণবিরোধীদের আমাদের বর্জন করতে হবে। কোনোভাবেই ব্যাংক লুটকারীদের আর এই দেশে সুযোগ দেওয়া যাবে না। যারা গরিবের রক্ত চুষে নিয়ে দেশের বাইরে অর্থ পাচার করে তাদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। সালমা ইসলাম বলেন, প্রিয় দোহার-নবাবগঞ্জবাসী, আজ আপনাদের প্রিয় মানুষ যমুনা গ্রুপের স্বপ্নদ্রষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম আপনাদের মাঝে নেই। তার রেখে যাওয়া আদর্শকে ধারণ করে আমি ও আমার ছেলেমেয়েরা আপনাদের পাশে ছিলাম ও এখনো আছি। কোনো অন্যায়ের কাছে বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম মাথানত করেননি। তার দেখানো পথ ধরে আপনাদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আপনাদের সেবা করতে, আপনাদের সঙ্গে থাকতে চাই। আপনারা জানেন, বিগত দিনে আমি আপনাদের ভোটে এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর পদ্মা নদীর বাম তীরের ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধের ব্যবস্থা করেছি, ইছামতি ও কালীগঙ্গা নদীতে একাধিক সেতু নির্মাণ করে দিয়েছি, আগামী দিনেও আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের জন্য উন্নয়ন কাজ করতে চাই। আপনারা ভালো থাকবেন। সবাইকে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তৃতা শেষ করেন দোহার-নবাবগঞ্জের সাবেক সংসদ-সদস্য সালমা ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জুয়েল আহমেদ, সহসভাপতি আসাদুর রহমান রানা, রিপন মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন, উপদেষ্টা টিপু মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, জাতীয় পার্টির নেতা মো. ওয়াসিম, আক্তার মেম্বার, নকুল কুমার সরকার, মো. সাহেদ ভূঁইয়া, আব্দুল আজিজ, গ্যাবরিয়েল গমেজ, চুন্নু, নারায়ণ, কেরামত মাদবর, আরশেদ আলী, মহিলা পার্টির নেত্রী নবনীতা আহমেদ রিনা, নবাবগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতা শ্রীকৃষ্ণ সাহা, শুভ্র তালুকদার, বিনয় কুমার সরকার, দোহার উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক রিপন রাজবংশী, দোহার উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হায়দার বেপারী, সাধারণ সম্পাদক জানে আলম, ঢাকা জেলা জাতীয় পার্টির নেতা ডা. আলাউদ্দিন আল আজাদসহ দুই উপজেলার জাতীয় পার্টি, ছাত্র সমাজ, মহিলা পার্টি, কৃষক পার্টি, যুব সংহতি ও স্বেচ্ছাসেবক পার্টির জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা।

‘সিন্ডিকেট না থাকলে ২-৩ লাখ টাকায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক যাবে’

সিন্ডিকেট না করলে দুই থেকে তিন লাখ টাকায় মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো সম্ভব বলে জানিয়েছে, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) সিনিয়র সদস্য বিএনপি নেতা খন্দকার আবু আশফাক।

বৃহস্পতিবার (০৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণে সিন্ডিকেট চক্রের পুনরায় তৎপরতা বন্ধে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।

বায়রার এই সিনিয়র সদস্য সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বায়রা একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। আমি ব্যবসায়ী হিসেবে এখানে এসেছি। আমি বলব, বায়রায় কোনো সিন্ডিকেট থাকবে না। যদি কোনো সিন্ডিকেট থাকে আমরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেব। সিন্ডিকেট না থাকলে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে খরচ হবে দুই থেকে তিন লাখ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বায়রার মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠাতে সিন্ডিকেট সৃষ্টি করা হয়। যার মূলহোতা ছিলেন বায়রার সাবেক সভাপতি রুহুল আমীন ও কাজী মফিজুর রহমান। এই হোতাদের সহযোগিতা করতেন তখন মন্ত্রী আওয়ামী লীগের নেতারা। তারা বায়রাকে একটি দলীয় সংগঠন হিসেবে ব্যবহার করতেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, সিন্ডিকেটে রহুল আমীনের সঙ্গে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক এমপি নিজাম হাজারী, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ।

ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সেই সময় ৫০ হাজার শ্রমিক প্রতারণা হয়েছে। তাদের প্রত্যকের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। ফলে এই সেক্টরের উদ্যোক্তারা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন এই সিন্ডিকেট কীভাবে করা হয়েছিল এই প্রশ্নে ফখরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশি বংশধর দাতুশ্রী আমীনের পার্টনার বায়রার সাবেক মহাসচিব রহুল আমীন এই সিন্ডিকেট তৈরি করে।

ফখরুল ইসলামের অভিযোগ, দাতুশ্রী আমিনের মালয়েশিয়ান IT কোম্পানি Bestinet এবং এই কোম্পানির Manpower Recruitment Online পদ্ধতি FWCMS (Foreign workers centralized Management system), এই পদ্ধতির মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকারের সঙ্গে শুধু বিদেশ থেকে কর্মী আনয়নের অনলাইন সাপোর্ট এর জন্য চুক্তি হয় কিন্তু দাতুশ্রী আমিন নূর দুই দেশের সরকারের অসাধু লোকদের এবং বাংলাদেশে তার পার্টনার রুহুল আমিন স্বপনকে ব্যবহার করে উক্ত পদ্ধতির অপব্যবহার করে কর্মী পাঠানোর সকল প্রক্রিয়া কন্ট্রোল করে অর্থাৎ FWCMS ব্যবহার করে ম্যানপাওয়ার ব্যবসায় লিপ্ত হয়-উক্ত Fwcms online পদ্ধতির মাধ্যমে মালয়েশিয়া আরও ১৪টি দেশ থেকে কর্মী নিলেও বাংলাদেশ ছাড়া কোনো দেশে কোনো প্রকার সিন্ডিকেট করতে পারেনি।

ফখরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মাধ্যমে সম্পাদিত এমওইউ (MOU) তে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সীর সিলেকশন করার জন্য মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয় কিন্তু কোনো প্রকার ক্রাইটেরিয়া ছাড়াই ঘুষের মাধ্যমে জনাব রুহুল আমিন স্বপন ও তার মালয়েশিয়ান পার্টনার দাতুশ্রী আমিন Fwcms system অপব্যবহার করে নিজেদের পছন্দমতো রিক্রুটিং এজেন্সি সিলেকশন করেন।

এ সময় বায়রার প্রতিনিধিরা ৮টি দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হলো-

১. সিন্ডিকেটের মূলহোতা রুহুল আমিন স্বপনসহ সিন্ডিকেটের পরিকল্পনাকারী, বাস্তবায়নকারী, নিয়ন্ত্রণকারী আওয়ামী লীগ সরকারে জড়িত মন্ত্রী এমপি ও নেতাদের এখনো বিচারের আওতায় আনা হয়নি, অনতিলম্বে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। ২. কোনো ক্রমেই সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সিন্ডিকেটে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। যদি সিন্ডিকেট করার পুনরায় সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে বর্তমান সরকারের সঙ্গে পূর্বের সরকারের কোনো পার্থক্য থাকবে না।

৩. দুই দেশের MOU সন্নিবেশিত বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়া সরকার সিলেকশন করার সুযোগ বাতিল করতে হবে।- রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি সিলেকশন করবে নিয়োগকর্তা। সিন্ডিকেট মুক্তভাবে সব এজেন্সি কম খরচে বা বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর জন্য মন্ত্রণালয় পক্ষ থেকে সেন্ট্রাল অনলাইন পদ্ধতিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ে যেসব কর্মী যেতে পারেনি, তাদের কম খরচে সিন্ডিকেট মুক্তভাবে পুনরায় মালয়েশিয়া পাঠানোর দাবি করছি।

৫. নেপালসহ অন্যান্য ১৩টি দেশ থেকে মালয়েশিয়া যে প্রক্রিয়ায় কর্মী গ্রহণ করে ঠিক বাংলাদেশ থেকেও একই পক্রিয়ার শ্রমিক প্ররণের দাবি করছি।

৬. বিতর্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত FWCMS online পদ্ধতি বাদ দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব online পদ্ধতি এবং মালয়েশিয়া সরকারের প্রস্তাবিত Epax পদ্ধতি বা manual পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে।

৭. FWCMS এর মাধ্যমে Medical পদ্ধতি বাদ দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত যে কোন মেডিকেল সেন্টারের মাধ্যমে মেডিকেল চেকআপ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

৮. Manual পদ্ধতিতে চালু হওয়া দূতাবাসের সত্যায়ন অব্যহত রাখা এবং সিন্ডিকেটকে সহায়তাকারী সাবেক ফ্যাসিবাদী আমলে নিয়োগকৃত মন্ত্রনালয় ও দূতাবাসের কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি করছি।

সংবাদ সম্মেলনে ভায়রার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রিয়াদ উল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম মহাসচিব নরুল আমীন, বায়রা সদস্য হক মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

দেশে আট মাসে বজ্রপাতে ২৯৭ জনের প্রাণহানি

0

দেশে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বজ্রপাতে মোট ২৯৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আর এই আট মাসে আহত হয়েছে ৭৩ জন। নিহতদের মধ্যে ১১ জন শিশু, ৫৫ জন নারী রয়েছে। নারীর মধ্যে ৬ জন কিশোরী। এছাড়া মোট মৃত্যুর মধ্যে ২৪২ জনই রয়েছে পুরুষ। পুরুষের মধ্যে কিশোরের সংখ্যা ১৭ জন।

বজ্রপাত

শনিবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে সেভ দ্য সোসাইটি এন্ড থাণ্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের পক্ষ থেকে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের সভাপতি ড. কবিরুল বাশার, সেক্রেটারি মো. রাশিম মোল্লা এবং গবেষণা সেলের প্রধান নির্বাহী আবদুল আলিম।

সংবাদ সম্মেলনে সেভ দ্য সোসাইটি এন্ড থাণ্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম জানায়, দেশের জাতীয় এবং আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা, কয়েকটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও টেলিভিশনের স্ক্রল থেকে বজ্রপাতে হতাহতের সকল তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মাসের বজ্রপাতে হতাহতের পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়। তাতে বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১ জন। মার্চ মাসে নিহত হয়েছেন ৯ জন। এর মধ্যে ৮ জন পরুষ ও ১ জন নারী রয়েছে। এ মাসে আহত হয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে ৬ জনই পুরুষ।

এপ্রিল মাসে ৩১ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০ জন পুরুষ, ১১ জন নারী ও ১ জন শিশু এবং ২ জন কিশোরী রয়েছে। এ মাসে আহত হয়েছেন ১ জন পুরুষ।

মে মাসে নিহত হয়েছেন ৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৭৯ জন, নারী ১৭ জন, শিশু ২ জন এবং কিশোর ২ ও কিশোরী ১ জন। এ মাসে ২৮ জন আহত হয়েছেন। তার মধ্যে পুরুষ ২৩ জন, নারী রয়েছে ৫ জন।

জুন মাসে নিহত হয়েছেন ৭৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬১ জন, নারী ১৬ জন, শিশু ৫ জন, পুরুষের মধ্যে কিশোর রয়েছে ৭ জন। এ মাসে আহত হয়েছেন ১৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২ জন, নারী ২ জন।

জুলাই মাসে মোট নিহত হয়েছেন ১৯ জন। এর মধ্যে নারী ১ জন এবং ১৮ জনই পুরুষ। এ মাসে আহত হয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে ১ জন নারী এবং ৯ জনই পুরুষ রয়েছে।

এছাড়া আগস্ট মাসে বজ্রপাতে মোট ১৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩ জন নারী ও ১৪ জন পুরুষ। এর মধ্যে ১ জন শিশু, ১ জন কিশোর ও ১ কিশোরী। এছাড়া এ মাসে আহত হয়েছেন ২ জন পুরুষ।

অন্যদিকে সেপ্টেম্বর মাসে বজ্রপাতে মোট ৪৭ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪১ জন পুরুষ ও ৬ নারী রয়েছে। নারী ও পুরুষের মধ্যে ২ জন শিশু রয়েছে। পুরুষের মধ্যে ৪ জন কিশোর ও নারীর মধ্যে ২ জন কিশোরী রয়েছে। এ মাসে আহত হয়েছেন ১২ জন। এর মধ্যে ১০ জন পুরুষ ও ২ জন নারী রয়েছে।

এ বছর সবচেয়ে যেসব জেলায় নিহত হয়েছে তার মধ্যে ফেনিতে ১২ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১৩ জন, কক্সবাজারে ১০ জন, জয়পুরহাটে ১৩ জন, হবিগঞ্জে ১৩ জন এবং গাইবান্ধায় ১০ জন। ধান কাটা, ঘাস কাটা, গরু আনা ও নানান ধরণের কৃষিকাজের সময় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এ বছরের ৮ মাসে শুধু কৃষি কাজের সময় বজ্রপাতে ১৫২ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গরু আনতে গিয়ে ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকল জনসাধারণের করণীয়

0

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সকল জনসাধারণের করণীয়ঃ

ডেঙ্গু কী:

ডেঙ্গু একটি ভাইরাস জ্বর। এডিস মশা ডেঙ্গু ভাইরাসের একমাত্র বাহক। এ মশার কামড়ে ডেঙ্গু ছড়ায়। এডিস মশা দিনের বেলায়, সাধারণত ভোরে এবং সন্ধ্যায় কামড়ায়।

ডেঙ্গুজ্বরের সাধারণ লক্ষণ:

>    জ্বর (শরীরে তাপমাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পায়)

>   মাথা ব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, পেটে ব্যথা, মাংসপেশী ও হাড়ে ব্যথা (বিশেষতঃ মেরুদন্ডে ব্যথা) বমি-বমি ভাব।

>    শরীরে হামের মত দানা দেখা দেওয়া।

ডেঙ্গুজ্বরের ব্যবস্থাপনা:

>     অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু জ্বর ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে এমনিতেই সেরে যায়।

>    রোগীকে উপসর্গ অনুসারে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হবে এবং বিশ্রামে রাখতে হবে। প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে।

>    দ্রুত জ্বর কমানো একান্ত জরুরী। এজন্য মাথা ধোয়া, ভিজা কাপড় দিয়ে গা মোছা এবং প্যারাসিটামল খেতে দেয়া যেতে পারে। এ্যাসপিরিন জাতীয় ঔষধ কোনভাবেই খেতে দেয়া যাবে না।

>    মারাত্বক (হেমোরেজিক) ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হলে রোগীকে অবিলম্বে হাসপাতালে/ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।

ডেঙ্গুজ্বর প্রতিরোধে করণীয়:

>   এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ, ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

>   বাড়ির ভিতর/বাহির/ছাদ এবং আনাচে-কানাচে পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় পাত্রসমূহ  ডাষ্টবিনে ফেলে দিন। বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড় এবং আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখুন।

>   ব্যবহার যোগ্য পাত্রসমূহে (যেমনঃ বালতি, ড্রাম, ফুলের ও গাছের টব, ফ্রিজ এবং এয়ার কন্ডিশনারের নীচের পানি ভর্তি পাত্র ইত্যাদি) পানি কোনভাবেই যেন একনাগাড়ে ০৫ (পাঁচ) দিনের বেশী যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্যে রাখুন এবং প্রয়োজনে অপসারণ করুন।

>   অব্যবহৃত গাড়ির টায়ার, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত চৌবাচ্চা, পরিত্যক্ত টিনের কৌটা, প্লাষ্টিকের বোতল/ক্যান, গাছের কোটর, পরিত্যক্ত হাড়ি, ডাবের খোসা ইত্যাদিতে ০৫ (পাঁচ) দিনের বেশি যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে লক্ষ্যে রাখুন এবং প্রয়োজনে অপসারণ করুন।