জাতীয় সংসদ ভবনে শুরু হয়েছে সরকারদলীয় এমপিদের সংসদীয় সভা

জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬ জুন) বেলা ৩টায় সংসদ ভবনে এ সভা শুরু হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংসদীয় এ সভায় সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতে চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

প্রচলিত ভুল ধারণা ভাঙলেন জাকির নায়েক: ধর্ষণ প্রমাণে চার সাক্ষী বাধ্যতামূলক নয়

বাংলাদেশে বর্তমানে ধর্ষণের ঘটনা একটি দুরারোগ্য সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। ইসলামী শরিয়া আইনের উদাহরণ টেনে অনেকেই অনেক সময় ধর্ষণের শিকার হওয়া একজন নারীর কাছে এটি প্রমাণ করার জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দাবি করা এবং তারপর ধর্ষককে শাস্তি দেওয়ার বিধানের কথা বলে থাকেন। এই বিধানটি আসলেই কতটি যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে আলোচিত ইসলামী বক্তা জাকির নায়েকের কাছে প্রশ্ন করা হয়।

আন্তর্জাতিক ইসলামি স্যাটেলাইট ও ইন্টারনেট টেলিভিশন হুদা টিভিতে প্রচারিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে ডা. জাকির নায়েককে জিজ্ঞেস করা হয়, ধর্ষণের শিকার হওয়া একজন নারীর কাছে এটি প্রমাণ করার জন্য চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী দাবি করা এবং তারপর ধর্ষককে শাস্তি দেওয়া অযৌক্তিক কি না।

উত্তরে ডা. জাকির নায়েক বলেন, অনেক মুসলিম ও অমুসলিমের মধ্যে একটি বড় ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, ইসলামি আইনে ধর্ষণ প্রমাণ করার জন্য চারজন সাক্ষীর প্রয়োজন হয়। এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। মানুষ মূলত ব্যভিচার বা জিনার (সম্মতিপূর্ণ অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক) অভিযোগ প্রমাণের শর্তের সাথে ধর্ষণের বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলেছে।

ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো নির্দোষ নারীর বিরুদ্ধে জিনা বা ব্যভিচারের অভিযোগ আনে, তবে তার অভিযোগ প্রমাণ করতে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হাজির করতে হবে। যদি সে চারজন সাক্ষী আনতে না পারে, তবে উল্টো অভিযোগকারীকে ৮০টি দোররা বা বেত্রাঘাত করা হবে। সুতরাং, এই চারজন সাক্ষীর শর্তটি কেবল ব্যভিচারের অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদি কেউ দাবি করে যে অমুক পুরুষ বা নারী ব্যভিচার করেছে, তবে তা প্রমাণ করতে চারজন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী লাগবে।কিন্তু ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিষয়টি মোটেও এমন নয়; কারণ ধর্ষণ এবং জিনা বা ব্যভিচার পুরোপুরি আলাদা বিষয়। জিনা বা ব্যভিচার সংঘটিত হয় উভয় পক্ষের পারস্পরিক সম্মতিতে, পক্ষান্তরে ধর্ষণের ক্ষেত্রে শারীরিক সম্পর্কটি একজনের ওপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়া হয়।

এ ধরনের জোরপূর্বক অপরাধের শাস্তির ব্যাপারে ফকিহ বা ইসলামি আইনবিদগণ পবিত্র কোরআনের সুরা মায়েদার ৩৩ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দেন। যেখানে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে এবং জমিনে ফাসাদ বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড, অথবা ক্রুশবিদ্ধকরণ, অথবা বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলা, অথবা দেশান্তর/নির্বাসন।

কোরআনের এই আয়াতটিতে মূলত ‘হিরাবাহ’ বা নৈরাজ্য বা সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন অস্ত্রের মুখে বা ভয় দেখিয়ে কাউকে জিম্মি করা। ইসলামি আইনবিদদের মতে, ধর্ষণ জমিনে নৈরাজ্য বা সন্ত্রাস সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত। কারণ ধর্ষণের ক্ষেত্রেও একজন নারীকে অস্ত্রের মুখে, ভয় দেখিয়ে বা যে কোনোভাবে বাধ্য করে জোরপূর্বক জিনা বা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়।

ধর্ষণের অপরাধ যদি সুনির্দিষ্ট ও স্পষ্টভাবে প্রমাণি হয়, তবে অপরাধীর শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড (Capital Punishment)। হিরাবাহর ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণে চারজন সাক্ষীর কোনো প্রয়োজন নেই, দুইজন সাক্ষীই যথেষ্ট। এমন কি এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতিগত বা পারিপার্শ্বিক প্রমাণও (Circumstantial Evidence) আমলে নেওয়া হয়। সমস্ত প্রমাণাদি বিবেচনা করে বিচারক যদি শতভাগ নিশ্চিত হন যে অভিযুক্ত ব্যক্তিটিই ধর্ষক, তবে সে মৃত্যুদণ্ড পাবে।

আর যদি বিচারক শতভাগ নিশ্চিত হতে না পারেন, তবে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী কিছু নমনীয় শাস্তি দেওয়া যেতে পারে; যেমন কারাদণ্ড, দোররা মারা বা অন্য কিছু। তবে এই ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের জন্য কোরআনে মৃত্যুদণ্ড বা ক্রুশবিদ্ধকরণের মতো কঠোর শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিচারক যদি মনে করেন সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা প্রয়োজন, তবে অপরাধীকে ক্রুশবিদ্ধও করা যেতে পারে। ক্রুশবিদ্ধ করার দুটি উপায় রয়েছে; একট হলো তাকে প্রথমে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে লাশটি জনসম্মুখে কোনো খুঁটিতে ঝুলিয়ে রাখা যাতে মানুষ তা দেখে শিক্ষা নিতে পারে, অথবা জীবন্ত অবস্থায় খুঁটিতে বেঁধে রাখা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। এ ছাড়া শাস্তির অন্যান্য উপায়ের মধ্যে রয়েছে বিপরীত দিক থেকে হাত ও পা কেটে ফেলা (যেমন ডান হাত ও বাম পা) অথবা নির্বাসন ও কারাদণ্ড। কিন্তু অপরাধ যদি নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়, তবে শাস্তি কেবলই মৃত্যুদণ্ড এবং এই ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক তথ্য-প্রমাণই যথেষ্ট, চারজন সাক্ষীর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

ইমাম মালেক (রহ.) ও ইমাম শাফেঈর (রহ.) অভিমত হলো, ধর্ষককে নির্ধারিত শারীরিক শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীকে তার মর্যাদা অনুযায়ী উপযুক্ত মোহর বা আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এবং সুফিয়ান সাওরীর (রহ.) মতে, অপরাধীর জন্য নির্ধারিত আইনি শাস্তিই যথেষ্ট, আলাদা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণের প্রয়োজন নেই। মতামত ভিন্ন হলেও ধর্ষণের ক্ষেত্রে চারজন সাক্ষী যে কোনো শর্ত নয়—এ ব্যাপারে সবাই একমত। এ ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক প্রমাণই যথেষ্ট।

স্বয়ং রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যুগে মদিনায় একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল, যা সুনানে আবু দাউদ ও সুনানে ইবনে মাজায় বর্ণিত হয়েছে। এক নারী অন্ধকার রাতে মসজিদের দিকে নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন। পথে এক ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হয়ে তাকে ধর্ষণ করে। নারীটি চিৎকার ও সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকেন, কিন্তু ধর্ষক অপরাধ শেষে পালিয়ে যায়। এরপর অন্য এক ব্যক্তি সেই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী নারী তাকে বলেন যে একজন তার সম্ভ্রমহানি করে ওই দিকে পালিয়ে গেছে। সেই ব্যক্তি তখন ধর্ষককে ধরার জন্য তার পিছু নেন।

এদিকে ওই নারী অন্য একদল মানুষের কাছে গিয়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া ধর্ষণের ঘটনার কথা বলেন। তখন সেই লোকেরা গিয়ে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে ধরে রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দরবারে নিয়ে আসে। ভুক্তভোগী নারীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ওই ব্যক্তিকে দেখে বলেন, ‘হ্যাঁ, এই লোকটাই আমাকে ধর্ষণ করেছে।’ কিন্তু সে প্রকৃত অপরাধী ছিল না। যখন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শাস্তি দিতে যাবেন, তখন প্রকৃত অপরাধী নিজে থেকে সামনে এগিয়ে আসেন এবং বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আমি তাকে ধর্ষণ করেছি।’তখন আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নির্দোষ লোকটির কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তাকে ছেড়ে দেন। ভুক্তভোগী নারীকে বলেন, ‘তুমি চলে যাও, আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করেছেন।’ কারণ ভুলবশত তিনি প্রথম ব্যক্তিকে ধর্ষক মনে করেছিলেন, তার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না বা তিনি স্বেচ্ছায় এটি করেননি। আর যিনি প্রকৃত ধর্ষক ছিলেন এবং নিজে এসে অপরাধ স্বীকার করেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এই ঘটনা থেকে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিন্তু ভুক্তভোগী নারীর কাছে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী দাবি করেননি। এই ক্ষেত্রে পরিস্থিতিগত ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণই যথেষ্ট ছিল, যদিও রায় কার্যকরের আগেই প্রকৃত অপরাধী নিজে এসে দোষ স্বীকার করে তওবা করেছিল।

সুতরাং, রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমল থেকেই এটি স্পষ্ট যে, ইসলামে ধর্ষণ প্রমাণের জন্য চারজন সাক্ষী আনা বাধ্যতামূলক নয়। এটি কিছু মানুষের ভুল ধারণা। ধর্ষণের ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদিই যথেষ্ট এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য অপরাধের বিষয়টি শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে, অন্যথায় অপরাধের সন্দেহ বা অস্পষ্টতার মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি কিছুটা শিথিল হতে পারে।

চুয়াডাঙ্গায় বিজিবির ব্যারাক থেকে নায়েকের মরদেহ উদ্ধার

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) ব্যারাক থেকে আজিজুর রহমান নামের এক বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (জুন) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত আজিজুর রহমান চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) একজন নায়েক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, একজন বিজিবি সদস্য আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন বলেও জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ব্যারাকের একটি কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে রশি ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে যে, নায়েক আজিজুর রহমান মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। এ কারণেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার পর পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পাশাপাশি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়ে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে কর্মপর্যায়ভিত্তিক জলবায়ু বার্তা ও বিশ্ব পরিবেশ দিবসের কর্মসূচি সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বাস্তবায়ন, জলবায়ু সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন, পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গ্রহণ করা বিভিন্ন কর্মসূচির অগ্রগতি ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

এসময় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিগুলো সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাসস

আগস্টে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা ইসির

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংস্কার করে আগামী আগস্টে ধাপভিত্তিক ভোটের তফসিল ঘোষণা করেত চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেক্ষেত্রে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বা অক্টোবরে নির্বাচন শুরু হতে পারে। কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন দিয়ে শুরু হবে তা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে এএমএম নাসির উদ্দিন নেতৃত্বাধীন কমিশন। ইসি নির্বাচনী শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুন-জুলাইয়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগস্ট থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করা এবং যাতে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে ভোট নেওয়া সম্ভব হয়, তেমন প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে নির্বাচন করতে হলে আগস্টে আমাদের তফসিল করতে হবে। সাধারণত এক থেকে দেড় মাস আগে তফসিল ঘোষণা দিতে হয়। তফসিলের বিষয়টা নির্ভর করছে বর্ষা মৌসুমের পরিস্থিতি দেখে। আর ভোটের সময় পাবলিক পরীক্ষার বিষয়টি দেখতে হবে। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি; সব বিষয় বিবেচনা করে যথাসময়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

তিনি আরও বলেন, প্রস্তুতিমূলক কাজের মধ্যে আইন-বিধি সংস্কার, নির্বাচনী সরঞ্জামের মজুদ, চাহিদাসহ আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো মাস তিনেকের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনের জন্য একটা সাধারণ জিনিস লাগে, সেটা প্রস্তুতি নিচ্ছি। এর মধ্যে আচরণবিধি, নির্বাচন পরিচালনা বিধি, কেনাকাটা বিধি সংস্কার নিয়ে প্রস্তাব আমরা ওয়েবসাইটে দিয়ে দেব। সবার মতামত নিতে ১৫ দিন উন্মুক্ত থাকবে। জুলাইয়ের মধ্যে বিধি সংস্কার মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পর্যন্ত শেষ হবে আশা করি। এরপর আগামী মাসে অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে আগস্টে তফসিলের প্রস্তুতি নেওয়া যাবে।

এক প্রশ্নে তিনি বলেন, পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকারের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। চলতি বছরে সিটি নির্বাচন দিয়ে শুরু করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ নিয়ে কী করা যায় আলোচনা দরকার। কোন নির্বাচন আগে হবে তা নির্ভর করছে (সরকারের সঙ্গে) আলোচনা সাপেক্ষে। অক্টোবর-মার্চ পর্যন্ত ভোটের উপযুক্ত সময়; এর মধ্যে বছর শেষে বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে। যেহেতু স্থানীয় সরকারের সব স্তরে করতে হবে; বর্ষার সময়টা দেখে তফসিল করতে হবে।

ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে কতটি ব্যালট বাক্স আছে কিংবা কোন এলাকায় আর কতটি লাগবে তা নির্ধারণ করার জন্য এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে কোনো ঘাটতি আছে কিনা তা যাচাই করতে অঞ্চলভিত্তিক তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তা কমিশনের কাছে উপস্থাপন করা হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়ে ১৫ জুনের মধ্যে সব অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত নিতে আইন-বিধির খসড়া প্রকাশ করবে ইসি। ১৫ বা ২০ দিনের মধ্যে অংশীজন ও নাগরিকদের মতামত গ্রহণের জন্য ওয়েবসাইটে খসড়া প্রকাশ করা হবে। জুনের মধ্যেই আইন-বিধির সকল কার্যক্রম শেষ করা হবে।

স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮১ ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১ জেলা পরিষদ, ৪৯৫ উপজেলা পরিষদ, ৩৩০ পৌরসভা, ১৩ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদ নির্বাচন উপযোগী রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন করলেও এখনও স্থানীয় সরকারের কোনো ভোট করেনি ইসি। এখন দলীয় সরকারের অধীনে নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচন করবে এ কমিশন।

সান মারিনোকে হারিয়ে ইউরোপে প্রথম জয়, বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন অধ্যায়

ইউরোপের মাটিতে প্রথমবারের মতো ম্যাচ খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (৫ জুন) স্থানীয় সময় সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তার জোড়া গোলেই নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়।

২৫ বছর পর ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। ২০০১ সালে যুগোস্লাভিয়া ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে পরাজয়ের স্মৃতি মুছে এবার সান মারিনোকে হারিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের দল।

এই জয়ের মাধ্যমে দেশের ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত হয়েছে নতুন এক মাইলফলক। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দলের নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলির অভিষেক ম্যাচও হয়ে থাকল স্মরণীয়। ম্যাচের ১৯তম মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ।

তবে রক্ষণভাগের একটি ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধেই সমতায় ফেরে সান মারিনো জাতীয় ফুটবল দল। সমতায় ফেরার পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ দিকে আবারও প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন তপু বর্মণ। তার গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

ম্যাচে বাংলাদেশের পাসিংও ছিল বেশ প্রশংসনীয়। দলের ৩১৪টি পাসের মধ্যে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ সফল ছিল, যা মাঠে তাদের নিয়ন্ত্রণ ও আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন। ফলে টমাস ডুলির শিষ্যরা স্মরণীয় এক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে।

সিগারেট ধরাতে আগুন জ্বালাতেই বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৩

রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে তিন যুবক দগ্ধ হয়েছেন। সিগারেট ধরানোর জন্য আগুন জ্বালালে এই বিস্ফোরণ ঘটে।

আজ (শনিবার) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। যারা

দগ্ধ হয়েছেন তারা হলেন- মিরাজ (২৬), সুজন (২৪) ও বিপ্লব (২৪)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, আজ ভোরের দিকে তিন যুবক মিরপুরের পাইকপাড়া এলাকায় সিগারেট খাওয়ার সময় লাইনের গ্যাস থেকে লিকেজের ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে মিরাজের শরীরে ১৫ শতাংশ দগ্ধ, সুজনের শরীরে ২৪ শতাংশ দগ্ধ এবং বিপ্লবের শরীরে ১০ শতাংশ দগ্ধ রয়েছে। আমরা ৩ জনকেই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি দিয়েছি।

কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার বিএনপি নেতা তিন দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর কেরানীগঞ্জে গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া বিএনপি নেতা ইমান উল্লাহ মাস্তানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। মামলার তদন্তের স্বার্থে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ইমান উল্লাহ মাস্তান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির একজন সদস্য। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় নিহত ছয়জনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। শনিবার রাতে পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেন।

শনাক্ত ব্যক্তিরা হলেন—মঞ্জু বেগম (৩৬), শাহীনুর বেগম (৩৫) ও মীম আক্তার (১৬)।

স্বজনদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসপত্র—বিশেষ করে চাবির গুচ্ছ ও চুলের ক্লিপ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়।

নিহত মঞ্জু বেগম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা এবং কারখানার পাশেই বসবাস করতেন। তার ছেলে সাব্বির হোসেন বলেন, মায়ের হাতে থাকা চাবির গুচ্ছ দেখে তিনি মরদেহ শনাক্ত করেছেন। তিনি মায়ের মৃত্যুর বিচার দাবি করেন।

শাহীনুর বেগমের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায়। তার বাবা আজিজ কাজী জানান, চুলের খোঁপার ক্লিপ দেখে মেয়েকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

এদিকে, নিহত মীম আক্তারের বাড়ি বরিশালের মুলাদী উপজেলায়। তার স্বামী বর্তমানে কারাগারে থাকায় তাদের তিন বছরের সন্তানটি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

নিহতদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় কারখানার প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বের হতে পারেননি।

তাদের দাবি, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তাঁরা।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান শুরু, লার্ভা মিললেই জরিমানার হুঁশিয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের জরিপে এসেছে ডেঙ্গুর জন্য দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬৩টি ওয়ার্ড ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া ২৮টি ওয়ার্ড অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

শনিবার (৬ জুন) সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জনগণের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ এবং সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব ৫০ শতাংশ হলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব বলেও জানান প্রশাসক আবদুস সালাম।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিনদিন পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু মশার লার্ভা যে প্রতিষ্ঠানে পাওয়া যাবে, সেখানকার সংশ্লিষ্টদের জরিমানা করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দুই থেকে তিনদিন পরপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।

এবার ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের রক্তক্ষরণেরও আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডাক্তাররা আশঙ্কা করছেন এবারের ডেঙ্গুর রূপ হবে ভয়াবহ। যার নাম হেমোরোজিক। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে হতে পারে রক্তক্ষরণও। সুতরাং আগে থেকেই সচেতন হতে হবে।

সিরাজদিখানে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৫

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে যুবদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের হিরনের খিলগাঁও গ্রামের আল্লামা আফজাল আহমেদ দারুল কোরআন মাদ্রাসা ও এতিমখানাসংলগ্ন সিরাজদিখান-ইছাপুরা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব শাহাদাত শিকদার ও যুবদলের সদস্য সিফাত উল্লাহ জনির অনুসারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব শাহাদাত শিকদার, তাঁর ভাই সাখাওয়াত শিকদার, রশুনিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আরশাদ আলী, তানভীর শিকদার ও রোমান ঢালী আহত হন।

আহতদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে আহত সাখাওয়াত শিকদার, তানভীর শিকদার ও আরশাদ আলীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেদী হাসান জানান, সংঘর্ষে আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অপর দুজনকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।