মানবতার সেবার আড়ালে রোগীর অসহায় পরিবারকে জিম্মি করে অর্থ আত্মসাতের এক জঘন্য চিত্র উঠে এসেছে। স্বেচ্ছায় রক্তদানের কথা বলে একশ্রেণীর অসাধু চক্র সাধারণ মানুষের আবেগ ও সরলতাকে পুঁজি করে ব্যবসা ফেঁদে বসেছে। সম্প্রতি ‘বন্ধুমহল’ নামক একটি সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতারণার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
নিচে তাদের প্রতারণার দুটি ভয়াবহ ঘটনা তুলে ধরা হলো:
📌 ঘটনা-১: রক্ত বিক্রির চুক্তি ও অর্থ আত্মসাৎ
রক্তদানের মতো একটি মানবিক কাজকে তারা ব্যবসায় রূপান্তর করেছে। রক্ত দেওয়ার পূর্বেই রোগীর স্বজনদের সাথে ৪,০০০ টাকার একটি চুক্তি করা হয়। রক্ত দেওয়া শেষ হওয়ার পর চুক্তি মোতাবেক সেই টাকা ডোনারকে না দিয়ে সংগঠনের নাম করে নিজেদের পকেটে ঢুকানো হয় (আত্মসাৎ করা হয়)।
📌 ঘটনা-২: ডোনারের হক নষ্ট ও অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট
অন্য একটি ঘটনায়, রক্ত দিতে এসে রোগীর লোকের কাছ থেকে “চা-নাস্তা” খাওয়ার কথা বলে টাকা দাবি করা হয়। ডোনার যখন বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তখন বলা হয় এই টাকা নাকি তাদের সংগঠনের “ফান্ডিং”-এর জন্য নেওয়া হচ্ছে।
ডোনারের সাথে প্রতারণা: রোগীর লোকের কাছ থেকে টাকা নিলেও ডোনারকে দেওয়া হয় মাত্র এক গ্লাস লেবুর শরবত! অথচ রোগীর দেওয়া টাকা দিয়ে ডোনারকে পুষ্টিকর খাবার বা ডাব খাওয়ানো উচিত ছিল।
কমিশন বাণিজ্য: রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় যখন তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল, তখন এই চক্রটি অ্যাম্বুলেন্স ঠিক করে দেওয়ার নাম করে অ্যাম্বুলেন্স চালকের কাছ থেকে আরও ১,০০০ টাকা কমিশন হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ডোনার এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবারও “ফান্ডিং”-এর অজুহাত দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়।

⚠️ আমাদের আহ্বান ও হুঁশিয়ারি
রক্তদানের মতো পবিত্র একটি কাজকে যারা কলঙ্কিত করছে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না।
“বন্ধুমহল” নামক এই চক্রটিকে সবাই বয়কট করুন। রক্তদানের নামে এই চাঁদাবাজি এবং প্রতারণা রুখে দাঁড়ান।
সচেতনতায়: মানবতায় ইনসাফ ফাউন্ডেশন
