আমি রাজনীতি করতে এসেছি দেশ ও মানুষের জন্য: ঢাকা -১৭ আসনে প্রার্থী দোহারের হায়দার বেপারী

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

“আমি রাজনীতি করতে এসেছি দেশ ও মানুষের জন্য, ক্ষমতার লোভে নয়” — ফ্রান্সপ্রবাসী দোহারের সন্তান, তৃণমূল বিএনপির ইউরোপীয় ইউনিয়নের সভাপতি ও ঢাকা-১৭ আসনের তৃণমূল বিএনপি প্রার্থী প্রত্যাশী মো: হায়দার আলী বেপারী।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন: নিউজ ৩৯ এর স্টাফ রিপোর্টার ও দোহার প্রেসক্লাবের সদস্য, সিনিয়র সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান সুমন।
স্থান: প্যারিস ও অনলাইন (ভিডিও কলের মাধ্যমে)

নিউজ ৩৯:
প্রথমেই ধন্যবাদ আপনাকে নিউজ ৩৯কে সময় দেওয়ার জন্য। কেমন আছেন?

মো: হায়দার আলী বেপারী :যে যেখান থেকে আমার এ বক্তব্য শুনছেন,সকলকে সালাম জানাচ্ছি, আসসালামু আলাইকুম। আপনাকেও ধন্যবাদ। আমি ভালো আছি।

নিউজ ৩৯: জানতে চাই—আপনি একজন ফ্রান্সপ্রবাসী, সফল প্রবাস জীবন ছেড়ে বাংলাদেশে রাজনীতিতে আসার প্রেরণা কী?

মো: হায়দার আলী বেপারী :
আমি জন্মেছি দোহারের মাটিতে, বেড়ে উঠেছি সেই গ্রামীণ পরিবেশে। প্রবাসে দীর্ঘদিন ধরে দেশের কথা, মানুষের কষ্টের কথা ভেবে কষ্ট পেয়েছি। আমি বিশ্বাস করি, পরিবর্তন আনতে হলে শুধু সমালোচনা নয়—নিজেকে মাঠে নামাতে হয়। তাই আমি তৃণমূল বিএনপির রাজনীতির মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। আমি রাজনীতি করতে এসেছি দেশ ও মানুষের কল্যাণের জন্য, ক্ষমতার লোভে নয়।

নিউজ ৩৯:
ঢাকা-১৭ আসন একটি অভিজাত এলাকা হিসেবে পরিচিত—গুলশান, বনানী, বারিধারা, মহাখালী, নিকেতন, শাহজাদপুর ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত। এই এলাকায় প্রতিযোগিতা কঠিন হবে। আপনি কীভাবে এখানে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান?

মো: হায়দার আলী বেপারী :
আপনি ঠিকই বলেছেন—ঢাকা-১৭ একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখানে দেশের অর্থনীতি, কূটনীতি, এবং নাগরিক সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে। তবে আমি শুধু অভিজাত এলাকার ভোটারদের নয়—প্রতিটি ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী, চাকরিজীবী, রিকশাচালক, গৃহকর্মী—সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চাই। আমার মূল লক্ষ্য হলো “জনগণের প্রতিনিধি” হওয়া, কোনো শ্রেণির প্রতিনিধি নয়। আমি বিশ্বাস করি, আন্তরিকতা ও স্বচ্ছ রাজনীতি দিয়ে এখানকার মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব।

নিউজ ৩৯:
আপনি তৃণমূল বিএনপির রাজনীতি করছেন। এই দলটি তুলনামূলকভাবে নতুন, কিন্তু মাঠে কর্মী বাড়ছে। আপনি কীভাবে এই দলটিকে সংগঠিত করতে চান?

মো: হায়দার আলী বেপারী :
তৃণমূল বিএনপি মানুষের হতাশা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকে জন্ম নেওয়া একটি আন্দোলন। আমরা বিশ্বাস করি, রাজনীতি মানে সেবা—দুর্নীতি বা সুবিধাবাদ নয়। আমি দেশে এবং প্রবাসে থাকা তরুণ ও অভিজ্ঞ মানুষদের নিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে চাই।
ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আমাদের প্রবাসী কমিউনিটি এখন তৃণমূল বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছে। দেশে ফিরে আমি ঢাকা-১৭-এর প্রতিটি ওয়ার্ডে “মানুষের সমস্যা শুনুন, সমাধান দিন” প্রোগ্রাম চালু করতে চাই।

নিউজ ৩৯:
আপনার নির্বাচনী ইশতেহারে কী কী বিষয় অগ্রাধিকার পাবে?

মো:হায়দার আলী বেপারী :
আমার ইশতেহারে চারটি মূল অগ্রাধিকার থাকবে—

১️⃣ জনগণের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন: নাগরিকদের মতামত নিয়ে বাজেট পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন।
২️⃣ যুবশক্তি ও কর্মসংস্থান: আইটি, ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা।
৩️⃣ স্বচ্ছ ও নৈতিক রাজনীতি: দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতা।
৪️⃣ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ততা: প্রবাসীদের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার পথ সহজ করা।

নিউজ ৩৯:
আপনি দীর্ঘদিন ফ্রান্সে আছেন। প্রবাস জীবন থেকে আপনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী শিখেছেন বলে মনে করেন?

মো:হায়দার আলী বেপারী :
বিদেশে থেকে আমি দেখেছি—রাষ্ট্র তখনই এগিয়ে যায়, যখন সিস্টেম শক্তিশালী হয়। ফ্রান্সে নাগরিকদের মতামত, জবাবদিহিতা, এবং নৈতিক নেতৃত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়। আমি চাই বাংলাদেশেও এমন সংস্কৃতি গড়ে উঠুক। প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্স পাঠায় না—তারা পরিবর্তনের দূত। আমি সেই দূতের ভূমিকা পালন করতে চাই।

নিউজ ৩৯:
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আপনার বিশ্লেষণ কী?

মো:হায়দার আলী বেপারী :
বাংলাদেশে এখন মানুষ রাজনীতিতে আস্থা হারাচ্ছে—এটাই সবচেয়ে বড় সংকট। আমি মনে করি, এই আস্থা ফিরিয়ে আনতে নতুন ধরনের রাজনীতি দরকার—যেখানে থাকবে সততা, দায়িত্ববোধ, এবং জনসম্পৃক্ততা। তৃণমূল বিএনপি সেটাই করতে চায়। আমরা “মানুষ আগে, দল পরে” এই নীতিতে বিশ্বাস করি।

নিউজ ৩৯:
ঢাকা-১৭ এর ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী হবে?

মো: হায়দার আলী বেপারী :
আমার বার্তা খুব সরল—আমি আপনাদের একজন। আমি হয়তো প্রবাসে থেকেছি,কিন্তু আমার মন পরে আছে দেশে।দেশের জন্য আমি কিছু করতে চাই।

নিউজ ৩৯:
আপনার নির্বাচনী ইশতেহার কেমন হবে,ধারনা চাচ্ছি।

মো:হায়দার আলী বেপারী:ধন্যবাদ।অবশ্যই জানবেন। আপনার মাধ্যমে আমার ঢাকা ১৭ আসনের জনগণকেও জানাচ্ছি।

০১.আধুনিক ও পরিকল্পিত নগর উন্নয়ন:
#গুলশান, বনানী, বারিধারা ও মহাখালীর রাস্তাঘাট সংস্কার ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন।
#ফুটপাত, পার্কিং ও হেঁটে চলার উপযোগী শহর পরিকল্পনা।
#বারিধারা-গুলশান লেক পুনরুদ্ধার ও নান্দনিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি।
#ভবিষ্যত শহর পরিকল্পনায় নাগরিক পরামর্শ কমিটি গঠন।

২. ট্রাফিক ও গণপরিবহন সমাধান:
#স্থানীয় রুটে “স্মার্ট বাস সার্ভিস” চালু।
#স্কুল ও অফিস সময়ের জন্য নির্দিষ্ট ট্রাফিক জোন।
#রাইডশেয়ার ও ইলেকট্রিক ভেহিকল ব্যবহারে প্রণোদনা।
#সিগন্যাল ও ক্যামেরা-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ।

৩. স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ:
#প্রতিটি ওয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টা হেলথকেয়ার সেন্টার।
#বার্ধক্যজনিত ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষ উদ্যোগ।
#শহরের ক্লিনিক ও ফার্মেসিতে মান নিয়ন্ত্রণ।
#স্থানীয় ক্লাব ও পার্কে “ফিটনেস জোন” স্থাপন।

৪. পরিবেশ ও সবুজ ঢাকা:
#গুলশান লেক, বনানী লেক ও ক্যান্টনমেন্টের সবুজ এলাকা সংরক্ষণ।
#প্লাস্টিক বর্জ্য হ্রাসে কমিউনিটি রিসাইক্লিং উদ্যোগ।
#ছাদের বাগান ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহ।
#প্রতি বছর “সবুজ ঢাকা-১৭” বৃক্ষরোপণ অভিযান।

৫. বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস ব্যবস্থাপনা:
#নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ।
#পানি সংকটমুক্ত মহল্লা গড়তে স্মার্ট মিটারিং সিস্টেম।
#গ্যাস বিতরণে জবাবদিহিমূলক অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা।

৬. কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন:
#তরুণদের জন্য “স্টার্টআপ সাপোর্ট হাব”।
#নারী উদ্যোক্তাদের জন্য মাইক্রো লোন ও অনলাইন মার্কেটপ্লেস সংযোগ।
#ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কো-ওয়ার্কিং স্পেস ও প্রশিক্ষণ।
#শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-শিল্প প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইন্টার্নশিপ নেটওয়ার্ক।

৭. শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন:
#স্কুলে কোডিং, রোবোটিক্স ও ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন।
#সরকারি স্কুলগুলোর মানোন্নয়ন ও ইংরেজি মাধ্যমের বিকল্প তৈরি।
#শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ও নাগরিক সচেতনতা কর্মসূচি।

৮. নাগরিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা:
#সিসিটিভি কভারেজ ১০০% নিশ্চিত।
#নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বিশেষ টহল ব্যবস্থা।
#স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে “কমিউনিটি পুলিশিং” জোরদার।

৯. সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও নাগরিক জীবন:
#গুলশান ও মহাখালীতে আধুনিক কমিউনিটি সেন্টার।
#স্থানীয় শিল্পী ও সংগীতশিল্পীদের জন্য “ঢাকা-১৭ সাংস্কৃতিক উৎসব”।
#খেলাধুলা ও তরুণ নেতৃত্ব বিকাশে ক্লাব পুনরুজ্জীবন।

১০. সুশাসন ও জবাবদিহিতা:
#“জনঅভিযোগ হেল্পলাইন” চালু করে সরাসরি জবাবদিহিতা।
#অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে কাজের অগ্রগতি প্রকাশ।
#নাগরিকদের সাথে মাসিক ওপেন মিটিং।
#উন্নয়ন তহবিলের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিতে বার্ষিক রিপোর্ট।

আমার প্রতিশ্রুতি:
আমি “স্মার্ট ঢাকা-১৭” গড়ব — যেখানে নাগরিক সুবিধা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ একসাথে সমন্বিত হবে।
আমি রাজনীতি করব জনগণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়।
আমি বিশ্বাস করি: উন্নত দেশ গড়তে হলে প্রথমে উন্নত সংসদীয় এলাকা তৈরি করতে হবে।আমি সকলের দোয়া চাই।আসসালামু আলাইকুম।

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

দোহার ও নবাবগঞ্জে আওয়ামীলীগের ১২ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ১২ নেতাকর্মীকে...

ঈদের আমেজে দোহার-নবাবগঞ্জ-কেরানীগঞ্জে নির্বাচনী উত্তাপ

শরিফ হাসান, মো আল-আমিন, আশিক হোসেন, আমিনুল ইসলাম | দোহার, নবাবগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জ: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার...

নবাবগঞ্জ ও দোহারে নতুন পুলিশ সুপার: কাজের মাধ্যমেই পুলিশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে

মাহমুদুল হাসান সুমন: ঢাকা জেলার নবাগত পুলিশ সুপার শামিমা বলেছেন, পুলিশের প্রতি মানুষের যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে,...

দোহারে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, দোহার: দোহার উপজেলার চর জয়পাড়া এলাকায় এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর ঘরে ঢুকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী...