ডেস্ক রিপোর্টঃ দীর্ঘদিন ধরে একীভূত থাকা ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলাবাসী আবারও আলাদা সংসদীয় আসন ফিরে পেতে জোরালো দাবি তুলেছেন। ২০০১ সালের নির্বাচন পর্যন্ত দোহার ছিল ঢাকা-১ এবং নবাবগঞ্জ ছিল ঢাকা-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু ২০০৮ সালে সীমানা পুনর্বিন্যাস করে দুটি উপজেলাকে একত্র করে বর্তমান ঢাকা-১ আসন গঠন করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, রাজনৈতিক সুবিধার জন্য করা এই পরিবর্তনের ফলে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। দুটি ভিন্ন চরিত্রের জনপদ একসাথে রাখায় প্রশাসনিক জটিলতা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে অসামঞ্জস্য দেখা দেয়।
‘ঢাকা-১ ও ২ পুনরুদ্ধার কমিটি’ ২০০১ সালের সীমানায় ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছে। তাদের মতে, দোহার ও নবাবগঞ্জের স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা আলাদা আসনের দাবি যথার্থ করে তোলে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এমন আরও অনেক আবেদন কমিশনে জমা পড়েছে। তবে বিদ্যমান আইন পরিবর্তন না হওয়ায় ইসি এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। আইন সংশোধনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
অন্য যেসব সংসদীয় আসন থেকে রদবদলের আবেদন এসেছে, তার মধ্যে রয়েছে—ঢাকা-১, ২, ৭, ১২, ১৬ ও ১৯; নারায়ণগঞ্জ-১, ২, ৩, ৪ ও ৫; গাজীপুর-৩; মানিকগঞ্জ-২ ও ৩; কিশোরগঞ্জ-২; সিরাজগঞ্জ-২ ও ৫; গাইবান্ধা-৩; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ও ৪; ফেনী-২ ও ৩; নোয়াখালী-১ ও ২; কুমিল্লা-১, ২, ৬, ৯ ও ১০; চট্টগ্রাম-৩, ৪, ৭ ও ৮; সিলেট-৩; চাঁদপুর-১, ২, ৩, ৪ ও ৫; ফরিদপুর-৪; রাজবাড়ী-১, ২ ও ৩; শরীয়তপুর-২; যশোর-২; ঝালকাঠি-২; বরগুনা-১ ও ২; পিরোজপুর-১ ও ২ ইত্যাদি।
এখন দোহার-নবাবগঞ্জবাসীর প্রহর গোনা, কবে তারা তাদের পুরোনো পরিচয় ও রাজনৈতিক স্বাতন্ত্র্য ফিরে পাবে।
