দোহারের বিভিন্ন স্কুল কলেজের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০১৮ সালের ভর্তির সেশন ফি নামে আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুন টাকা। নবম শ্রেণি থেকে উত্তীর্ণ হয়ে দশম শ্রেণিতে জানুয়ারী মাসে ভর্তি হলেও নতুন করে আবার আদায় করা হচ্ছে ভর্তির টাকা ও সেশন ফি। ফলে একই শ্রেণিতে দুইবার ভর্তি হতে হচ্ছে দোহার-নবাবগঞ্জের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। স্কুলগুলোতে জোর করে আদায় করা হচ্ছে এই টাকা। ফলে একই দিকে শিক্ষার্থীরা যেমন অতিরিক্ত টাকা দিচ্ছে এবং হয়রানী হচ্ছে ঠিক একইভাবে অভিভাবকদের উপরে পড়ছে নতুন অর্থনৈতিক চাপ।
সরজমিনে দেখা যায়, দোহারের প্রায় প্রতিটি স্কুল সম্মেলিত ভাবে আদায় করছে এই অনৈতিক টাকা। দশম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী জানুয়ারী মাসেই সেশন ফি ক্লিয়ার করে প্রথম সাময়িক ও প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করছে। সেই শিক্ষার্থীকেই আবার নির্বাচনী পরীক্ষার সময় নতুন করে সেশন ফি পরিশোধ করা হচ্ছে। স্কুল কতৃপক্ষ বলছে তারা এই সেশন ফি ২০১৮ সালের জন্য গ্রহন করছে যদিও দশম শ্রেনীর টেস্ট অর্থাৎ নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কোন শিক্ষার্থী ২০১৮ সালে আর কোন ক্লাস করবে না। তারপরও এক প্রকার জোর করে এই সব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে এই সেশন ফি। আর এই ফির কোন রশিদ দিচ্ছে না কোন স্কুল।
এদিকে বোর্ড নীতিমালা অনুযায়ী নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী শুধুমাত্র ফরম ফিলাপের জন্য ১২৩৫ টাকা ব্যবহারিক ব্যয় বাবদ জমা দিবে। আর স্কুল কতৃপক্ষ যদি কোন শিক্ষার্থী চায়, তবে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ কোচিং ক্লাশ দিবে প্রতি বিষয় ১০০টাকার বিনিময়ে। আর যদি নিয়মিত কোন ক্লাশ হয় সেক্ষেত্রে শুধু ১০০ টাকা জানুয়ারি মাসের জন্য টিউশন ফি নিতে পারবে।
এক্ষেত্রে স্কুলগুলো কৌশল করে সেশন ফি নামক একটি ফি নিচ্ছে ২০১৮ সালের জন্য। একই সাথে সারা বছরের বেতন-তো নেয়া হচ্ছেই। এরপর নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাছ থেকে আবার নেয়া হবে ফরম ফিলাপ ফি। কোন কোন স্কুল কোচিং ফি, মার্কশীট, সার্টিফিকেট ও প্রসংসা ফি ও এসবের সাথে নেয়া হয়।
আর যারা নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে না তাদেরকেও নতুন করে সেশন ফি দিতে হবে না। অথচ তাদের কাছ থেকেও আবার টাকা নেয়া হলো। এই নৈরাজ্য দীর্ঘদিন হয়ে এলেও তা প্রতিরোধ হয়নি।
এই বেপারে সরজমিনে নারিশা গার্লস স্কুল পরিদর্শনে গেলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। স্কুল কতৃপক্ষ সব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করলেও তার বিপরিতে কোন রশিদ দেয় নি শিক্ষার্থীদের।
এই ব্যাপারে নারিশা গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি সংবাদ মাধ্যমের সাথে কোন কথা বলতে চান নি।
এই ব্যাপারে মধুরখোলা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এস এম খালেক নিউজ৩৯ এর সাথে কথা বলেন, তিনি নিউজ৩৯কে বলেন, তারা দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দুইবার করে কোন ভর্তি ফি নিচ্ছেন না। এবং ২০১৮ সালের কোন সেশন ফিও গ্রহন করছে না। তিনি আরও বলেন তারা রশিদ ছাড়া কোন লেনদেনও করেন না।
এই ব্যাপারে নারিশা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিম খান নিউজ৩৯এর সাথে এই ব্যাপারে কোন কথা বলতে চান নি। স্কুলের ফির নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের ব্যাপারেও কোন কথা বলতে চান নি।
দোহারে শিক্ষার্থীদের মাঝে এই অতিরিক্ত ফি আদায়ের নামে হরিলুট চললেও জয়পাড়া পাইলট হাই স্কুল ও বেগম আয়েশা গার্লস স্কুল সরকার নির্ধারিত ফিই আদায় করছে বলে জানা যায়।
দোহারে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি আদায়ের নামে এই নৈরাজ্য নিয়ে নিউজ৩৯ কথা বলে দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের সাথে। তিনি নিউজ৩৯কে বলেন, আমি এখন ঢাকা আছি, দোহারে এসে আমি ইউএনও ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নিব।
এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা কে এম আল-আমিন কে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনে রিং হলেও তিনি ধরেননি।
ইতঃমধ্যে ব্যাপারটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়ে উঠেছে।
