মাহমুদুল হাসান সুমন, দোহার প্রতিনিধি :
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দোহার পৌরসভায় আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২২ সেপ্টেম্বর) পৌর মিলনায়তনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর প্রশাসক তানিয়া তাবাসসুম।
সভায় উপস্থিত ছিলেন দোহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী, পৌরসভার ইঞ্জিনিয়ার এম এম মামুনুর রশীদসহ অন্যান্য পৌর কর্মকর্তা ও সুধীজন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-০১ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক এবং পৌর জামায়াতে ইসলামের আমীর এম এম সাখাওয়াত হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে তানিয়া তাবাসসুম বলেন, “সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি পূজামণ্ডপে ৫০০কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও, স্বেচ্ছাসেবী, পুলিশ, আনসার সমন্বয়ে নিরাপত্তা টিম গঠন করা হয়েছে। পূজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের জন্য সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”
বিএনপি নেতা খন্দকার আবু আশফাক বলেন, “প্রশাসনের পাশাপাশি আমরাও হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশে আছি। আপনারা যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে আমরা আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করবো। বিএনপি সিকিউরিটি ফোর্সের মতোই দায়িত্ব পালন করবে। ”
জামায়াত নেতা এম সাখাওয়াত বলেন, “হিন্দু-মুসলিম ভাই ভাই। এই দেশ সকলের। হিন্দু ভাইয়েরা মুসলিমদের মতোই একইভাবে ধর্ম, সংস্কৃতি পালন করবে। হাদীসে বলা হয়েছে, মানুষ তাদের জান ও মালের জন্য নিরাপদ মনে করে যে ব্যাক্তিকে, সে-ই প্রকৃত মুমিন। দোহার-নবাবগঞ্জের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ সহায়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছি। ”
দোহার প্রেসক্লাবের সভাপতি তারেক রাজীব বলেন, “সনাতন ভাইদের ধর্মীয় উৎসব পালনে প্রেসক্লাব সবসময় পাশে রয়েছে। আমরা সবাই মিলে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে চাই।”
দোহার পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অমিতাভ পাল অপু সভায় আগত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “প্রশাসন ও স্থানীয় জনসাধারণের সহায়তায় এবারের দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে উদযাপিত হবে বলে আমরা আশাবাদী। আমরা প্রতিটা পূজামণ্ডপে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও সার্বিক নিরাপত্তা দিচ্ছেন। আশা করি, এভাবের পূজা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে।” নিরবচ্ছিন্ন মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে তিনি প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।
দোহার থানার অফিসার ইন চার্জ মো হাসান আলী বলেন — আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। সিসিটিভি ক্যামেরা ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। দুর্গাপূজায় যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে।”
আর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা এখনও শুরু না হওয়ায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুরোপুরি জোরদার করা হয়নি। পূজা শুরু হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে শঙ্কা কেটে যাবে।
