দোহারের প্রাণকেন্দ্র উত্তর জয়পাড়ায় ১৫ বছরের এক কিশোরীকে গত বুধবার সংঘবদ্ধ একদল যুবক ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনায় ১৬ মে ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে দোহার থানায় ধর্ষণ মামলা করেছে। জানা গেছে, রাতে ওই কিশোরীকে বাড়িতে পৌছে দেয়ার কথা বলে রাস্তায় নিয়ে অজ্ঞতানামাসহ ৪ যুবক জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে বাড়ি ফিরে বড় বোনকে ঘটনা জানালে, সে তাঁর স্বজনদের মাধ্যমে বাবাকে অবগত করে। পরে শুক্রবার সকালে দোহার থানায় মামলা দায়ের করে। এখন পর্যন্ত কোন আসামী গ্রেফতার হয়নি।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দোহার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০২০) এর ৯(৩) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার এজাহারে ভিক্টিমের পিতা নাইম উল্লেখ করেন, ১৪ মে রাত ৯:০০টায় ভিক্টিম শ্রাবণি আক্তার(১৫) তার খালাতো বোন জারা’র(১৬) সাথে রাতে খাবার খাওয়ার জন্য জয়পাড়া কালেমা চত্বরে যায়। সেখান থেকে খাবার খেয়ে ফেরার পথে জয়পাড়া কলেজের সামনে আসামীগণ তাদের ২জনকে ডাক দেয়। ডেকে কথা বলার এক পর্যায়ে তাদেরকে জুস খেতে দেয়। এরপর বাড়ী পৌছে দেয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে ওঠায়। বাড়ীর সামনে এসে তাদ্রকে না নামিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেল দ্রুত বেগে চলে যায়। এসময় শ্রাবণির খালাতো বোন লামিয়া জারা লাফ দিয়ে নেমে পড়ে কিন্ত শ্রাবণি নামতে পড়েনি। জারা বাসায় গিয়ে ঘটনা বর্ণনা করলে, সবাই শ্রাবণিকে খুঁজতে বের হয়। পরে ১৫মে রাত ২:০০টায় শ্রাবণি বাড়ী ফিরে এসে জানায় দোহার পৌরসভার খাড়াকান্দাস্থ পালবাড়ী সন্নিকটে রাব্বেলের (তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসায়ের অভিযোগ আছে এলাকায়) গ্যারেজে নিয়ে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ঘটনাটি রাত সাড়ে ১০টা থেকে আনুমানিক রাত দেড়টার মধ্যে সংঘটিত হয়। উল্লেখ্য শ্রাবণি আক্তারের নয় মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান রয়েছে।
মামলায় অভিযোগ অনুযায়ী, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধিত ২০২০) এর ৯(৩) ধারা অনুযায়ী আসামীগণ হলো মণি (২২); পিতা – খোকা মিয়া; উত্তর জয়পাড়া চৌধুরিপাড়া, মুশফিকুর অপু (২২); পিতা- জুলহাস বেপারী; দক্ষিণ জয়পারা-মাঝিপাড়া, আবির হোসেন (২০); পিতা- জাহাংগীর আলম; দক্ষিণ জয়পাড়া; দোহার। এছাড়াও, অজ্ঞাত রয়েছে একজন। এদিকে ঘটনার সিসি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ঘটনাস্থলে আরেকজন গ্যারেজ মালিক রাব্বেল এর সাথে মিল রয়েছে।
একই সময় দোহারে আরও একটি ধর্ষণ ও একটি ধর্ষণচেষ্টা হয়। এ বিষয়ে দোহার থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, তিনটি ধষর্ণের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। দুই মামলায় তিন আসামী গ্রেপ্তার আছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে।


