ব্রাজিল দেখালো, কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিততে হয়

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

নকআউট পর্বে চ্যাম্পিয়ন দলগুলোকে এভাবেই চেনা যায়, যেভাবে হিউস্টনে জাপানের বিপক্ষে লড়াই করল ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ মুহূর্তে আসা গোলে ২-১ ব্যবধানের এই রুদ্ধশ্বাস জয় ব্রাজিলিয়ান দলে সেই লড়াকু মানসিকতা তৈরি করেছে, যার অভাব দীর্ঘদিন ধরেই দেখা যাচ্ছিল।

নেতৃত্ব পরিবর্তন আর নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই বিশ্বকাপ চক্রে ব্রাজিলের আত্মবিশ্বাস জোগানোর মতো জয় ছিল খুব কমই। সবশেষ কোপা আমেরিকার নকআউট পর্বের শুরুতেই বিদায়, বড় ম্যাচগুলোতে হার এবং চোটের ধাক্কায় জর্জরিত সেলেসাওরা বিশ্বকাপও শুরু করেছিল হতাশাজনক ড্র দিয়ে। শেষ ষোলোর এই টিকিট কেবল ভাগ্যের জোরে নয়, বরং নিখাদ লড়াকু মানসিকতা এবং কোচ কার্লো আনচেলত্তির মাস্টারক্লাসে এসেছে।

আগের ম্যাচের উইনিং কম্বিনেশন ধরে রেখে পরশু মাঠে নেমেছিল ব্রাজিল। তবে জাপান তাদের চেনা ৫-৪-১ ফরমেশনে রক্ষণভাগে পাঁচজন এবং মাঝমাঠে চারজনের নিরেট দেয়াল তুলে দাঁড়ায়। মাঝমাঠের এক ভুলে জাপানের কাইশু সানোর দুর্দান্ত শটে পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। তারপর যেভাবে ঘুরে দাঁড়াল সেলেসাওরা, তা নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমাদের প্রথমার্ধের পরিকল্পনা ছিল মাঝমাঠে বেশি পাস দেওয়া, কিন্তু জাপানের দুর্দান্ত রক্ষণের কারণে তা কাজে আসেনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে বক্সে ক্রসের সংখ্যা বাড়িয়ে এবং আক্রমণভাগে শক্তি বৃদ্ধি করে আমরা সমাধান খুঁজে পেয়েছি। আমার মনে হয়, এখন পর্যন্ত এই ম্যাচ ছিল আমাদের খেলা সবচেয়ে সম্পূর্ণ ম্যাচ।’

প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ধাক্কা হয়ে আসে লুকাস পাকেতার ইনজুরি। আনচেলত্তি তখন নেইমারকে মাঠে না নামিয়ে তরুণ এনদ্রিককে বেছে নেন এবং উইংয়ে ভিনিসিয়ুসের পজিশনে পরিবর্তন আনেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে গোল করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দেন কাসেমিরো। ম্যাচ শেষে ক্যাসেমিরোর প্রশংসা করে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমি হাফ টাইমে তার সঙ্গে আলাদা কথা বলিনি। কারণ, সে তার স্বাভাবিক কাজই করছিল। খেলায় ভুল হতেই পারে, তবে কাসেমিরো খুব ভালো খেলেছে এবং তার সমতাসূচক গোলটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। ওই পজিশনে কীভাবে খেলতে হবে, তা তাকে কেউ শিখিয়ে দিতে পারে না।’

বিরতির পর খেলোয়াড়দের মানসিকতা নিয়ে কোচ বলেন, ‘ফুটবলে ভুল হবেই, কেউ নিখুঁত নয়। তবে ভুল থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসতে হয়, তা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, আর তা হলো ভেঙে না পড়ে সামনে তাকানো। দ্বিতীয়ার্ধে দল এই কাজ খুব ভালোভাবে করেছে।’

ম্যাচের শেষ ভাগে ব্রুনো গিমারেসের চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে গাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির ৯৫ মিনিটের গোলে জয় নিশ্চিত হয় ব্রাজিলের। নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ পার হওয়ার পর হেক্সা শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে আনচেলত্তি বলেন, ‘আমরা ভালো করছি, কিন্তু শুধু এতেই সন্তুষ্ট হয়ে বসে থাকা যাবে না। আমরা খুশি, কিন্তু আমরা আরও উন্নতি করতে চাই। কারণ, আমাদের আরও উঁচু পর্যায়ে খেলতে হবে।’

এই জয় সেলেসাওদের এনে দিল শেষ ষোলোর টিকিট, স্বপ্নপূরণে তাদের সামনে এখন আর মাত্র চারটি ম্যাচ বাকি। রোববার শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। গতকাল আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়েছে নরওয়ে।

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

মরক্কোর কাছে হেরে বিশ্বকাপের বাজে রেকর্ডে এখন নেদারল্যান্ডস

বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের দুঃখের অপর নাম টাইব্রেকার—কেউ এমনটা বললে সেটা মোটেও ভুল নয়। মূল ম্যাচে ডাচরা খেলে দাপট দেখিয়ে।...

জর্ডানকে হারিয়ে বাংলাদেশের জন্য যে বার্তা দিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ

বছর তিনেক আগে বাংলাদেশে এসে সংক্ষিপ্ত সফরে ভক্ত-সমর্থকদের ভালোবাসার জোয়ার দেখেছিলেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে...

মেসির জন্মদিনে উন্মোচন হলো ৮৫ ফুট উঁচু বিশাল ভাস্কর্য

ফুটবল মাঠে রেকর্ড গড়া যেন লিওনেল মেসির নিত্যদিনের ব্যাপার। তবে মাঠের বাইরেও তাঁকে ঘিরে উন্মাদনা কম নয়। এবার...

নেইমারের ফেরার ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিলো ব্রাজিল

নিজেদের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জুনিয়রকে পেতে ৭৮১ দিন অপেক্ষা করতে হয়েছে ব্রাজিলকে। চোটজর্জর এই তারকার প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটি...