প্রাণীর প্রতি দয়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

বর্তমানে প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতার খবর যখন ডাল-ভাতের মতো শোনা যায়, তখন ইসলাম আমাদের মনে করিয়ে দেয় এক অনন্য নৈতিকতার পাঠ। ইসলাম একদিকে যেমন প্রয়োজনে প্রাণী থেকে বৈধ উপকারের অনুমতি দিয়েছে, অন্যদিকে তাদের অধিকার ও কষ্টের বিষয়েও করেছে সচেতন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সৃষ্টিকুলের জন্য রহমতস্বরূপ। তিনি যদি দেখতেন, কেউ কোনো প্রাণীকে কষ্ট দিচ্ছে, তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করতেন। হজরত আবদুল্লাহ বিন জাফর (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) এক আনসারি সাহাবির বাগানে প্রবেশ করলেন। সেখানে একটি উট নবীজিকে (সা.) দেখে করুণভাবে কাঁদতে শুরু করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্নেহের পরশে উটটির ঘাড় ও পিঠে হাত বুলিয়ে তাকে শান্ত করেন। এরপর তিনি উটের মালিককে ডেকে বললেন, ‘আল্লাহ তোমাকে এই নির্বাক প্রাণীর মালিক বানিয়েছেন; এর ব্যাপারে তুমি কি আল্লাহকে ভয় করো না? এই উটটি আমার কাছে অভিযোগ করেছে যে তুমি তাকে ক্ষুধার্ত রাখো এবং সাধ্যের অতিরিক্ত পরিশ্রম করাও।’ (সুনানে আবু দাউদ: ২৫৪৯)

ইসলামি ফিকহের প্রখ্যাত গ্রন্থ ‘আদ-দুররুল মুখতার’-এ উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো প্রাণীকে দিয়ে কাজ করানোর ক্ষেত্রে তাকে প্রহার করা বা অতিরিক্ত কষ্ট দেওয়া হারাম। এমনকি বলা হয়েছে, প্রাণীর ওপর জুলুম করা গুরুতর অপরাধ। কারণ নির্বাক প্রাণী মানুষের কাছে তার কষ্টের কথা বলতে পারে না। (রদ্দুল মুহতার: ৯ / ৪৯১)

প্রাণীকে কষ্ট দেওয়ার প্রতিটি রূপ ইসলামে নিষিদ্ধ। ক্ষুধার্ত রাখা, কষ্ট দেওয়া, জীবন্ত অবস্থায় অঙ্গহানি করা, অযথা হত্যা করা, নিশানা বানিয়ে পাথর বা তির ছোড়া কিংবা প্রাণীদের মধ্যে লড়াই লাগানো—সবই কবিরা গুনাহ। হাদিসে প্রাণীকে কষ্ট দিয়ে মেরে ফেলার জন্য এক নারীকে জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করানো হয়েছে মর্মে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, ‘এক নারীকে একটি বিড়ালের কারণে আজাব দেওয়া হয়েছিল। সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল। সে অবস্থায় বিড়ালটি মরে যায়। মহিলাটি ওই কারণে জাহান্নামে গেল। কেননা সে বিড়ালটিকে খানাপিনা কিছুই করায়নি এবং ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে জমিনের পোকামাকড় খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে।’ (সহিহ মুসলিম: ২২৪২)

প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা যেমন আল্লাহর ক্রোধকে অনিবার্য করে তোলে, তেমনি তাদের প্রতি সামান্য মমতাও হতে পারে আমাদের পরকালীন মুক্তির অসিলা।

আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

আশুরার রোজা ও মহররমের আমল: ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয়

২০২৬ সালে পবিত্র আশুরার রোজা (১০ মহররম) পালিত হবে ২৬ জুন, শুক্রবার। ইসলামে কেবল ১০ মহররমের একটি রোজা...

গাজওয়াতুল হিন্দ: শেষ জমানার মহাযুদ্ধ নিয়ে হাদিসের আলোয় তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

গাজওয়াতুল হিন্দ : একটি তাত্ত্বিক ও তথ্যবহুল আলোচনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিশ্রুত গাজওয়াতুল হিন্দ কি অতি...

আশুরার শিক্ষা ও একজন মুসলিমের করণীয়

আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনকে ইবাদতের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার জন্য বছরজুড়ে বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন।...

হিজরি ১২ মাসের নামকরণের ইতিহাস

হিজরি সন বা ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাসের নামের পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস, আরবদের প্রাচীন সংস্কৃতি ও প্রকৃতির বৈচিত্র্য।...