জয়পাড়া সরকারি স্কুলে ভর্তি লটারি অনুষ্ঠিতঃ সরকারী বিধিনিষেধে সুযোগ পাচ্ছে সীমিত শিক্ষার্থী

332

নিউজ৩৯,আল-আমিনঃ ১১ জানুয়ারি সোমবার বিকেল ৩টায় জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দোহার উপজেলার একমাত্র সরকারি স্কুল, জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে, স্কুলটি পরিপূর্ণ সরকারী হওয়ার পূর্বে সরকারী স্কুলের নিয়মে লটারি করায় এবং সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ভর্তি লটারির অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এ.এফ.এম ফিরোজ মাহমুদ। লটারি পরিচালনা করেন দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র।

জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস.এম খালেক জানান, ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের সম্মুখে এ ভর্তি লটারি পরিচালনা করা হয়। আর সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। স্কুল পরিচালনার ব্যাপারে মাউশি, শিক্ষা মন্ত্রাণালয় যে নির্দেশনা দেয়, সেই মোতাবেক স্কুল পরিচালিত হয়। এছাড়া সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় নিয়মিত দেখ-ভাল করে থাকেন। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে ও স্কুলের ফলাফল এবং ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমরা সকল শিক্ষক-কর্মচারী আন্তরিকভাবে সচেষ্ট আছি।

অন্য খবর  দোহারে ৮ হাজার পরিবারের মাঝে ইঞ্জিনিয়ার মেহবুব কবিরের ত্রাণ বিতরণ

ইতঃপূর্বে ভর্তি ইচ্ছুক ২৭০জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করে টোকেন সংগ্রহ করেন। সোমবার লটারির মাধ্যমে ১১৩ জন শিক্ষার্থীকে নতুন ভর্তির সুযোগ দেয়া হলো। এছাড়াও লটারীর মাধ্যমে আরও ১০জন শিক্ষার্থীকে অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। লটারিতে নির্বাচিত কোন শিক্ষার্থী ভর্তি না হয় তাহলে ঐ ১০ জনের মধ্য থেকে ভর্তির সুযোগ দেয়া হবে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণি থেকে উর্ত্তীণ ৫৩ জন শিক্ষার্থী লটারি ছাড়া ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ পায়।

এদিকে সীমিত সংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ায় অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সেকশন কমে যাওয়ায়, অনেক শিক্ষার্থীই সরকারী সুযোগ পাবে না। প্রায় ১১০০ ছাত্র পড়া-লেখার সুযোগ পাবে ঐতিহ্যবাহী জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে।

এ ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জয়পাড়া পাইলট স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র আসাদুজ্জামান খান আসাদ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে বলেন, ঐতিহ্যবাহী জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এর ষষ্ঠ শ্রেনীতে ২০২১ সালে ১১৩ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তির সুযোগ দিয়ে লটারি সম্পন্ন হয়। ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপিঠে সুদীর্ঘ কয়েক যুগ ও বছর ধরে ষষ্ঠ শ্রেনীতে ৫টি শাখায় চার শতাধিকের বেশি অত্র এলাকার ছাত্র/ছাত্রী ভর্তি হয়ে লেখা পড়া করার সুযোগ পেয়েছিল। এমনকি  সর্বশেষ ২০২০ সালেও ২৫০ এর অধিক শিক্ষার্থী ষষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিল। করোনা মহামারির এ বছরে কর্তৃপক্ষ মাত্র ১১৩ জন শিক্ষার্থীকে ষষ্ঠ শ্রেনীতে পড়া লেখার সুযোগ দিলেন। বিদ্যালয়টিকে সরকার জনস্বার্থে ও জনকল্যানে সরকারি করেছেন যাতে এলাকার গরিব, অসহায় ও ঝড়ে পড়া বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীরা শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়। বিষয়টি বিবেচনার জন্য তিনি আহবান জানিয়েছেন।

অন্য খবর  ঢাকা জেলা বিএনপি’র প্রেস রিলিজঃ সুজনের দ্রুত মুক্তি দাবী

উল্লেখ্য ২০২০ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ৩টি শ্রেনী শাখায় ৮০ জন করে তিনটি শাখায় ২৪০ জনের অধিক ভর্তি করেছিল। ২০১৯ সাল ও তার পূর্বের বছর গুলোতে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর ৫টি শাখায় প্রায় ৪৫০-৫০০ ভর্তি করেছিল স্কুলটি। এবার ২০২১ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ভর্তির সুযোগ পেলো ১১৩ জন। এছাড়া, সরকারিকরণের প্রক্রিয়ায় পরিদর্শন প্রতিবেদনে ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে ৫টি শাখায় চার শতাধিক শিক্ষার্থী দেখানো হয়েছিল।

যদিও বর্তমানে শ্রেনী শাখার ব্যাপারে সরকারের অনুমতি নাই কিন্ত স্কুলে পর্যাপ্ত কক্ষ ও শিক্ষক আছে। জনস্বার্থে ঐতিহ্যবাহী ও সরকারি স্কুল হিসেবে যেন বেশি সংখ্যক ছাত্র পড়া-লেখার সরকারী সুযোগ পায়, সেই বিষয়টি বিবেচনার জন্য স্কুল কতৃপক্ষ ও এমপি’র সহযোগীতা কামনা করেছেন অভিভাবকেরা।

মন্তব্য