স্বাস্থ্যখাতে আরও ৫ হাজার ডাক্তার নেওয়া হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা একটা অথৈ সাগরের ভেতরে সাঁতার কাটছি। তবুও আল্লাহর রহমতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার ডাক্তার নেব। আরও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছি। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ১৪ জন চিকিৎসক নতুন দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে ছয়জন যোগদান করেনি। দুইজন কনসালটেন্ট দেওয়া হয়েছে। আরও যা লাগবে আমরা আমরা দেব।

তিনি আরও বলেন, সারা বাংলাদেশে যে ডেপুটেশন ছিল এগুলো আমরা বাতিল করতেছি। এখানেও একজন নারী ডাক্তার দুই মাস ধরে আসেন না। খবর পেয়েছি তিনি অন্য জায়গায় প্রাক্টিস করেন। তাকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছে, এর মধ্যে তিনি এখানে যোগদান না করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিছু কিছু কাজ আমরা করছি। ১৭ বছরের জঞ্জাল তো একবারে শেষ করতে পারবো না।

মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা আসলে একটা টিম। ডাক্তার, নার্স, আয়াসহ অন্যান্য যারা রয়েছে আমরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। আমাদের সমন্বিতভাবে দেশটাকে গড়তে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি। এটা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি। আমরা স্বাস্থ্যসেবাকে প্রত্যেকটা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। বিনা চিকিৎসায় কাউকে মরতে দিতে চাই না। এই জিনিসগুলো বাস্তবায়িত করার লক্ষে মানুষ যাতে সত্যিকারের সেবা পায়, সেজন্য আমরা সবাইকে মোটিভেট করছি। আর ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের জন্য আমরা ডিসিকে বলেছি।

তিনি বলেন, আমাদের আসার উদ্দেশ্য হাসপাতালের নতুন ভবনটি দেখা, এটা খুব শিগগিরই উদ্বোধন করবো। এটাতে কি কি ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতি লাগবে এগুলো দেখলাম। হাসপাতালের সুপেয় পানি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা আরও আধুনিক করতে হবে, যাতে পানি স্মুথলি চলে যেতে পারে, কোথাও যাতে পানি না জমে। হাসপাতালে একটা ফ্রিজার দিতে হবে। এই বাকি কাজগুলো আমাদের করতে হবে। এগুলো শেষ করে কুষ্টিয়ার সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে হাসপাতালটির ২৫০ শয্যা উদ্বোধন করবেন।

তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে সার্ভিসের ব্যবস্থা দেখলাম। কর্মচারীরা বেতন ঠিক মতো পায় কিনা, তাদের উপস্থিতি ঠিক আছে কিনা, ডাক্তাররা নিয়মিত আসেন কিনা, নতুন পদায়নকৃত ডাক্তাররা ঠিক মতো কাজ করছেন কিনাসহ বিভিন্ন সাইড আমরা দেখলাম। আমি এই হাসপাতালে বাড় ধরনের কোনো নোটেবল ত্রুটি পাইনি।

তিনি বলেন, প্রত্যেক হাসপাতালে আইসিইউ ব্যবস্থা চালুসহ ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছি। আমরা এ বিষয়ে মিটিং করেছি, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শেষ হয়েছে। প্রত্যেকটি জেলায় প্রত্যেকটি হাসপাতালে এমনকি উপজেলা পর্যন্ত গরিব মানুষ যাতে কম টাকায় কিডনি ডায়ালাইসিস করতে পারে, এজন্য আমরা মেশিন ক্রয় করছি। যাতে ঘরের কাছে, থানার কাছে কিডনি ডায়ালাইসিস করতে পারে। গরিব মানুষ কিডনি ডায়ালাইসিস যাতে কম টাকায় করতে পারে এজন্য আমরা এবার বাজেটেও কিডনি ডায়ালাইসিসের টাকা কমিয়ে দিয়েছি। গত সপ্তাহেও ১০টি হাসপাতালে আমরা আইসিইউ দিয়েছি। আমরা যে বাজেট পেয়েছি, ইনশাআল্লাহ পর্যায়ক্রমে আমাদের নেতা তারেক রহমানের নের্তৃত্বে আমরা আমাদের চেষ্টার শেষ পর্যন্ত করবো, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য।

এর আগে সদর হাসপাতালে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, ওয়ার্ডের টয়লেট ও রান্নাঘর দেখতে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনকালে তিনি বিভিন্ন রোগীদের কাছে খোঁজখবর নেন। এ ছাড়া, হাসপাতালের নতুন ভবন তিনি ঘুরে ঘুরে দেখেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে গিয়ে কর্মরত ডাক্তারদের হাজিরা খাতা চেক করেন। পরে বাইরে এসে হাসপাতালে মাস্টাররোলে নিয়োজিত কর্মচারীদের হাজিরা খাতা নিয়ে তারা উপস্থিতি আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করেন। এ ছাড়া, হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও দালালমুক্ত রাখার নির্দেশনা দেন তিনি।

এ সময় জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা : প্রধানমন্ত্রী

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে প্রশ্নোত্তরে লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়। সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করছেন।

সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম রেজা প্রশ্ন রেখে বলেন, আমাদের কৃষি নির্ভর এই বাংলাদেশে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও মেহনতি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের জনগণ কর্তৃক সাদরে গৃহীত আপনার বহুল জনপ্রিয় স্লোগান ‘আই হ্যাব অ্যা প্ল্যান’ কর্মসূচির আওতায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে; এবং উক্ত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে কৃষিতে অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধনে আমরা আশান্বিত হতে পারি কি না?

জবাবে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান কৃষি-বান্ধব সরকারের মূল লক্ষ্যে হলো একটি আত্মনির্ভর, জলবায়ু-সহিষ্ণু, প্রযুক্তি নির্ভর ও কৃষক-কেন্দ্রিক আধুনিক কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে উৎপাদন ও বিপণন হবে সম্পূর্ণ তথ্য চালিত, আমাদের প্রান্তিক কৃষক হবেন ক্ষমতায়িত উদ্যোক্তা এবং কৃষিখাত হবে জাতীয় সমৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি।

কৃষিক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে বলেন, কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকদের ইউনিক পরিচয় নিশ্চিতকরণে ন্যায্য মূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, স্বল্প মূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রদানের লক্ষ্যে ১৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে এ কার্যক্রম সম্পাদন করা হচ্ছে। অদ্যাবধি ২০,৮৩২টি কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্যখাতে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সম্পূর্ণ মওকুফ করেছে। এ লক্ষ্যে সরকার চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৫৬৭.৯৬ (এক হাজার পাঁচশত সাতষট্টি কোটি ছিয়ানব্বই লক্ষ) কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করেছে এবং এর ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবে।

সরকার দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন/পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর ফলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, জলাবদ্ধতা নিরসন হবে, সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে।

ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি এবং এমওপি সার অত্যন্ত সুলভ মূল্যে সরাসরি কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, বিএডিসির মাধ্যমে উচ্চফলনশীল ও জলবায়ু সহনশীল বীজের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান ও গম সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং দেশব্যাপী ‘কৃষকবাজার’ স্থাপন করা হচ্ছে।

কৃষিখাতে সেন্সর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT) এবং ড্রোনের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করছে।

টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল প্রশ্ন রেখে বলেন, ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আদেশ পৃথিবীর অন্যতম একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোের মধ্যে অন্যতম। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা এবং বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর আবার লক্ষ্যে সরকার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কি না?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভৌগোলিক অবস্থান, ঘনবসতি, বিস্তৃত নদ-নদী ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় বৈশিষ্ট্যের বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, আকস্মিক বন্যা, নদীভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, বজ্রপাত, তাপ ও লবণাক্ততার মতো দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অবকাঠামো, পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা পানি সম্পদ খাতে বহুমুখী কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। তন্মধ্যে- পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন; তিস্তা মহাপরিকল্পনা; নদীভাঙন রোধ; বন্যায় সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ; এবং কৃষিজমিতে লবণাক্ততা হ্রাসকরণ অন্যতম।

গত ১৩ মে ৩৪,৩৪৭ (চৌত্রিশ হাজার তিন শত সাতচল্লিশ) কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প ১ম পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানি সংরক্ষণপূর্বক পানির প্রবাহ বৃদ্ধি করে পদ্মানির্ভর এলাকায় নদী সিস্টেমকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে। এছাড়া, দক্ষিণাঞ্চলের লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ হ্রাস, সুন্দরবন ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য পুনরুদ্ধার, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা হ্রাস, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভবপর হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে এবং দেশের জিডিপিতে শতকরা ০.৪৫ (শূন্য দশমিক পঁয়তাল্লিশ) ভাগ অতিরিক্ত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

অধিকন্তু, ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহার বৃদ্ধি, সেচ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিসহ পরিবেশ প্রতিবেশ উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।

এছাড়া, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিম্নরূপ-

আগামী ৫ (পাঁচ) বছরে দেশে ২৫ (পঁচিশ) কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও জাতীয় পর্যায়সহ সারাদেশে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে এবং তিন মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট কর্তৃক জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রশিক্ষণ ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেমন– প্রায় উপকূলীয় জেলাগুলোতে গ্রামীণ প্রাকৃতিক জলাধার গড়ে তোলা হবে যাতে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে পানীয় জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, নাসির উদ্দিন আহমেদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তৃতীয় ধাপে শ্রীমঙ্গল উপজেলার নির্জাপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ৩১০ জন উপকারভোগীর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীরা মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরাসরি ভাতার অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে উপকারভোগীদের নির্ধারিত হিসাবে ভাতার অর্থ পৌঁছে যায়। কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলো প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৫৫ জন নারীর হাতে প্রতীকীভাবে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এ ছাড়া বিশেষ সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস ও জন্মগত হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক অনুদান, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ সহায়তা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন অনুদান, শিক্ষার্থীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা এবং চা-শ্রমিকদের জন্য টেকসই আবাসনের বরাদ্দপত্র বিতরণ করা হয়।

ফ্যামিলি কার্ডের উপকারভোগী রেসনা বেগম, নাসিমা বেগম ও লাভলী আক্তার বলেন, এই সহায়তা তাদের পরিবারের ব্যয় নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা এই উদ্যোগের জন্য সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে সরকার ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রথম ধাপ উদ্বোধনের পর দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম রাজশাহীর পবা উপজেলায় অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় ধাপের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে মৌলভীবাজার থেকে শুরু হলো।

এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সড়কপথে শ্রীমঙ্গলে আসেন। তাঁর আগমন উপলক্ষে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে উপকারভোগী ও নেতা-কর্মীরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হন।

২০২৭ সালে শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার শুরু করব: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘আমরা ২০২৭ সালে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার শুরু করব এবং ২০২৮ সালে একাডেমিক সিলেবাস হালনাগাদ করা হবে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশের জন্য শুধু পাঠ্যক্রম নয়, বিতর্ক ও খেলাধুলাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। একাডেমিক কাঠামোর মধ্যেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘ইউনেসকো কমিশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। অতীতে এ খাতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা ধাপে ধাপে এ বরাদ্দ বৃদ্ধি করছি। আগামী বছর তা ৩ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ৪ শতাংশ এবং ৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া হবে।’

শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীতের পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

দেশের শিক্ষাব্যবস্থার অতীত পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেছিলেন, তিনি উপাচার্যের চেয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি থাকতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এটি কি জাতির জন্য লজ্জাজনক নয়? শিক্ষার জন্য লজ্জাজনক নয়? তারা একটি প্রজন্মকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। সেখান থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি।

বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা যে নেতৃত্ব পেয়েছি, এমন নেতৃত্ব বারবার পাওয়া যায় না। দায়িত্ব পাওয়ার পর এমন কোনো দিন ছিল না, যেদিন আমি ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েছি। দেশের উন্নয়ন ও শিক্ষার অগ্রগতির জন্য সবাই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ও গবেষণায় উৎকর্ষ অর্জনের জন্য আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি ও মূল্যায়ন ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন উৎকর্ষ পুরস্কার ও মানোন্নয়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হাদি হত্যা: অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়ে ২৮ জুন

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবার পিছিয়ে ২৮ জুন ধার্য করা হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই তারিখ ধার্য করেন।

রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা এই মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল আজ। কিন্তু তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত তারিখ পিছিয়ে নতুন তারিখ ধার্য করেন। এই নিয়ে সিআইডি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ১৬ বার সময় পেল।

আদালতের পল্টন থানার সাধারণ নিবন্ধন কার্যালয়ের এএসআই মামুন হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। ওই দিন আদালতে নারাজি দাখিল করেন মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। নারাজি দিয়ে অধিকতর তদন্তের দাবি করেন বাদী।

নারাজি আবেদনে মামলার বাদী দাবি করেন হাদি হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী শনাক্ত হয়নি। এমনকি মূল রহস্যও উদ্‌ঘাটিত হয়নি।

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটভুক্ত ১৭ আসামির মধ্যে বর্তমানে ১১ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। প্রধান আসামি ফয়সালসহ ছয়জন পলাতক রয়েছেন। অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি নতুন করে দুজনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে রুবেল নামের একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হাদিকে হত্যার অস্ত্র সরবরাহের জন্য চট্টগ্রামের অস্ত্র ব্যবসায়ী মাজেদুল হক হেলালকেও আটক করা হয়েছে। হেলালও আদালতে জবানবন্দি দিয়ে অস্ত্র সরবরাহের কথা স্বীকার করেছেন। এই মামলায় মোট ১৩ জন কারাগারে আছেন।

গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ আদায় করে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন শহীদ ওসমান হাদি। এরপর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে ওই দিন বেলা ২টা ২০ মিনিটে হাদিকে বহনকারী অটোরিকশা পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁকে গুলি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অপারেশন শেষে এভারকেয়ার পাঠানো হয়।

পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

হিজরি ১২ মাসের নামকরণের ইতিহাস

হিজরি সন বা ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাসের নামের পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস, আরবদের প্রাচীন সংস্কৃতি প্রকৃতির বৈচিত্র্য। চান্দ্রবর্ষের ঘূর্ণনশীল নিয়মের কারণে ঋতু পরিবর্তন হলেও এই নামগুলো এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। একই সঙ্গে মুসলমানদের ধর্মীয় ইবাদত শরিয়তের বিভিন্ন বিধান পালনে এই বর্ষপঞ্জির গুরুত্ব অপরিসীম।

মুহাররম

এই মাসে সব ধরনের যুদ্ধবিগ্রহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বা হারাম ছিল বলে এর নাম রাখা হয়েছে মুহাররম। মুফাসসিরদের মতে, পবিত্র কোরআনের সূরা তাওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে যে চারটি যুদ্ধনিষিদ্ধ পবিত্র মাসের কথা বলা হয়েছে, মুহাররম তার অন্যতম।

সফর

সফর শব্দের অর্থ শূন্য বা খালি। আরবরা যখন যুদ্ধের জন্য মক্কা ছেড়ে চলে যেত, তখন তাদের ঘরবাড়ি একদম জনশূন্য বা খালি হয়ে পড়ত। এই জনমানবহীন শূন্যতা থেকেই মাসটির নাম হয়েছে সফর।

রবিউল আউয়াল

হিজরি ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করার সময় এই মাসটি পড়েছিল চমৎকার বসন্ত ঋতুতে। আরবিতে রবি শব্দের অর্থ বসন্ত। যদিও চান্দ্রবর্ষের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছর এই মাসটি একই ঋতুতে থাকে না, তবুও প্রথম বসন্তের মাস হিসেবে এর নাম রবিউল আউয়ালই রয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

রবিউস সানি

রবিউল আউয়ালের মতো এই মাসটিও তৎকালীন সময়ে বসন্ত ঋতুতেই পড়েছিল। রবিউল আউয়ালের ঠিক পর পরই এর অবস্থান হওয়ায় একে রবিউস সানি বা দ্বিতীয় বসন্তের মাস বলা হয়।

জমাদিউল আউয়াল

নাম নির্ধারণের সময় এই মাসটি এসেছিল তীব্র শীতের মৌসুমে। সে সময় শীতের প্রকোপে পানি জমে বরফ হয়ে যেত। আরবি জামাদ বা জুমাদা শব্দের অর্থ জমে যাওয়া। সেই জমাট বাঁধা শীতের প্রথম মাস হিসেবে এর এই নামকরণ।

জমাদিউস সানি

জমাদিউল আউয়ালের মতো এটিও শীতেরই মাস এবং এর ঠিক পরেই এর অবস্থান। শীতের তীব্রতায় পানি জমে যাওয়ার দ্বিতীয় মাস হিসেবে একে জমাদিউস সানি বলা হয়।

রজব

এটিও একটি যুদ্ধনিষিদ্ধ পবিত্র মাস। প্রাচীন আরবরা এই মাসে যুদ্ধের সব ধরনের প্রস্তুতি বন্ধ রাখত, এমনকি বল্লমের মাথা থেকে ধারালো ফলা বা নাল খুলে রাখত যাতে কেউ যুদ্ধ করতে না পারে। এই সম্মান ও যুদ্ধবিরতি থেকেই এর নাম রাখা হয়েছে রজব।

শাবান

এই মাসের নামকরণের পেছনে দুটি মত রয়েছে। কেউ বলেন, তীব্র গরমে পানির সন্ধানে আরবরা এই মাসে চারিদিকে ছড়িয়ে বা বিভক্ত হয়ে পড়ত। আবার কারো মতে, পবিত্র রজব মাসে যুদ্ধ বন্ধ থাকার পর এই মাস শুরু হতেই আরবরা আবার যুদ্ধের জন্য বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে মাঠে নামত। এই ছড়িয়ে পড়া বা বিভক্ত হওয়া থেকেই নাম হয়েছে শাবান।

রমজান

 রমজান শব্দটি এসেছে রমদা থেকে, যার অর্থ প্রচণ্ড উত্তাপ বা তীব্র গরম।মাসগুলোর নাম নির্ধারণের সময় এই মাসটি প্রচণ্ড গরমের মধ্যে পড়েছিল। ইসলাম আগমনের পর এই পবিত্র মাসেই মুসলমানদের জন্য সিয়াম বা রোজা পালন ফরজ করা হয়।

শাওয়াল

মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর এই মাসেই উদযাপিত হয়। আরবরা লক্ষ্য করেছিল, এই সময়ে উটের দুধ শুকিয়ে যেত এবং ওজনে কম হতো। উটের দুধ কমে যাওয়া বা শুকিয়ে যাওয়ার এই অবস্থাকে আরবিতে শওলান বলা হতো, যা থেকে পরবর্তীতে শাওয়াল নামের উৎপত্তি।

জিলকদ

এটি ইসলামের চার পবিত্র ও যুদ্ধনিষিদ্ধ মাসের প্রথম মাস। এই মাসে আরবরা যুদ্ধবিগ্রহ, ভ্রমণ ও দূরদূরান্তে যাতায়াত বন্ধ করে ঘরে বসে থাকত বা শান্ত হয়ে থিতু হতো। এই বসে থাকা বা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকা থেকেই মাসটির নাম রাখা হয় জিলকদ।

জিলহজ

ইসলামপূর্ব যুগেও আরবরা এই মাসে পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত বা হজ করতে যেত। হজ পালনের এই মাসটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও যুদ্ধনিষিদ্ধ। হজের মাস হওয়ার কারণেই এর নাম রাখা হয়েছে জিলহজ।

ধর্মীয় বিষয়ে হিজরি সনের গুরুত্ব

ইসলামি শরিয়তের বহু গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও হুকুম-আহকাম হিজরি সনের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল। বিবাহবিচ্ছেদের পর নারীদের ইদ্দত পালনের সময়সীমা এবং স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা নারীর ইদ্দতের দিন গণনা করা হয় এই হিজরি বা চান্দ্রবর্ষের হিসাবে। এছাড়া ধনীদের ওপর জাকাত ফরজ হওয়ার জন্য সম্পদের এক বছর পূর্ণ হওয়ার হিসাবটিও হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী করতে হয়। এর পাশাপাশি পবিত্র রমজানের রোজা, হজের নির্দিষ্ট সময়, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা এবং পবিত্র আশুরার মতো গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিন ও উৎসবগুলো নির্ধারণে হিজরি সনই একমাত্র ভিত্তি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের নতুন ডিজি আনোয়ারুল নাসের

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মোহাম্মদ আনোয়ারুল নাসেরকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নাসেরকে এই পদে নিয়োগ দিয়ে তাঁর চাকরি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে আজ মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

আনোয়ারুল নাসেরকে আগামী ২২ জুন বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ওই দিন বিকেল থেকে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন।

গত ১২ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ডি এম আতিকুর রহমানকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়েছিল সরকার। তাঁর পরিবর্তে ওই পদে মোহাম্মদ আনোয়ারুল নাসেরকে নিয়োগ দিল সরকার।

পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলিমদের জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে ভারত: হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

ভারতের কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের মৌলিক বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মূলত বাঙালি মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে পাঠাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এই তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) এসব পদক্ষেপ এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ডের (বিজিবি) প্রবেশ ঠেকানোর কার্যক্রম মিলিয়ে দুই দেশের মাঝামাঝি ‘শূন্য রেখা’য় বহু পরিবার আটকে পড়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা জানিয়েছে—২০২৬ সালের ১ জুন থেকে এখন পর্যন্ত তারা বিএসএফের ২১টি চেষ্টা ব্যর্থ করেছে। এসব প্রচেষ্টায় শিশুসহ ২ শতাধিক মানুষকে বাংলাদেশের সীমান্ত জেলাগুলোতে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে তাদের মৌলিক মানবাধিকার উপেক্ষা করে নিষ্ঠুরভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে বা সীমান্তে আটকে রাখছে। সরকারকে অবৈধভাবে মানুষ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে, প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নাগরিকত্ব যাচাই করতে হবে এবং মুসলিমদের প্রতি এই উদ্বেগজনক বৈরিতা বন্ধ করতে হবে।’

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মোট নয়জন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তাঁরা দেখেছেন কীভাবে ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী রাতে একদল মানুষকে সীমান্তে নিয়ে আসে এবং কাঁটাতারের বেড়ার ফাঁক দিয়ে তাদের বাংলাদেশি ভূখণ্ডে ঠেলে দেয়। কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীরা প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা শেষ পর্যন্ত তাদের আবার ফিরে যেতে দেয়।

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা পঞ্চগড়ে সাক্ষীরা জানিয়েছেন, ৫ জুন বিএসএফ শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে ৭৫ ঘণ্টার এক টানাপোড়েন তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন (৩৫) বলেন, ‘দলটি বাংলাদেশের ভূখণ্ডের প্রায় ৫০ ফুট ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। স্থানীয়রা বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীদের খবর দেয় এবং বাহিনী আসার পর তারা পিছু হটে একটি বাঁধের ওপর ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ অবস্থান নেয়।’

তিনি বলেন, প্রথম রাতে ওই আটকে পড়া দলটি ভয়াবহ বজ্রপাত ও ভারী বৃষ্টির মধ্যে পড়ে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা দ্বিতীয় দিন কিছু শুকনো খাবার দেয়। রুবেল বলেন, ‘আমি যা দেখেছি তা ছিল এক ধরনের যুদ্ধের মতো পরিস্থিতি, যেখানে বিএসএফ ও বিজিবি উভয় বাহিনীর বড় ধরনের মোতায়েন ছিল। সীমান্তে একাধিক ‘পতাকা বৈঠক’ (দুই বাহিনীর স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনা) ব্যর্থ হয়, পরে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত দলটিকে ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’

গত ৬ জুন ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীরা দুটি বাঙালি মুসলিম পরিবারের ছয়জন সদস্যকে—তিন পুরুষ, দুই নারী ও একটি শিশুসহ—বাংলাদেশের তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের দিকে ঠেলে দেয়। বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীরা তাদের প্রবেশ আটকায়, কিন্তু ভারতীয় বাহিনী তাদের আবার ভারতে ফেরত যেতে দেয়নি, ফলে পরিবারগুলো সীমান্তেই আটকে পড়ে। পরে তারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটানোর পর ভারতীয় পক্ষ তাদের ফেরত নেয়।

এরপর, গত ৮ জুন বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষীরা জানায়, বিএসএফ এক গর্ভবতী মা ও তাঁর শিশুসহ মোট ১১ জনকে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ‘শূন্য রেখায়’ আটকে থাকার পর আবার ভারতে ফিরিয়ে নেয়। শূন্য রেখা হলো দুই দেশের সীমান্ত বরাবর অত্যন্ত সংকীর্ণ ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ এলাকা।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই ভারতের নির্বাচন কমিশন দ্রুত ও বিতর্কিতভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন করে, যেখানে ৯০ লাখেরও বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। এতে ব্যাপকভাবে আটক ও বহিষ্কারের হুমকি তৈরি হয়। এর আগেই ২০১৯ সালে ভারতের আসাম রাজ্যে একটি ত্রুটিপূর্ণ ও বৈষম্যমূলক নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়ার ফলে ১৯ লাখেরও বেশি মানুষ রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে হাজার হাজার বাঙালি ভাষাভাষী মানুষকে আটক শিবিরে রাখা হয়েছে, এবং অনেককে অবৈধভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আসামের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাজ্যে বসবাসকারী বাংলাভাষী মুসলমানদের বারবার আক্রমণ করে তাঁদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে অভিহিত করেছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘আমরা তাঁদের সীমান্তের কাছাকাছি একটি সুবিধাজনক স্থানে নিয়ে যাই এবং সত্যি বলতে তাঁদের জোর

বাংলাদেশের পঞ্চগড় সদর উপজেলার একটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাসিবুর ইসলাম জানান, তিনি পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে আসা একটি পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ওই পরিবারটি তাঁর কাছে জানায়, তাঁদের কাছে ভারতের বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র আধার কার্ড ছিল।

কিন্তু ভোটার তালিকার সংশোধিত তালিকায় তাঁদের নাম না থাকায় পুলিশ তাঁদের আটক করে এবং পরে সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়, যারা তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। তিনি বলেন, ‘পরিবারের সবচেয়ে বয়স্ক সদস্য চারবার ভোট দিয়েছেন। কিন্তু এ বছর তাঁদের কেউই ভোট দিতে পারেননি—তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।’ পরে ওই পরিবারটি সীমান্তে তিন দিন আটকে থাকার পর আবার ভারতে ফিরে যেতে সক্ষম হয়।

ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, বহু বাংলাদেশি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছে এবং তাঁদের স্বেচ্ছায় দেশে ফেরাতে সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে। তবে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, সত্যিকারের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন, এমনকি সহায়তাসহ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কিন্তু ভারত জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন বা জোর করে বহিষ্কার করা উচিত নয়। পাশাপাশি কিছু সাক্ষাৎকারে যেভাবে অভিযোগ উঠেছে, তেমনভাবে মানুষকে তাঁদের নথিপত্র, অর্থ ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র থেকে বঞ্চিত করাও উচিত নয়।

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকায় শত শত কথিত অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই মুসলিম, তবে কিছু হিন্দুও আছেন। এক ভারতীয় অধিকারকর্মী জানান, সীমান্ত এলাকায় হোল্ডিং সেন্টারে আনুমানিক ৪০০ জনকে আটক রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনেককে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পরই আটক করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়াটাই এখন গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের ট্রিগার হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি ব্যাপক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে। ”

বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সীমান্ত দিয়ে ঠেলে পাঠানো মানুষকে গ্রহণ করবে না। তাদের অবস্থান হলো, প্রত্যাবাসন হতে হবে যথাযথ যাচাই এবং প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে।

ভারত আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদ এবং জাতিগত বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের অধীনে বাধ্য, যেখানে বলা হয়েছে—জাতি, বর্ণ, বংশ বা জাতীয়/জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা যাবে না এবং সবার মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে আটক ও বহিষ্কার করা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন। খাবার, পানি, আশ্রয় বা চিকিৎসা ছাড়া মানুষকে ফেলে রাখা নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণের শামিল হতে পারে। ভারত সরকারের উচিত বহিষ্কারের ক্ষেত্রে প্রতিটি ব্যক্তিকে মৌলিক প্রক্রিয়াগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এর মধ্যে রয়েছে বহিষ্কারের কারণ সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য পাওয়া, আইনজীবীর সহায়তা পাওয়া এবং বহিষ্কার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ।

সংস্থাটি আরও বলেছে, শিশুদের বহিষ্কার বা সীমান্তে আটকে রাখা শিশু অধিকার সনদের লঙ্ঘন, যেখানে বলা হয়েছে রাষ্ট্রকে শিশুদের জাতীয়তা রক্ষার অধিকারকে সম্মান করতে হবে এবং তাদের স্বেচ্ছাচারীভাবে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়া রয়েছে, যেখানে জাতীয়তা যাচাই এবং নাগরিকদের সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এসব প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ দুই সীমান্ত বাহিনীর মাঝখানে আটকে পড়ছে, যা মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের পরিস্থিতি তৈরি করছে—এমনটাই বলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মীণাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘জাতীয়তা যাই হোক না কেন, কাউকে দুই সারি সশস্ত্র সীমান্তরক্ষীর মাঝখানে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য করা উচিত নয়। ভারতকে এই নির্মম বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং দুই সরকারকেই নিশ্চিত করতে হবে যেন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আর কখনো মৌলিক মানবিক মর্যাদার মূল্য দিয়ে না হয়।’

বিশ্বকাপের প্রথম হ্যাটট্রিকে জানান দিলেন ‘এখনো তিনিই রাজা

মাঠে নামার আগে তাকে ঘিরে ছিল অসংখ্য প্রত্যাশা। আর সেই প্রত্যাশার প্রতিদান দিলেন দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক উপহার দিয়ে। আসরের প্রথম হ্যাটট্রিক করে নিজের অবস্থান আরও একবার স্পষ্টভাবে জানান দিলেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। ১৭ মিনিটে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন মেসি। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠেন তিনি। ৬০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার পর ৭৬ মিনিটে নিজের তৃতীয় গোল করে পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক।

মেসির অসাধারণ নৈপুণ্যে ভর করে প্রতিপক্ষকে পুরো ম্যাচজুড়ে চাপে রাখে আর্জেন্টিনা। তার নেতৃত্বে দল আক্রমণ ও বল দখলে আধিপত্য দেখিয়ে সহজেই জয় নিশ্চিত করে।

এই হ্যাটট্রিক শুধু ম্যাচের ফলই নির্ধারণ করেনি, বরং আসরের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে মেসির নামও সামনে নিয়ে এসেছে।

এর আগে, রাতের দুটি ম্যাচে ফ্রান্স ও নরওয়ের হয়ে জোড়া গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হ্যালান্ড। তরুণ ওই তুর্কিদের ছাপিয়ে গিয়ে মেসি যেন বার্তা দিলেন, তিনি এখনো তরুণদের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। টুর্নামেন্টের প্রথম হ্যাটট্রিক করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বয়স শুধু একটি সংখ্যা, বড় মঞ্চে এখনো তিনিই অন্যতম প্রধান তারকা।

ম্যাচ শেষে দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর সতীর্থদের অভিনন্দনে ভাসেন মেসি। তার এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে শিরোপার স্বপ্ন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনার জন্য।

হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত্যু ৬৫৭

হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯ মাসের শিশুসন্তান। শোকে স্তব্ধ বাবা। মায়ের কান্না।

হামের উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) দেশে এক শিশু মারা গেছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৪২ জন।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্যগুলো জানানো হয়েছে। হামের উপসর্গে শিশুটি খুলনায় মারা গেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৫৬৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৯৩ শিশু। মোট ৬৫৭ শিশু মারা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৮৭ হাজার ৯২৯ শিশুর। আর এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১০ হাজার ৫২৩ শিশু। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৭২ হাজার ৪০৫ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৬৮ হাজার ৭৮২ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩৬ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৯৩৮ জন। আর সুস্থ হয়েছে ৯০৪ জন।