রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ (রবিবার, ৭ জুন) ঘোষণা করা হবে। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত এ রায় দেবেন।
গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন। মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে তদন্ত, চার্জশিট, অভিযোগ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ায় মামলাটি দ্রুততম বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি নজির হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীতে ঘটনাটি ঘটে। ওই রাতেই রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়।
ঘটনার চার দিনের মাথায়, ২৪ মে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন। চার্জশিটে ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। একই দিন মামলাটি বিচারের জন্য শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হলে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন এবং অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন নির্ধারণ করেন।
ঈদের ছুটির পর ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। পরদিন ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে সাক্ষ্য পর্ব সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের দিন নির্ধারণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানান। অন্যদিকে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ সোহেল রানার জন্য সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন এবং স্বপ্না আক্তারের ক্ষেত্রে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে শাস্তি প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে তাকে হত্যার পর মরদেহ নিজ বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকেই হেফাজতে নেওয়া হয়।
