নিজস্ব প্রতিবেদক: হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। এটি কেবল একটি ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একজন মুসলমানের আত্মিক উন্নয়ন ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ। তাই হজের সফরকে সফল ও কবুলযোগ্য করতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আদব ও করণীয় মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন আলেমরা।
তাঁরা বলেন, হজের প্রতিটি আমলের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতা (ইখলাস) ও স্মরণ। মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফাসহ প্রতিটি স্থানে ইবাদতের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। এজন্য প্রতিটি কাজ শুরুর আগে নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা এবং মনোযোগ ধরে রাখা প্রয়োজন।
আলেমদের মতে, হজ কবুল হওয়ার জন্য নবী করিম (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী প্রতিটি আমল সম্পন্ন করা অপরিহার্য। ইহরাম বাঁধা থেকে শুরু করে তাওয়াফ, সাঈ ও পাথর নিক্ষেপ—সব ক্ষেত্রেই সুন্নাহর যথাযথ অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সফরের ক্লান্তি বা ভিড়ের কারণে নামাজে অবহেলা করা যাবে না। যথাসময়ে নামাজ আদায় করা হজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হজের সফরে ধৈর্য ধারণ ও সহনশীলতা প্রদর্শন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ভিড়, গরম ও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও হাসিমুখে সবর করা একজন হাজির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ। এ ছাড়া গুনাহ, ঝগড়া-বিবাদ, গিবত ও পরনিন্দা থেকে বিরত থাকার জন্যও তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সহযাত্রীদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং সম্মান প্রদর্শন হজের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। খরচের ক্ষেত্রে উদারতা দেখানো হলেও অপচয় বা কৃপণতা পরিহার করতে হবে।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পবিত্র কাবার সামনে দাঁড়িয়ে ইবাদতের পরিবর্তে সেলফি তোলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যস্ত থাকা হজের আধ্যাত্মিকতা নষ্ট করে দেয় বলে মত দিয়েছেন আলেমরা।
এ ছাড়া পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, টয়লেট ব্যবহারে সচেতনতা, মতভেদে জড়ানো থেকে বিরত থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা এড়িয়ে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, হজ জীবনে একবারই আসে। তাই এই মূল্যবান সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হওয়া উচিত প্রতিটি হাজির প্রধান লক্ষ্য।
