ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাসের দাবিতে হিড়িক পড়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)।
বুধবার দুপুর পর্যন্ত ৭৬টি আসন থেকে ৬৪৯টি আবেদন জমা পড়লেও বিকালের মধ্যে তা ৭০০ ছাড়িয়ে যায়। সবচেয়ে বেশি আবেদন এসেছে কুমিল্লা ও পিরোজপুর জেলার আসনগুলো থেকে। অনেকেই ২০০১ সালের সীমানা অনুযায়ী আসন পুনর্বিন্যাসের দাবি জানাচ্ছেন, কারণ ২০০৮ সালে আসনভিত্তিক ব্যাপক পরিবর্তনে অনেক আসন বিভক্ত ও পুনর্গঠন হয়।
ইসি সূত্র জানায়, বর্তমানে এক আসন থেকে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে—কখনো ৫০-১০০টি পর্যন্ত—যেখানে কেউ ইউনিয়ন চাচ্ছে, কেউ ওয়ার্ডের সীমানা পরিবর্তনের দাবি তুলেছে।
কমিশন এখনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, জটিল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইন, সংবিধান ও প্রশাসনিক বাস্তবতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আশা করা হচ্ছে, আগামী সপ্তাহে কমিশনের বৈঠকে খসড়া প্রকাশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আসনভিত্তিক জনসংখ্যার ঘনত্ব অনুযায়ী বড় আকারে সীমানা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছিল। তখন ঢাকার আসন ১৩ থেকে ২০টি করা হয়, এবং দেশের অনেক এলাকায় ব্যাপক আসন পরিবর্তন ঘটে। এতে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়ে ইসিতে অভিযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু তৎকালীন কমিশন সেসব আমলে নেয়নি।
বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাসহ সম্ভাব্য প্রার্থীরা সীমানা পুনর্বিন্যাসে স্বচ্ছতা ও ২০০১ সালের সীমারেখা পুনর্বহালের দাবি জানাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন জিআইএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভৌগোলিক অবস্থান, জনসংখ্যা, প্রশাসনিক অখণ্ডতা ইত্যাদি বিশ্লেষণ করে সীমানা নির্ধারণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
