ডেস্ক রিপোর্টঃ ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মালঞ্চ এলাকা এবং মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু থানার রাস্তার পাশে কার্টনের ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় খণ্ডিত একটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর অবশেষে লাশটির পরিচয় মিলেছে। নিহত ব্যক্তির নাম সবুজ (৩০)। তিনি সাভার থানাধীন যাদুরচর গ্রামের ইউনুস মোল্লার ছেলে। নিহতের মামা মহসিন মিয়া লাশটি শনাক্ত করেন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের মেদেনীমণ্ডল খানবাড়ি এলাকার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে আনোয়ার চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে একটি বিশেষ কুকুরের টানাটানির দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে যান। তখনই তারা দেখতে পান একটি কার্টনের ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো রয়েছে মানবদেহের খণ্ডিত অংশ। এরপর তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ বেলা ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে আসে সিআইডি ও পিবিআইয়ের বিশেষজ্ঞ দল। তারা খণ্ডিত লাশের আলামত সংগ্রহ এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। খণ্ডিত অংশে যাতে আলামত নষ্ট না হয়, সেজন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।
এদিকে মুন্সীগঞ্জের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার একটি এলাকায় রাস্তার পাশ থেকে একইভাবে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় আরও কিছু খণ্ডিত মানবদেহ উদ্ধার করা হয়। দুটি স্থানে উদ্ধার হওয়া দেহাংশ একই ব্যক্তির কি না তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করে সিআইডি ও পিবিআই।
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শ্রীনগর সার্কেল) আনিসুর রহমান জানান, “ঢাকার কেরানীগঞ্জে খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের বিষয়টি আমরা জেনেছি। সেখানে কাজ শেষ করে বিশেষজ্ঞ টিম মুন্সীগঞ্জেও তদন্ত শুরু করেছে।”

নিহত সবুজ বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) বিকেল থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। সেদিনই তার পরিবারের পক্ষ থেকে সাভার থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলের পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে পুলিশের একাধিক সংস্থা যৌথভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে। খণ্ডিত দেহাংশ উদ্ধার, প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ এবং পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতে দ্রুতই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
