দোহারে চাইনিজ রেস্তোরার নামে কি হচ্ছে

568

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিউজ ৩৯ ♦ দোহারের অতি পরিচিত এক চাইনিজ রেস্তোরা। ভিতরে সাজানো গোছানো এক একটি খাবারের কেবিন; রুমটা অন্ধোকার আচ্ছন্ন। ভিতরে খাবারের প্রতিটা রুমেই কলেজ ফেরত ছাত্র-ছাত্রীতে পূর্ন। এরা কি শুধু খাবার খেতেই দোহারের এই সব চাইনিজ রেস্তোরাতে আসে, নাকি তার চে’ ‘গুরুত্বপূর্ণ’ কোনো উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রবাসী অধ্যুসিত অঞ্চল দোহার-নবাবগঞ্জ। প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থের কারনে বাংলাদেশের অন্যান্য যেকোন অঞ্চলের তুলনায় দোহার নবাবগঞ্জ উপজেলার জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত। আর সেই কারনেই দোহার-নবাবগঞ্জে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন উন্নত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান। এর মধ্য অন্যতম এক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে চাইনিজ রেস্তোরা। দোহার-নবাবগঞ্জের বিখ্যাত স্কুল-কলেজগুলোকে উদ্দেশ্য করে গড়ে উঠেছে এই সব প্রতিষ্ঠান।

কারা এই চাইনিজ রেস্তোরা গুলোর মুল ক্রেতা। নিউজ ৩৯ এর অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এই চাইনিজ রেস্তোরা গুলোর ভিতরের চালচিত্র ও অন্ধোকার ‘প্রাইভেট রুমে’র ভিতরের খবর।

তথ্য-প্রযুক্তির উন্নতির সাথে সাথে মানুষের জীবন-যাত্রা, আচার আচরণ সব কিছু পরিবর্তিত হয়ে গেছে। তাছাড়া বিদেশি টিভি চ্যানেলগুলো মানুষকে নিয়ে যাচ্ছে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের দিকে। দোহারের জয়পাড়াতে চাইনিজ রেস্তোরা গুলোতে ঢুকলে বুঝা যায় মূল্যবোধের কতখানি অবনত হয়েছে আমাদের।

রেস্তোরাগুলোতে খাবারের ঘরের নামে প্রাইভেট রুম গুলোতে চলছে অবাধ অসামাজিক কার্যক্রম। দেখেও কেউ দেখার নেই।

উঠতি বয়সের স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই চাইনিজ রেস্তোরা গুলো হয়ে উঠেছে প্রেম করার নিরাপদ জায়গা। কেউ বিরক্ত করবে না যে এই নিশ্চয়তা আছে। নেই কোন পরিচিত আত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে দেখা হবার ভয়। যার ফরে নিরাপদেই এই সব চাইনিজে চলছে এই সব অসামাজিক কার্যক্রম। প্রতিনিয়তই ঘটছে এই সব চাইনিজে শ্লীলতাহানীর ঘটনা। কিন্তু কেউ কেউ জেনেও না জানার ভান করে আছে।

এই ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জয়পাড়া কলেজের এক ছাত্র বলেন, “আসলে চাইনিজ রেস্তোরাতে ছাত্র-ছাত্রী বা উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীরা খাওয়া দাওয়া করতে যায় না। আসলে তারা নিজেদের পারস্পরিক চাহিদা মেটাতে চাইনিজ রেস্তোরা গুলোতে যায়।“

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ছাত্র বলেন, “বর্তমানে চাইনিজ রেস্তোরাগুলো আসলে দেহ-ব্যবসার আখড়ায় পরিনত হয়েছে। রেস্তোরাতে নিরাপদে এই সব কাজ কর্ম করা যায়।“

আর এভাবেই নৈতিক অবক্ষয়ের শিকার হচ্ছে এই অঞ্চলের যুবক-যুবতী ও উঠতি বয়সের ছাত্র-ছাত্রীরা। এছাড়া পরকীয় সহায়ক এই রেস্তোরাগুলোর সংসার ভাংতেও ভূমিকা রাখছে।

এই সমস্যার অতি দ্রুত সমাধান করা দরকার, না হলে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ খুবই অন্ধকার।

Comments

comments