ভিসা ছাড়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বর্তমানে (ফেব্রুয়ারি ২০২৪) ৪২ টি দেশে প্রবেশ করা যায়। কিছু দেশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য (যেমন ৩০ দিন) অন্য দেশের নাগরিকদের ভিসা ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দেয়। শুধু পাসপোর্ট নিয়ে গেলেই হয়। এই ব্যবস্থা “ভিসা ফ্রি” নামে পরিচিত। যেমন, বাংলাদেশি নাগরিকরা ৯০ দিনের জন্য থাইল্যান্ড ভ্রমণের জন্য ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন।
কোন দেশের পাসপোর্ট নিয়ে কতগুলো দেশে প্রবেশ করা যায় তা সেই পাসপোর্টের শক্তিমত্তা প্রকাশ করে। এর ভিত্তিতে হেনলে গ্লোবাল নিয়মিত র্যাংক প্রকাশ করে থাকে। ৪২ টি ভিসা ফ্রি নিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ব তালিকায় উত্তর কোরিয়ার সাথে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে আছে। এই ৪২ টি দেশের মধ্যে ১৮টি দেশে পৌঁছে ভিসা নিতে হবে মানে ভিসা অন এরাইভাল (VOA).
ভিসা ছাড়া বাংলাদেশি পাসপোর্ট দিয়ে যেতে পারবেন যেসব দেশে:
| এশিয়া | দেশ | |
| ১ | ভুটান | ১৪ দিন |
| ২ | ক্যাম্বোডিয়া | VOA- ৩০ দিন |
| ৩ | মালদ্বীপ | VOA- ৩০ দিন |
| ৪ | নেপাল | VOA- ১৫০ দিন |
| ৫ | শ্রী লংকা | ৩০ দিন |
| ৬ | তিমুর-লিস্তে | VOA- ৩০ দিন |
| আফ্রিকা | ||
| ৭ | বুরুন্ডি | VOA- ৩০ দিন |
| ৮ | কেপ ভার্দে দ্বীপপুঞ্জ | VOA |
| ৯ | কমরোজ দ্বীপপুঞ্জ | VOA- ৪৫ দিন |
| ১০ | জিবুতি | VOA- ৯০ দিন |
| ১১ | গিনি-বিসাউ | VOA |
| ১২ | কেনিয়া | |
| ১৩ | লেসোথো | |
| ১৪ | মাদাগাস্কার | ৯০ দিন |
| ১৫ | মৌরিতানিয়া | VOA |
| ১৬ | মোজাম্বিক | VOA |
| ১৭ | রোয়ান্ডা | ৩০ দিন |
| ১৮ | টোগো | VOA- ১৫ দিন |
| ১৯ | সেশেলস | VOA- ৯০ দিন |
| ২০ | সিয়েরা লিওন | VOA- ৩০ দিন |
| ২১ | সোমালিয়া | VOA |
| ২২ | গাম্বিয়া | ৯০ দিন |
| ক্যারিবিয়ান | ||
| ২৩ | বাহামা দ্বীপপুঞ্জ | ৯০ দিন |
| ২৪ | বার্বাদোজ | ১৮০ দিন |
| ২৫ | ডমিনিকা | ১৮০ দিন |
| ২৬ | গ্রেনাডা | ৯০ দিন |
| ২৭ | হাইতি | ৯০ দিন |
| ২৮ | মন্টেসেরাত | |
| ২৯ | জ্যামাইকা | |
| ৩০ | ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ | |
| ৩১ | সেন্ট কিটস ও নেভিস | ৯০ দিন |
| ৩২ | সেন্ট ভিন্সেন্ট ও গ্রেনাডাইনস | ৯০ দিন |
| ৩৩ | ত্রিনিদাদ ও টোবাগো | |
| দক্ষিণ আমেরিকা | ||
| ৩৪ | বলিভিয়া | VOA |
| প্রশান্ত মহাসাগরীয় | ||
| ৩৫ | কুক দ্বীপপুঞ্জ | |
| ৩৬ | ফিজি | ১২০ দিন |
| ৩৭ | কিরিবাতি | ৯০ দিন |
| ৩৮ | মাইক্রোনেশিয়া | ৩০ দিন |
| ৩৯ | নিউই | |
| ৪০ | সামোয়া | VOA |
| ৪১ | তুভালু | VOA- ৩০ দিন |
| ৪২ | ভানুয়াতু | ৩০ দিন |
এছাড়া অনলাইনে ই-ভিসা (E-Visa) নিয়ে যাওয়া যায় ২২ টি দেশে:
ই-ভিসা হল অনলাইনে আবেদন করে বা ফরম পূরণ করে অনলাইনেই ভিসা পাওয়া। এর সুবিধা হল ভিসা নিতে দূতাবাসে যেতে হয় না, ঘরে বসে আবেদন করা যায় ও পাওয়া যায়।
১. আলবেনিয়া
২. এন্টিগুয়া ও বার্বুদা
৩. আজারবাইজান
৪. কলম্বিয়া
৫. ইথিওপিয়া- ৯০ দিন
৬. গ্যাবন- ৯০ দিন
৭. জর্জিয়া
৮. গিনি-৯০ দিন
৯. মালয়শিয়া- ৩০ দিন
১০. মলদোভা
১১. বার্মা
১২. ওমান
১৩. পাকিস্তান
১৪. কাতার
১৫. সাও তোমে ও প্রিন্সিপে
১৬. সুরিনাম- ৯০ দিন
১৭. তাজিকিস্তান
১৮. উগান্ডা
১৯. উজবেকিস্তান- ৩০ দিন
২০. ভিয়েতনাম
২১. জাম্বিয়া
২২. জিম্বাবুয়ে
ভিসা ফ্রি সম্পর্কে সতর্কতা:
- “ভিসা ফ্রি” বলতে সবসময় ভিসা ছাড়াই প্রবেশ বোঝায় না। অনেক ক্ষেত্রে পূর্বনির্ধারিত সময়ের জন্য ভিসা ছাড়াই প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়।
- “ভিসা ফ্রি” ভিসা পেতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়, যেমন পাসপোর্টের মেয়াদ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ইত্যাদি।
- “ভিসা ফ্রি” ভিসা নিয়ে গেলেও কাজ করার অনুমতি নাও থাকতে পারে।
ভিসা ফ্রি ভ্রমণের আগে:
- যে দেশে যেতে চান, সেই দেশের ভিসা নীতি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নিন।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রস্তুত করুন।
- ভিসা ফ্রি হলেও অনেক সময় বা কোনো বিশেষ কারণে নির্দিষ কোনো কাগজ রেডি রাখতে হয়। যেমন করোনার সময় টিকা দেয়া।

