ডেস্ক রিপোর্টার : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে ‘জাগো বাহে, তিস্তা বাঁচাই’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠেছে উত্তরাঞ্চলের তিস্তাপাড়। তিস্তা রক্ষা আন্দোলন কমিটির উদ্যোগে টানা ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে আজও লাখো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার ১১টি স্থানে একযোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে অবস্থান কর্মসূচি, জনতার সমাবেশ, পদযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও প্রতিবাদী গান-নৃত্যের আয়োজন করা হয়।
তিস্তা রেলওয়ে সেতু-সংলগ্ন পয়েন্টে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছরে ভারতের কাছে অনেক কিছু বেচে দিয়েছে, কিন্তু তিস্তার এক ফোঁটা পানিও আনতে পারেনি। ৫৪টি অভিন্ন নদীর উজানে ভারত বাঁধ দিয়ে আমাদের কৃষি ও জীবিকা ধ্বংস করছে।”
আজ মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতেও সকাল থেকেই তিস্তা নদীর তীরে মানুষের ঢল নেমেছে। সমাবেশস্থলে অংশ নেওয়া তিস্তার দুই পাড়ের মানুষ হাতে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছেন। বিকেলে কর্মসূচির সমাপনী গণসমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেবেন।
তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক ও বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তিস্তা নদী বেষ্টিত পাঁচ জেলার মানুষ পানি বৈষম্যের শিকার। আমরা এবার তিস্তার ন্যায্য হিস্যা ও মহাপরিকল্পনার দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।”
প্রসঙ্গত, ৩১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ তিস্তা নদীর ১১৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের মধ্যে প্রবাহিত হলেও ভারত একতরফা পানি প্রত্যাহার করায় বর্ষায় হঠাৎ বন্যা এবং শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। নদী গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায় ছাড়া উত্তরাঞ্চলের দুই কোটি মানুষের জীবনমান রক্ষা সম্ভব নয়।
স্থানীয়রা বলছেন, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করা না গেলে কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। আন্দোলনকারীরা বলছেন, তিস্তা রক্ষার এই আন্দোলন কেবল একটি নদীর নয়, বরং দেশের সার্বিক পরিবেশ ও কৃষি অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্যও জরুরি।
