সাদাপুর ও হযরতপুরে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন; উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভাঙ্গন রোধের কাজ শুরু

419
সাদাপুর ও হযরতপুরে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন

পদ্মায় পানি বাড়ছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে বন্যার পানিতে প্রতিদিনই ডুবছে নতুন নতুন অঞ্চল। পানি বাড়ার সাথে পদ্মার শাখা নদী ও খালগুলোর পানিও বাড়ছে দ্রুততার সাথে। জয়পাড়া সাহেবখালি খালের পানি বাড়ার সাথে সাথে নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নে পদ্মা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত সাদাপুর ও হযরতপুর খালে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে ওই দুটি খাল পাড়ের দুই শ পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হওয়ার পথে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদী থেকে আসা পানির স্রোতে খালগুলোর দুই পাড়ের অসংখ্য বসতভিটা বিলীন হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে নবাবগঞ্জ উপজেলার উদ্যোগে সাময়িক ভাবে ভাঙ্গন রোধের জন্য বালুর বস্তা ফেলা শুরু হয়েছে।

খালের দুই পাড়ের একাধিক বাসিন্দা জানান, কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কর্মকর্তারা খালে ভাঙন শুধু পরিদর্শনই করে যাচ্ছেন। ভাঙনরোধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্তমানে খালের দুই পাড়ের দুই শ পরিবার তাদের বসতভিটা হারানোর আতঙ্কে রয়েছে।

খালের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আমেনা বেগম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে পানির স্রোতে আমার বসতভিটা ভেঙে খালে চলে গেছে। নিজের জমি হারিয়ে পরিবার–পরিজন নিয়ে এখন কোনো রকমে অন্যের জমিতে ঘর তৈরি করে বাস করছি।’

অন্য খবর  নবাবগঞ্জ উপজেলা তাঁতী লীগের আহবায়ক কমিটি ঘোষণা

এ বিষয়ে বান্দুরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সামসুল হক বলেন, গত ৭ বছরে প্রায় ৫০০–এর বেশি বসতবাড়ি খালে বিলীন হয়ে গেছে। তাঁদের অনেকেই এখন পরিবার–পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কেউ কেউ এলাকায় গিয়ে বসবাস করছেন।

বান্দুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হিল্লাল মিয়া বলেন, পদ্মা নদীর পানি সরাসরি সাদাপুর ও হযরতপুর খালে প্রবেশ করে ইছামতী নদীতে গিয়ে পড়ছে। পদ্মায় পানি বাড়ায় ওই দুই খালে ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করছে। খালের ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে সাদাপুর, হযরতপুরসহ আশপাশ এলাকার অসংখ্য মানুষ তাদের বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়বে।

নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম সালাউদ্দীন মনজু বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ভাঙনকবলিত এলাকা রক্ষায় কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মো. মাসুদ রানা বলেন, ‘নবাবগঞ্জে ভাঙনকবলিত সাদাপুর ও হযরতপুর খালটি আমরা পরিদর্শন করেছি। ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সাদাপুর ও হযরতপুরে ভাঙ্গন শুরুর সাথে সাথেই নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন রোধের জন্য খালের পাড়ে বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়।

অন্য খবর  নিষেধাজ্ঞা শেষ : পদ্মায় ইলিশের বন্যা

নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলুর নির্দেশে ও উপস্থিতিতে এই এই বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়। এই সময় নাসিরউদ্দিন আহমেদ ঝিলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমানের সাথে সর্ব্দা যোগাযোগ রেখে এই কাজ শুরু করা হয়েছে। সালমান এফ রহমানের নির্দেশে আমরা কয়েকবার খালের ভাঙ্গনপ্রবন এলাকা পরিদর্শন করছি। খালের ভাঙ্গন স্থায়ীভাবে কিভাবে রোধ করা যায় সেই ব্যাপারে কাজ ও পরিকল্পনা চলছে।

এই সময় নবাবগঞ্জ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান তাবিথ আহমেদ পাভেলসহ নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিল।

মন্তব্য