যে ত্যাগের ব্রত নিয়ে রাজনীতি করে, সেই সফলতা  আনতে পারেঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    372

    আদর্শ এবং ত্যাগের মানসিকতা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন,  যারাই এটা করতে পারবে তারাই রাজনীতিতে এগিয়ে যাবে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা এবং পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।
    রাজনীতিতে সততা ও ত্যাগের মানসিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে ত্যাগের ব্রত নিয়ে রাজনীতি করে, সেই সফলতা  আনতে পারে। তাই আদর্শ ও ত্যাগের মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করতে হবে। যারা আত্মত্যাগের মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করতে পারবে, তারাই জনগণের মনে স্থান করে নিতে পারবে। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্যই আমাদের রাজনীতি। কাজেই আমি স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাকর্মীদের একটা কথাই বলবো, আপনারা যারা জনগণকে কিছু দেয়ার ও ত্যাগের মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করবেন তারাই রাজনীতিতে এগিয়ে যাবেন। শেখ হাসিনা বলেন, কি পেলাম, কি পেলাম না- সেটা বড় কথা নয়, জনগণের জন্য কী করতে পারলাম, সেটাই একজন রাজনীতিবিদের আদর্শ হওয়া উচিত। আমি আশা করি সেই মানসিকতা নিয়েই নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
    বিশ্ব এখন বাংলাদেশকে সম্মানের চোখে দেখছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের মেয়াদের ধারাবাহিকতা দেশের  উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে নিশ্চিত করেছে। এর ফলশ্রুতিতে মানুষ প্রত্যক্ষভাবে  উপকৃত হচ্ছে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদার আসন অর্জন  করেছে। তিনি বলেন, জনগণ এখন সর্বক্ষেত্রে উন্নয়নের ছোঁয়া  পাচ্ছে। বিশ্ব বাংলাদেশকে এখন করুণা নয়, মর্যাদার চোখে  দেখছে। সরকারের ধারাবাহিকতার জন্যই আমরা মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম  হয়েছি। বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ২০১৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচন ভণ্ডুল করার ষড়যন্ত্র করেছিল। কিন্তু জনগণ নির্বাচন ও গণতন্ত্রের স্বপক্ষে থাকায় তারা ব্যর্থ  হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শোষিত ও বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যখন অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছিল সেই সময় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর সামরিক জান্তা ক্ষমতা কুক্ষিগত করলে দেশে হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়। ওই সময় স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির অধিষ্ঠান দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয়। তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জাতি আবারো সঠিক পথের দিশা খুঁজে পায়। অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রা শুরু হয়। ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে তার দল গণতন্ত্র ও দেশের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করেছে বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। নিজের ও বোনের সন্তানদের প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, আমি তিন বারের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু তারা কখনও টাকা-পয়সা, বিষয় সম্পত্তি বা ব্যবসা, কিছুর জন্যই কখনও বিরক্ত করেনি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তার তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের জন্মদিন ছিল গতকাল। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দিনে (২৭শে জুলাই) জন্মগ্রহণ করেন সজীব ওয়াজেদ জয়। গতকাল জন্মদিনে তার জন্য দেশবাসী সকলের কাছে দোয়া চান মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পবিষদের সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মকবুল হোসেন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম,সিনিয়র সহ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথ প্রমুখ।

    অন্য খবর  ডাকাতের দখলে ঢাকা-নবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক

    Comments

    comments