মাঠের কর্মি হিসেবে সবসময় প্রস্তুত আছি – আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি পদে প্রার্থী জয়নাল আবেদীন

299

মোঃ আল-আমিন, স্টাফ রিপোর্টার, news39.net: দীর্ঘ ১৯বছর। কত-শত প্রতীক্ষা। অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান। প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান শেষে ঢাকার দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের ৫ম ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এ সম্মেলন ও কমিটি গঠনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ। ইতোমধ্যে পদপ্রত্যাশী নেতারা সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে নেতাকর্মিদের আহবান জানিয়ে উপজেলার নয়াবাড়ি থেকে মুকসুদপুর পর্যন্ত ফেস্টুন, ব্যানার, তোরণ ও বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। আগামী ১৫ মে রোববার উপজেলার জয়পাড়া পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে সম্মেলনের স্থান নির্বাচিত করেছেন দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বেনজির আহম্মদ(এম.পি)। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্ঠা এবং ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান ফজলুর রহমান।

৫ম ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামীলীগের দুঃসময়ের কর্মী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির সদস্য জয়নাল আবেদীন। কাউন্সিল নিয়ে একান্ত আলাপচারিতা করেছেন news39.net এর সাথে। আলাপচারিতায় ছিলেন স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আল-আমিন।

মোঃ আল-আমিনঃ আপনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী। কেন এই পদে পার্থী হয়েছেন?
জয়নাল আবেদীনঃ আগামী জাতীয় নির্বাচন অর্থাৎ সংসদ নির্বাচন হবে ২০২৩ সালে । আগামী নির্বাচন হবে খুব চ্যালেঞ্জিং নির্বাচন। আগামীতে মাননীয় সংসদ সালমান এফ রহমানকে পুনরায় যেন নিশ্চিতভাবে বিজয়ী করা যায়; নৌকা যেন বিজয় অর্জন করতে পারে ও প্রত্যেকটা ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডে যেন শক্ত অবস্থানে থাকে, সেজন্য একজন সংগঠক হিসেবে তৃণমূল থেকে দলকে আরও শক্তিশালীভাবে গড়ে তোলার জন্য আমি দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আগ্রহ প্রকাশ করেছি।

মোঃ আল-আমিনঃ আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার বা ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে বলুন?
জয়নাল আবেদীনঃ ১৯৮৭সাল থেকেই আমরা মিছিলে যাই। আর তখন থেকেই রাজনীতির হাতেখড়ি আমাদের। ১৯৯০ সালে যখন জয়পাড়া কলেজে প্রবেশ করি, তখনই জয়পাড়া কলেজে ছাত্র অধিকার পরিষদ যখন সম্মেলন হলো, তখন আমি সাধারণ সম্পাদক হই। ১৯৯২ সালে যখন ঘাতক দালাম নির্মূল কমিটির আহবানে ও ব্যানারে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ৭১ এর আলবদর,আলশামস এর বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকি, ঠিক সেসময় তখনকার জোট সরকারের আঘাতে জয়পাড়া কলেজের সকল নেতৃবৃন্দের রক্তে রঞ্জিত হয়। আঘাত প্রাপ্ত হয়েছিল সাবেক সভাপতি ছাত্রনেতা সোহেল মাহমুদ, মনু,মোক্তার, রফিক। এরপরে রাষ্ট্রদ্রোহী মামলা দায়ের করা হয়।

অন্য খবর  নবাবগঞ্জের মাসুম আরামকোতে শ্রেষ্ঠ কর্মী মনোনিত

তখন সারাদেশে ৩টি রাষ্টদ্রোহী মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। ১টা বঙ্গবন্ধুর নামে, ২য় টা জাহানারা ইমামের নামে আর ৩য় টা দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের নামে। আমি ছিলাম সে মামলার আসামি। আমি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেলে, আমাকে গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এরপরে ১৯৯৩ সালে আমরা যখন কালো আইন বাতিলের দাবিতে শ্লোগান দিতে ছিলাম, ঠিক সেসময় আমাদের বিরুদ্ধে তিন তিনটি সেই সন্ত্রাস দমন কালো আইনে মামলা হয়। এ মামলায় আমি প্রায় ১৭দিন কারাবরণ করি। ১৯৯৫ দোহার থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হই এবং সভাপতি হন দোহারের সোহেল মাহমুদ। এর পরে ১৯৯৮ সালে ঢাকা জেলার ছাত্র লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হই। সভাপতি ছিলেন বর্তমান ঢাকা জেলার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুন ভাই।

২০০১ নির্বাচনের সময় নৌকার জন্য সালমান এফ রহমানের পক্ষে কাজ করায় আমার বাবাকে এক নাম্বার আসামি আর আমাকে আমার আরো দুই ভাইসহ একাদিক মামলার আসামি করা হয়।

আমাদের মেরে ফেলার জন্য হুমকি ও বাড়ীতে নিয়মিত তল্লাশী চলতে থাকে। বিএনপির সময়ে বাড়িতে থাকতে পারিনি ৫বছর। এসময় ঢাকা জেলার আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ২০০৪ সালে সারা দেশে যখন বন্যা হয় তখন সালমান এফ রহমানের নির্দেশে ফজলুর রহমান ফাউন্ডেশন এবং নিজ ও দলীয় উদ্যোগে ত্রাণ বিতরন করি।

পরে ২০০৫ সালের ১১ই এপ্রিল আমি লন্ডনের স্কটল্যান্ডে চলে যাই। তখন স্কটল্যান্ড আওয়ামীলীগের সাথে নিয়মিত কর্মকার্ন্ডে অংশ গ্রহন করি। ২০১২ সালে স্কটল্যান্ডের সম্মেলনে মাধ্যমে সেখানে আমি সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হই। ২০১৩ সালে আমি আবার দেশে চলে আসি। ২০১৩ সালে এসে নিয়মিত রাজনীতি শুরু করি । তখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সদস্য পদে নির্বাচিত হই।

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের গত সম্মেলনে পরে ২০১৮ সালের পর থেকে তথ্য ও গবেষণার উপকমিটির সদস্য হই। এর ধারাবাহিকতায় সকল কাজে নৌকার পক্ষে কাজ করে আসছি এখনো চলমান আছে। গত ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের কান্ডারী আলমগীর ভাইয়ের নেতৃত্বে আমি সকল নির্দেশনা মোতাবেক দলীয় কাজে সক্রিয় থাকি। সালমান এফ রহমানের নির্দেশে আমি নৌকার বিজয়ের জন্য সকল দলীয় সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ করি।

অন্য খবর  ৭১ এর মত আরেকটি যুদ্ধ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়

মোঃ আল-আমিনঃ সাধারণ সম্পাদক পদে কেন কাউন্সিলর-রা আপনাকে ভোট /সমর্থন দিবে?
জয়নাল আবেদীনঃ তৃনমুলে আজ ৩০ বছর আমার পরিশ্রম ও শ্রম আছে। প্রতিটা নেতাকর্মি পিছনে আমার আন্তরিক সহযোগিতা আছে। তাদের সাথে ভালো মন্দে, যোগাযোগসহ সবসময় পাশে ছিলাম। তাই তারা আমাকে মূল্যায়ন করে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত করবেন বলে বিশ্বাস ও আস্থা রাখি।

মোঃ আল-আমিনঃ দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ ভাবনা কি?
জয়নাল আবেদীনঃ আমাকে যদি সবাই মিলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করে তাহলে আগামীতে আমি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাননীয় সংসদ সালমান এফ রহমানকে পুনরায় যেন নিশ্চিতভাবে বিজয়ী করা যায়, সে স্বপ্ন বুকে ধারন করি।

মোঃ আল-আমিনঃ সভাপতি হিসেবে আপনি কাকে চান?
জয়নাল আবেদীনঃ এখনো পর্যন্ত একজন-ই সভাপতি প্রার্থী । তিনি দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রাণ পুরষ। তার কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নাই। আমি মনে করি তার যোগ্যতা, মেধা, পরিশ্রম ও রাজনৈতিক কারিশমায় আর কেউ প্রতিদ্বন্দীতার সাহস পান নাই।

মোঃ আল-আমিনঃ দল যদি অন্য কাউকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন দেয়, আপনি কি মেনে নেবেন?
জয়নাল আবেদীনঃ আমরা সবাই দলের জন্য কাজ করতেছি। দল যে সিদ্ধান্ত নিবে /দিবে, সেটাই আমরা মেনে নিবো। আমরা দলের বাইরে কোন কাজ করবো না। তবে আমি মনে করি দল আমাকে চাইবে ও সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন দিবে এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

মোঃ আল-আমিনঃ বিএনপি/ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে সামনে কিভাবে মোকাবিলা করবেন?
জয়নাল আবেদীনঃ আমরা রাজনীতি শুরু করেছি লড়াই সংগ্রাম দিয়ে । সেখানে অপশক্তিকে প্রতিহত করার জন্য আমরা মাঠের কর্মি হিসেবে সব সময় প্রস্তুত আছি।

মোঃ আল-আমিনঃ সভাপতি পদে কেন একজন বাদে অন্য কেউ প্রার্থী হচ্ছে না, আপনি কি মনে করেন?
জয়নাল আবেদীনঃ রাজনীতির কারিশমায়, রাজনৈতিক কৌশল ও নেতৃত্বের কৌশলে কারনে কেউ আর কেন্ডিডেট হওয়ার হিম্মত প্রকাশ করে নাই।

মন্তব্য