বিমানবন্দরের অব্যবস্থাপনা দেখে সালমান এফ রহমানের ক্ষোভ

151

হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে রপ্তানি পণ্যের স্ক্যানিং করার প্রক্রিয়া ও অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি। বুধবার ঝটিকা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ক্ষোভ জানান। এ সময় নষ্ট মেশিন সঠিক সময় যেন চালু করা যায় সে বিষয়ে আল্টিমেটাম দেন তিনি।
পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে সালমান এফ রহমান বলেন, এখানে আসার কারণ হলো- আমাদের ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে বিদেশি ক্রেতারা অভিযোগ করে আসছেন যে, ঢাকা বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজে রপ্তানি পণ্য স্ক্যানিং মেশিন নষ্ট হওয়ায় রপ্তানিতে সমস্যা হচ্ছে।
এর মাঝে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক হলে বিমান কর্তৃপক্ষ আশ্বাস দেয় যে, কিছুদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তারপরও দেখলাম সমাধান হচ্ছে না। এছাড়া বিদেশ থেকে বারবার অভিযোগ আসছিল। ভাবলাম আমি নিজে গিয়ে দেখি কী হচ্ছে।
এসে দেখি, ৪টা স্ক্যানিং মেশিন আছে। সবগুলো নষ্ট। যার কারণে এই সমস্যাটা হচ্ছে। এর মধ্যে এখনো দুটো মেশিন চালুই হয়নি। বিমান কর্তৃপক্ষ জানালো, মেশিনগুলো গত মার্চ মাসে স্থাপন করা হয়েছে।
সালমান এফ রহমান বলেন, ৬ মাস হলো এখনো চালু করা হয়নি? বিমান কর্তৃপক্ষ বললো- করোনার কারণে চালু করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু আমি মনে করি, তাদের এই ব্যাখ্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। করোনার মাঝেও আমাদের দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.৬ শতাংশ। তার মানে হলো- এর মাঝেও আমরা কাজ করেছি। অন্যরা যদি পারে, তাহলে বিমান কর্তৃপক্ষ কেন পারলো না। অবশ্যই তাদের এটা গাফিলতি। ৬ মাস হলো একটা মেশিন বসে আছে, অথচ সেটা চালু করতে পারলাম না। এটাই দুঃখজনক।
এখন বিমান কর্তৃপক্ষ বলেছে, তারা আগামী এক মাসের মধ্যে সবগুলো মেশিন চালু করতে পারবে। এর মধ্যে দু’টি মেশিন এক সপ্তাহের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে।
সালমান এফ রহমান বলেন, এই সময় যেন কোনোভাবেই ভঙ্গ না হয়। এখন যা হয়েছে তা তো গেছে। এটা নিয়ে আমি খুবই হতাশ। কিন্তু আমাদের দেশের রপ্তানি খাত চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার চেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে- বিদেশে আমাদের দেশের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে। বেসরকারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আমাদের সুযোগ হাত ছাড়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রপ্তানিতে বাংলাদেশের সামনে ব্যাপক সুযোগ-সুবিধার হাতছানি দিচ্ছে। চীনে পোশাক কারখানা বন্ধ হচ্ছে। ভিয়েতনামেও করোনার কারণে কারখানা বন্ধ। ফলে ক্রেতারা আমাদের দেশে আসা শুরু করেছে। সেটার চাপ তৈরি হয়েছে। আবার সামনে বড় দিন আসছে। এতে রপ্তানি আদেশ বাড়ছে। তাই আমাদের বিমানবন্দর যদি কার্যকর না থাকে তাহলে আমাদের সুযোগগুলো হাত ছাড়া হয়ে যাবে। অর্থাৎ আমাদের নিয়মিত ব্যবসা তো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেই। অতিরিক্ত আরও যে নতুন ব্যবসা করার সুযোগ আছে সেটাও হাত ছাড়া হচ্ছে।
এর আগে কার্গো ভিলেজের স্ক্যানিং মেশিন পরিদর্শনে প্রবেশের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসানকে উদ্দেশ্য করে সালমান এফ রহমান বলেন, আপনাদের দুবাই ঘুরে আসা উচিত। সেখানকার ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান দেখা দরকার। এই পরিবেশ দেখেই আমার তো প্রবেশ করতে ইচ্ছা হচ্ছে না। তিনি বলেন, আমরা মধ্য আয়ের দেশে প্রবেশ করবো। এসডিজি বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছি। আমরা বলছি উন্নয়নশীল দেশ। অথচ আমাদের বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে কোনো ব্যবস্থাপনা নেই। এটা লজ্জার। চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আপনারা নিজেরাও করবেন না, অন্যদেরও করতে দেবেন না।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো ভিলেজের ইডিএস (এক্সপ্লোসিভ ডিটেকশন সিস্টেম) স্ক্যানিং মেশিন বিকল থাকায় কার্গো ভিলেজে পণ্যজট তৈরি হচ্ছে। ফলে সময়মতো উড়োজাহাজে কার্গো লোডিং করা সম্ভব হচ্ছে না। ১০ থেকে ২০ শতাংশ জায়গা খালি রেখেই উড্ডয়ন করতে হচ্ছে এয়ারলাইনসগুলোকে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সাজ্জাদুল হাসান, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ছিদ্দিকুর রহমান, সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম প্রমুখ।

অন্য খবর  ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন : সালমান এফ রহমান

মন্তব্য