দোহার পৌরসভা (১ম পর্ব): উপসম্পাদকীয়- আব্দুর রহমান আকন্দ

1442

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী একটা মাধ্যম হচ্ছে পৌরসভা। সাধারনত প্রতিটি জেলা, জেলা সদর অথবা জেলা সদরের অন্তর্গত অগ্রসর ও স্বাবলম্বী এলাকা আছে অথবা যে সকল উপজেলা অপেক্ষাকৃত উন্নত জনপদ সাধারনত সেইসব এলাকাকে সরকার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পৌরসভায় রুপান্তরিত করা হয়ে থাকে।
একটি পৌরসভা গঠনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়কে অনেকগুলা সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে হয়। যেমন- ক) জনসংখ্যা, খ) জনসংখ্যার ঘনত্ব, গ)স্থানীয় আয়ের উৎস, ঘ)অকৃষি পেশার শতকরা হার, )এলাকার অর্থনৈতিক গুরুত্বসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষনের পর সরকারি গেজেটে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যম যে কোন পল্লী এলাকাকে শহর এলাকা ঘোষনা করা যায়।
২০০৯ এর সর্বশেষ গেজেট অনুযায়ী(২) এর উপধারা ঘোষনা অনুযায়ী তিন চতুর্থাংশ অকৃষি পেশায় নিয়জিত। শতকরা ৩৩ ভাগ ভূমি অকৃষি প্রকৃতির, জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১ হাজার ৫শ এর কম না। জনসংখ্যা ৫০ হাজারের কম না এমন অনেক উপধারার সমন্বয়ে পৌরসভা গঠিত হয়।
এমনই করে ১৯৯৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান খানের উদ্যোগে ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হাসেম আলীর সহযোগীতায় জয়পাড়া ইউনিয়ন বিলুপ্ত ও আংশিক রায়পাড়া সহ সুতারপাড়া ইউনিয়নের বৃহৎ অংশ নিয়ে দোহার পৌরসভা(অতীত জয়পাড়া পৌরসভা) গঠিত হয়। যার বর্তমান আয়তন ২১.২১ বর্গ কিলোমিটার। এর জনসংখ্যা ৬০ হাজারের উপরে ও ভোটার সংখ্যা ৪৭ হাজার এবং ১০টি মৌজা নিয়ে এই পৌরসভা গঠিত হয়।
যাই হোক আমি আমার লেখার মূল উদ্দ্যেশে যেতে চাই। দোহার পৌরসভা গঠনের পর ২০০০ সালের মার্চ মাসে প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে আব্দুর রহিম মিয়া দোহার পৌরসভার প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়। এবং যথা নিয়মে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ওয়ার্ড কমিশনার(পরে কাউন্সিলর)ও নির্বাচিত হয়।
এখন আশ্চর্য বলি আর বাস্তবতা যাই বলি ১৫ বছর আগের পরিষদ আর বর্তমান পরিষদ একই পরিষদ। যদি বলি আইনের সহায়তা নিয়ে বা আইনি জটিলতার আশ্রয়ে এই পরিষদ কাজ করে যাচ্ছে। কেউ কেউ রশিকতা করে বলে থাকেন আইনি জটিলতার অজুহাত নিয়ে এই পরিষদ ইনশায়াল্লাহ পেনশনেও যেতে পারবে। একই পরিষদের ১৫ বছর দোহার পৌরসভা পরিচালনা পৌরবাসীর ন্যায্য চাহিদা ও প্রাপ্তি কতটুকু পুরন হয়েছে তা পৌরবাসীই ভাল বলতে পারবে। তবে এই আলোচনাকে আশা করি ১৫ বছরের পৌরপরিষদের সমালোচনা না ভেবে মনের আকুতি বা অথবা পর্যালোচনা হিসাবে গ্রহন করার উদারতা দেখবেন। তবে ইতিমধ্যে এই পৌরসভা কিছু দালিলিক শর্তাদি পূরন করে সাধারন মানের পৌরসভা থেকে প্রথম শ্রেণীর “ক” মানের পৌরসভাতে রুপান্তরিত হয়েছে।
২০০০ সালে এই পৌরসভা গঠিত হবার পর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পৌরসভার স্বাভাবিক গঠন ও প্রাথমিক কাজগুলো বেশ ভাল ভাবেই সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর দোহার পৌরসভার ভাগ্যে বিপর্যয় শুরু হয়। বিএনপি সরকারের সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা দোহার পৌরসভার সাথে বিমাতা সুলভ আচরন শুরু করেন। এটা শুধু আমার বক্তব্য নয়, বিএনপি নেতা ও বর্তমান পৌরসভা আব্দুর রহিম মিয়াও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এই কথা বলেছেন।
২০০১ সালে জোট সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা দোহারের বিভিন্ন জায়গায় অনেক রাস্তাঘাট করলেও দোহার পৌরসভায় নতুন রাস্তাঘাট তেমন করেন নি। বরং তিনি ক্ষমতায় এসে তার পছন্দের লোকদের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বানানোর জন্য পৌরসভার সীমানায় অদক্ষ হাতে ছুড়ি চালান। সেই থেকে শুরু আইনি জটিলতার পালা, যার বোঝা আজও বয়ে বেড়াচ্ছে দোহার পৌরসভা।
আব্দুর রহমান আকন্দ
সাধারণ সম্পাদক
দোহার উপজেলা যুবলীগ
সর্বশেষ নির্বাচিত জিএস
জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদ ১৯৯৬

অন্য খবর  দোহার-নবাবগঞ্জে বাস চলাচল সীমিত

Comments

comments