দোহার-নবাবগঞ্জে কয়েন নিচ্ছে না কোন ব্যাংক: বিপাকে ব্যবসায়ীরা

2362
coin

সরকারী ভাবে ১,২,৫ টাকার কয়েন নিষিদ্ধ করা না হলেও মিথ্যা গুজবে ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলার ব্যবস্যায়ীদের মাঝে এটি নিয়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এছাড়াও কঠিন কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ভিক্ষুকরা। স্থানীয় ব্যাংক গুলো বলছেন, শুধু নোট টাকা জমা নিই, আর কয়েন টাকা শুধু জনগনের সুবিধার্থে সরবরাহ করি। কয়েন উৎপাদনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত কোন দিনই জমা নেওয়া হয়না। কয়েন টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। দেশ ব্যাপী ধাতব কয়েক টাকা নিয়ে ভোগান্তি সৃষ্টির পর এবার ঢাকার দোহার-নবাবগঞ্জ উপজেলাতেও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১,২,৫ টাকার ধাতব কয়েন নিচ্ছেন না দোকানিরা।

এ উপজেলায় ব্যাংকের স্থানীয় শাখা গুলোতেও কয়েন লেনদেন দেখা গেছে অনীহা। ফলে বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে আনন্দ বসত পয়সা জমিয়ে অভ্যাস্ত শিশুরাও। সম্প্রতি ধাতব কয়েন নিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ শুধু কয়েন গুলো বিতরণ করা। নেওয়া বা  না নেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা তারা পাননি। গতকাল  দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলা সদর, বাগমারা বাজার, সাদাপুর বাজার,বান্দুরা বাজারসহ দু’উপজেলার বিভিন্ন স্থানে  ঘুরে দেখা যায়, কোনো দোকানদারেরাই একাধিক ১,২,৫ টাকার কয়েন নিচ্ছেন না। কয়েন টাকা না নেওয়ার বিষয়ে এসব দোকানীদের কাছে জানতে চাইলে, তারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের অভিযোগের কথা বলেন, কোনো ব্যাংক কিংবা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা কয়েন না নেওয়ায় চরম লোকসান গুণতে হচ্ছে তাদের। এসব ক্ষুদ্র ও বড় ব্যবসায়ীদের কাছে লক্ষ লক্ষ কয়েন টাকা দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকার ফলে তাদের মূলধনেও টান পড়েছে বলেও জানান।

অন্য খবর  সুরুজ আলম সুরুজ আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সদস্য

 নবাবগঞ্জ উপজেলার  ব্যবসায়ী  মো. বাচ্চু মোল্লা জানান, ছোট বা খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ১০০ বা ২০০ টাকার সমপরিমাণ কয়েন না নিলে কেউ মালামাল নিতে চায় না। কিন্তু সেগুলো ব্যাংক বা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা না নেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তিনি। হাজার হাজার টাকার কয়েন জমা পড়ে আছে। স্থানীয় ব্যাংক বা কম্পানির এজেন্টরা এগুলো না নেওয়ায় ব্যবসা করে যা লাভ হচ্ছে, পড়ে থাকা কয়েনের কারণে তা ব্যবসায় কুফল দেখা যাচ্ছে। একই অবস্থা দোহার উপজেলার জয়পাড়া বাজারের পাইকারী ব্যাবসায়ী মো. কাশেম জানান, খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে মালামাল বেঁচতে লেনদেনে তাকে কয়েন নিতে হয়। সেগুলো ব্যাংক বা কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা না নেওয়ায় তিনিও বিপাকে পড়েছেন।

মেঘুলা বাজারের আরেক খুচরা দোকানী মো. আলী এবং কার্তিকপুর বাজারের মুদি দোকানী শাহিন জানান, তারা ১ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামের খুচরা মালামাল বিক্রি করেণ। এজন্য বাধ্য হয়েই কয়েন নিতে হয় কিন্তু এভাবে নিতে নিতে কয়েক হাজার টাকার কয়েন জমা হয়েছে। হাজার হাজার টাকা এসব কয়েন বড় কোনো কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ও কোনো ব্যাংক না নেওয়ায় তারাও বিপাকে পড়েছেন। বিভিন্ন দোকানদারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এসব কয়েন নিয়ে কি করব তা বুঝতে পারছে না। তাদের কাছে অনেক টাকার কয়েন জমা পড়ে আছে। স্থানীয় ব্যাংক এগুলো না  নেওয়ায় তা এখন বলতে গেলে অচল।

অন্য খবর  দোহারে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ

অন্যদিকে কয়েন চলছে না গুজবে মাটির ব্যাংক বা (ঘট) ভেঙে জমানো মুদ্রা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন শিশু কিশোর, ছাত্র/ছাত্রী ও গৃহবধূরা। নবাবগঞ্জ উপজেলার স্কুল পড়–য়া ছাত্রী সামিমা কাজী জানান, আমি আমার মাটির ব্যাংকে ১,২,৫ টাকার প্রায় ২ হাজার টাকা জমিয়েছি কিন্তু এ টাকা এখন কেউ নিতে চায় না। শুধু তাই নয় কয়েনের  টাকা কোনো ফকিরও নিতে চায় না। এদিকে ভিক্ষুকরাও পড়েছে চরম বিপাকে। সারাদিন ভিক্ষা করে দেড়/দুই শত টাকার জোগাড় হয়। যা দিয়ে বাজার থেকে চাল, ডাল, তরকারী কিনে সংসার চলে। তারা যে টাকা পায় তার সিংহ ভাগই কয়েন টাকা। যেগুলো বাজারের দোকানদাররাও নিতে চাচ্ছে না। বিধায় সারাদিন ভিক্ষা করেও  কেনাকাটা করতে পারছেনা তারা।

দোহার-নবাবগঞ্জ  উপজেলার সকল বাজারের প্রায় সব ব্যবসায়ীর কাছেই হাজার হাজার টাকার কয়েন জমা হয়ে আছে। স্থানীয় ব্যাংক বা কোম্পানি এসব না নেওয়ায় তারা চরম হতাশ প্রকাশ করেছেন। এ সকল ব্যাবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরকার যদি তড়িৎ এসব আদান-প্রদানের ব্যবস্থা না নেয় তাহলে ব্যবসায় অনেক অবনতি ঘটবে এবং মূলধন সংকটে পড়বে।

সোনালী ব্যাংক লিমিটেডের নবাবগঞ্জ শাখা ম্যানেজার মো. আলমগীর হোসেন মিয়া জানান, গ্রাহকরা আমাদের কাছ থেকে কয়েন টাকা না নেওয়ায় আমরাও গ্রাহকদের কাছে থেকে নিচ্ছি না।

Comments

comments