মাহমুদুল হাসান সুমন, দোহার প্রতিনিধি: ঢাকার দোহার ও নবাবগঞ্জ অঞ্চলে বর্তমানে মৌসুমি ফল হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পিচফল । লিচুর মৌসুম শেষ হওয়ার পর বাজারে এ ফলের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে।সুস্বাদু, রসালো ও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল স্থানীয় ক্রেতাদের কাছে দিন দিন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। পিচফলের বৈজ্ঞানিক নাম Prunus persica। এটি আড়ু বা সতালু নামেও পরিচিত। পাকা পিচফল মিষ্টি স্বাদের এবং এর খোসা সাধারণত সামান্য লোমশ হয়ে থাকে। চীন এ ফলের আদি জন্মস্থান হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাষাবাদ ও গবেষণা চলছে। স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, দোহার ও নবাবগঞ্জ এলাকায় উৎপাদিত পিচফলের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে জাত ও মানভেদে প্রতি কেজি পিচফল ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পুষ্টিবিদদের মতে, পিচফলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, বিভিন্ন খনিজ উপাদান ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এসব উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, হজমশক্তি উন্নত করা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রতি কেজি পিচফল থেকে প্রায় ৪৭০ ক্যালোরি শক্তি পাওয়া যায়। বাংলাদেশে সাভার, গাজীপুর, দিনাজপুর, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় পিচফলের চাষাবাদ সম্প্রসারিত হচ্ছে। সাধারণত মে থেকে জুন মাসের মধ্যে ফলগুলো পরিপক্ব হয়ে বাজারে আসে। স্থানীয়রা মনে করেন, সঠিক পরিচর্যা ও বাজারজাতকরণের সুযোগ বাড়ানো গেলে দোহার-নবাবগঞ্জের পিচফল দেশের ফল উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে।
