কালিগঙ্গা নদীতে হেইয়ো রে হইয়ো চ্যাম্পিয়ন সোনার বাংলা , রানার্সআপ নাফিজ নাঈম

50

কালিগঙ্গা নদীতে গ্রাম বাংলার শত বছরের ঐতিহ্যে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে নবাবগঞ্জ উপজেলার দত্তখন্ডের ডা. শাহীনের সোনার বাংলা চ্যাম্পিয়ন ও একই উপজেলার হাসনাবাদের মো. কামাল হোসেনের নাফিজ নাইম এক্সপ্রেস রানার্সআপ হয়েছে। এছাড়া, শ্রীনগর আলমপুরের সামাদ দেওয়ানের মামা ভাগিনা তয় স্থান অর্জন করে।
পরে শোল্লা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান দেওয়ান তুহিনুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং শহীদুল ইসলাম শহীদের সঞ্চালনায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মিজানুর রহমান কিসমত এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন মো. কামাল হোসেন, নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা, সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা, ক্রিড়া সম্পাদক দুলাল দেওয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সদস্য মোশাররফ হোসেন, খান বাড়ি নৌকার মালিক জিপু খান, আব্দুল খালেক নৌকার মালিক শেখ তুষার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

চ্যান্পিয়ন অর্জনকারী সোনার বাংলাকে একটি মটর সাইকেল, রানারআপ নাফিজ নাঈম এক্সপ্রেসকে ফ্রিজ ও মামা ভাগিনাকে টেলিভিশন দেয়া হয়েছে।

শুক্রবার জনগণকে বিনোদন দিতে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের দত্তখন্ড গ্রামবাসীর উদ্যেগে এ নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৮টি ঘাসী নৌকা অংশ গ্রহণ করে।
প্রথম পর্বে টান দেয় সোনার বাংলা বনাম বলধারার ঐতিহ্য টান দেয়। এতে সোনার বাংলা বিজয়ী হয়।নাফিজ নাইম এক্সপ্রেস বনাম গোলাডাঙ্গার নয়নমনি টান দেয়। এতে নাফিজ নাইম এক্সপ্রেস জয়ী হয়। মামা ভাগ্নে বনাম শিকদার বাড়ি নৌকার মধ্যে টান দেয়। এতে মামা ভাগ্নে জয়ী হয়। রিফাইতপুর যুব সংঘ বনাম রাজহংসের মধ্যে টান হয়। এতে রিফাইতপুর যুব সংঘ জয়ী হয়।
চুড়ান্ত টান দেয় সোনার বাংলা, নাফিজ নাইম এক্সপ্রেস
মামা ভাগিনা ও রিফাইতপুর যুব সংঘ। এতে ১ম সোনার বাংলা, ২য় নাফিজ নাইম এক্সপ্রেস, ৩য় মামা ভাগিনা হয়।

অন্য খবর  দোহারে মা ইলিশ রক্ষায় টাস্কফোর্স কমিটির প্রস্তুতি সভা

মাঝি-মাল্লার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর ছন্দ মাতিয়ে তোলে কালগঙ্গা নদীর দুই তীর। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার নারী পুরুষ এ দৃশ্য দেখতে ভিড় করে। বাইচে দুপুর থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীরা ভিড় করে। আশেপাশ ও দূর-দূরান্ত থেকে নারী পুরুষসহ সব বয়সী মানুষ নৌকা বাইচ দেখতে নদীর তীরে জড়ো হন। বাইচে বিভিন্ন এলাকা থেকে সুসজ্জিত ঘাসী নৌকা অংশগ্রহণ করে।

নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিটি জেলা উপজেলায় সরকারীভাবে নৌকা বাইচ আয়োজন করার আহ্বান জানান। এটি করতে পারলে নৌকা বাইচ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় নৌকা বাইচ খুব সহসাই বিলুপ্ত ঘটবে।

নৌকা বাইচ দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, একে অপরে বেশ কয়েকটি টান দিয়েছে। আমরা খুব আনন্দ পেয়েছি। এই ঐতিহ্য টিকে থাক আজীবন।
নৌকাবাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটির সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, আজ কালিগঙ্গা নদীতে দত্তখন্ড বাসাীর উদ্যেগে এবং নৌকা বাইচ ঐতিহ্য রক্ষা জাতীয় কমিটি পরিচালনায় এ বাইচ অনুষ্ঠিত হয়। খুব ভালো মতো বাইচ হলো। তিনি বলেন,
নবাবাগঞ্জে নৌকাবাইচের ঐতিহ্য প্রায় শত বছরের। এক দশক আগেও এই অঞ্চলে বিভিন্ন পয়েন্টে পুরো ভাদ্র্র্র্র মাসজুড়ে নৌকা বাইচ হতো। কিন্তু এখন নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ও কচুরিপানার কারণে বাইচে ভাটা পড়েছে। বেশ কয়েকটি পয়েন্টে কচুরীপানা থাকায় এ বছর নৌকা বাইচ আয়োজন করা যায়নি । আর এজন্য দায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ড। ২০০১ সালে ইছামতী নদীর উৎপত্তিস্থল কাশিয়াখীলীতে বেড়িবাঁধ দেয়া হয়। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের অদক্ষতা ও অপরিপক্কতায় বাঁধের ইছামতী-পদ্মা নদীর সংযোগ স্থলে জলকপাট (স্লুইস গেট) স্থাপন না করে অন্যত্র স্লুইসগেট স্থাপন করা হয়।

অন্য খবর  সুতারপাড়া হলের বাজারে এক রাতে তিন দোকানে চুরি

মন্তব্য