আসাদুজ্জামান খান আ’লীগের প্রার্থী বিএনপিতে এগিয়ে শাহাব উদ্দিন

    454

    রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল নিয়ে গঠিত ঢাকা-১২ আসন। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ৩৫ ও ৩৬নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ আসনে অস্থায়ী নিু মধ্যবিত্তের পাশাপাশি কর্মজীবী মানুষের বসবাস বেশি।

    জাতীয় সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মতো দুটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাও এ আসনে অবস্থিত। নানা শ্রেণী-পেশার ভোটার থাকায় তাদের মন জয় করাও কঠিন হয়ে থাকে প্রার্থীদের।

    ফলে ভোটারদের মন জয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অংশ নিচ্ছেন নানা সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে। বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ইফতার পার্টিতে হাজির হয়ে জানান দিচ্ছেন নিজেদের অবস্থান।

    একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত। সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান এমপি আসাদুজ্জামান খান কামাল ফের দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন এটা মোটামুটি নিশ্চিত।

    বিএনপিতে একাধিক প্রার্থী থাকলেও এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি মো. শাহাব উদ্দিন।

    এ ছাড়া যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার দলীয় মনোনয়ন পেতে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

    ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসন পুনর্বিন্যাসের ফলে ঢাকার আসন সংখ্যা বেড়ে যায়। ওই সময় তেজগাঁও ও রমনার আংশিক এলাকা নিয়ে ঢাকা-১১ আসন গঠিত হয়।

    ওই আসনে প্রথমবার মনোনয়ন পেয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিনকে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে পুনরায় আসন বিন্যাস করা হয়।

    ওই সময় তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা, শেরেবাংলা নগর ও রমনার আংশিক এলাকা নিয়ে হয় ঢাকা-১২ আসন। ওই নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান আসাদুজ্জামান খান কামাল। বিজয়ী হয়ে তিনি মন্ত্রিসভায় স্থান পান।

    প্রথমে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং পরে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হন তিনি। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এই প্রার্থী হ্যাটট্রিক জয়ের অপেক্ষায়।

    এ আসনের নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে এমপি হন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী মেজর (অব.) মান্নানের কাছে হেরে যান।

    ষষ্ঠ জাতীয় নির্বাচনে মান্নান দ্বিতীয় মেয়াদে এমপি হলেও সপ্তম সংসদ নির্বাচনে তাকে হারিয়ে দেন আওয়ামী লীগের ডা. এইচবিএম ইকবাল। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ফের এমপি হন মেজর (অব.) মান্নান।

    অন্য খবর  পদ্মা সেতু বাঁচাতে মৈনট – গোপালপুর হতে পারে মাওয়া ঘাটের বিকল্প

    পরে তিনি বিএনপি ছেড়ে বিকল্পধারায় যোগ দিলে আসনটি শূন্য হয়। উপনির্বাচনে বিকল্পধারার প্রার্থী হিসেবে তিনি অংশ নিলেও বিজয়ী হন বিএনপির মোসাদ্দেক আলী ফালু। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের ভোটে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের আসাদুজ্জামান খান কামাল।

    আ’লীগ : ঢাকা-১২ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। এ আসনে তার একচ্ছত্র আধিপত্য। তার পক্ষ থেকে দলের নেতাকর্মীরা ভোট চেয়ে ইতিমধ্যে এলাকায় পোস্টারিং করছেন।

    মন্ত্রী নিজেও নিয়মিত গণসংযোগ করেন। অংশ নেন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মসূচিতেও। এ আসনের বেশির ভাগ এলাকা জুড়েই তেজগাঁও। সম্প্রতি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মন্ত্রীর নামে মোড়ে মোড়ে ব্যানারও ঝুলছে।

    এমনিতেই সৎ ও সজ্জন হিসেবে এলাকায় জনপ্রিয় তিনি। এলাকার উন্নয়নের দিকেও তার নজর রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মীদের নিয়মিত সময় দেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের এ নেতা।

    গণসংযোগের অংশ হিসেবে প্রায় প্রতি শুক্রবারই এলাকার বিভিন্ন মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করছেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সুখে-দুঃখে এলাকাবাসীর পাশে থেকে মন জয় করেছেন ভোটারদের।

    তার শক্ত ভূমিকার কারণে এককালের অন্যতম অপরাধপ্রবণ এলাকা তেজগাঁওয়ের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ভালো। সেই সঙ্গে নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা হিসেবে ভোটের হিসাবে তার রয়েছে শক্ত অবস্থান।

    আসাদুজ্জামান খান কামালের মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো সংশয় নেই।

    এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, ঢাকা-১২ আসনে আসাদুজ্জামান খান কামালের বিকল্প নেই। কর্মী-সমর্থকসহ সবার জন্য তার দুয়ার খোলা। স্থানীয়দের সমস্যা সমাধানে সব সময়ই তিনি সচেষ্ট।

    জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান খান কামাল যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলাকার জনগণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তাদের সুখ-দুঃখে সব সময় তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।

    জনগণ তাদের আপনজন হিসেবে পেয়েছেন আমাকে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে তারা আমাকে ভোট দিয়ে আবারও তাদের সেবা করার সুযোগ দেবে ইনশাআল্লাহ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন-অগ্রগতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার বিকল্প শুধু শেখ হাসিনাই।

    আওয়ামী লীগের বিকল্প শুধুই আওয়ামী লীগই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রী হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আসাদুজ্জামান খান কামালেরই এ আসনে মনোনয়ন পাওয়ার কথা।

    অন্য খবর  দোহার থেকে ঢাকা সরাসরি সড়ক নির্মান হবে: সালমান এফ রহমান এমপি

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান খান মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকলেও আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী মাঠ গোছানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়ন পেতে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

    বিএনপি : এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কে? তা নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও মো. শাহাব উদ্দিনই এগিয়ে আছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও দলের কর্মকাণ্ডে সব সময় সক্রিয় তিনি।

    বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গেও তার যোগাযোগ ভালো। দলে ডোনার হিসেবেও তিনি পরিচিত। তার ব্যক্তি মালিকানাধীন শাহাব উদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেতাকর্মীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দিয়ে সহায়তা করছেন তিনি।

    এ ছাড়া এ আসনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নানা সমস্যা সমাধানে আপ্রাণ চেষ্টা করেন তিনি। নেতাকর্মীদের মামলার সব খরচ তিনিই বহন করেন।

    মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, দলের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছি। বিনিময়ে দলের হাইকমান্ডও আমাকে অনেক দিয়েছেন। চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০০৮ সালের নবম জাতীয় নির্বাচনে আমাকে ধানের শীষ প্রতীক দিয়েছিলেন।

    এবারও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে আমি কাজ করে যাওয়ার নির্দেশনা পেয়েছি। সে অনুযায়ী কাজ করছি।

    তিনি বলেন, ঢাকা-১২ নির্বাচনী আসনের বিএনপি ও অঙ্গদলগুলোর নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাদের যে কোনো সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করি। আগামী নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে ধানের শীষের এ আসনটি চেয়ারপারসনকে উপহার দিতে পারব।

    যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব এ আসনে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ছাত্রজীবন থেকেই তেজগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত তিনি। ছাত্রদল থেকে যুবদলের মহানগর হয়ে এখন কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

    দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন। সাইফুল আলম নীরব যুগান্তরকে বলেন, এ এলাকায় তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শৈশব-কৈশোর কেটেছে বিজি প্রেস কলোনিতে, পড়েছেন পলিটেকনিক স্কুলে।

    মহানগর ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদের পর যুবদলের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে বর্তমানে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। দলের হাইকমান্ড চাইলে তিনি এ আসন থেকে নির্বাচন করবেন।

    বিএনপির আরেক সম্ভাব্য প্রার্থী আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার বলেন, তেজগাঁওয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক মাটি ও মানুষের। দীর্ঘদিন ডিসিসির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনসেবার অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছি। আগামী নির্বাচনে আমি ঢাকা-১২ আসনে দলের টিকিট প্রত্যাশা করি।

    মন্তব্য