আশুরার রোজা ও মহররমের আমল: ফজিলত, করণীয় ও বর্জনীয়

প্রকাশ:

শেয়ার করুন:

২০২৬ সালে পবিত্র আশুরার রোজা (১০ মহররম) পালিত হবে ২৬ জুন, শুক্রবার। ইসলামে কেবল ১০ মহররমের একটি রোজা রাখার নিয়ম নেই, তাই এর সাথে ৯ মহররম (২৫ জুন, বৃহস্পতিবার) অথবা ১১ মহররম (২৭ জুন, শনিবার) মিলিয়ে মোট দুটি রোজা রাখতে হয়।

বাংলাদেশি চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহররম মাসের ১ তারিখ ১৭ জুন থেকে শুরু হয়েছে, ফলে ১০ মহররম তথা আশুরার দিনটি ২৬ জুন পড়েছে।

মহররম মাসের প্রধান আমল হলো নফল রোজা রাখা এবং পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সম্মানিত এই মাসে যেকোনো অন্যায়-পাপ কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখা। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মাসকে শাহরুল্লাহ’ বা ‘আল্লাহর মাস’ বলে অভিহিত করেছেন।

মহররমের রোজার বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ নফল আমলগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:

আশুরার রোজার ফজিলত

  • এক বছরের গুনাহ মাফ: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “আমি আশা করি আশুরার রোজার কারণে আল্লাহ তাআলা বিগত এক বছরের গুনাহ খাতা ক্ষমা করে দেবেন” (সহিহ মুসলিম)।
  • সর্বোত্তম নফল রোজা: রমজানের ফরয রোজার পর মহররম মাসের রোজাকে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে উত্তম রোজা হিসেবে গণ্য করা হয়।
  • নবীজি (সা.)-এর আগ্রহ: রাসুলুল্লাহ (সা.) অন্য যেকোনো নফল রোজার তুলনায় আশুরার রোজার সওয়াব পাওয়ার জন্য বেশি উদগ্রীব থাকতেন।

মহররম মাসের অন্যান্য আমল করণীয়

  • অধিক পরিমাণে নফল রোজা: কেবল আশুরার দিনই নয়, পুরো মহররম মাস জুড়েই সাধারণ নফল রোজা রাখার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। যে যত বেশি সম্ভব এই মাসে রোজা রাখতে পারেন।
  • তওবা ইস্তিগফার: মহররম মাস ক্ষমা ও তওবা কবুলের এক মহিমান্বিত মৌসুম। তাই নিজের অতীতের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত।
  • পাপ কাজ বর্জন করা: পবিত্র কোরআনের সূরা তাওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে মহররমসহ ৪টি সম্মানিত মাসে নিজেদের ওপর জুলুম বা পাপ কাজ করতে বিশেষভাবে নিষেধ করা হয়েছে। তাই এ মাসে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা নিজেই একটি বড় ইবাদত।
  • সাদাকাহ সৎ কাজ: বছরের প্রথম মাস হিসেবে জীবনকে নতুন করে সাজাতে নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত এবং দান-সদকার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া উচিত।

বর্জনীয় বিষয় কুসংস্কার

আশুরার দিনকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত কিছু বিদআত ও কুসংস্কার থেকে বেঁচে থাকা জরুরি। ইসলামে এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই:

  • শোক পালনের উদ্দেশ্যে শরীর রক্তাক্ত করা, বুক চাপড়ানো বা মাতম করা।
  • বিশেষ নিয়মে গোসল করা, জোর করে সুরমা বা মেহেদি লাগানো।
  • নির্দিষ্টভাবে খিচুড়ি বা বিশেষ খাবার রান্না করাকে ইবাদতের অংশ মনে করা।
আপনার মতামত দিন

সর্বশেষ সংবাদ

এই রকম আরও

গাজওয়াতুল হিন্দ: শেষ জমানার মহাযুদ্ধ নিয়ে হাদিসের আলোয় তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ

গাজওয়াতুল হিন্দ : একটি তাত্ত্বিক ও তথ্যবহুল আলোচনা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতিশ্রুত গাজওয়াতুল হিন্দ কি অতি...

আশুরার শিক্ষা ও একজন মুসলিমের করণীয়

আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনকে ইবাদতের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করার জন্য বছরজুড়ে বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন।...

হিজরি ১২ মাসের নামকরণের ইতিহাস

হিজরি সন বা ইসলামি বর্ষপঞ্জির প্রতিটি মাসের নামের পেছনে রয়েছে সুদীর্ঘ ইতিহাস, আরবদের প্রাচীন সংস্কৃতি ও প্রকৃতির বৈচিত্র্য।...

আজ রাতে নতুন গিলাফে সাজবে পবিত্র কাবা

আরবি নববর্ষ ১৪৪৮ হিজরির প্রথম রাতেই পবিত্র কাবা শরিফে পরানো হচ্ছে নতুন গিলাফ (কিসওয়া)। আজ সোমবার (১৫ জুন)...