আমরা চাই দলীয় নির্দেশে শান্তিপূর্ণভাবে একসাথে কাজ করতে – মোঃ আওলাদ হোসেন

145

দীর্ঘ ১৯ বছর পর ঢাকার দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের ৫ম ত্রিবার্ষিক সম্মেলন আগামী ১৫ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পদপ্রত্যাশী নেতারা সম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে নেতাকর্মিদের আহবান জানিয়ে উপজেলার নয়াবাড়ি থেকে মুকসুদপুর পর্যন্ত ফেস্টুন, ব্যানার, তোরণ ও বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। আগামী ১৫ মে রোববার উপজেলার জয়পাড়া পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে সম্মেলনের স্থান নির্বাচিত করেছেন দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বেনজির আহম্মদ(এম.পি)। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্ঠা এবং ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান ফজলুর রহমান।

৫ম ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামীলীগ কর্মী দোহার উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক মোঃ আওলাদ হোসেন। কাউন্সিল নিয়ে একান্ত আলাপচারিতা করেছেন news39.net এর সাথে। আলাপচারিতায় ছিলেন স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আল-আমিন।

মোঃ আল-আমিনঃ আপনি সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী। কেন এই পদে প্রার্থী হয়েছেন?
মোঃ আওলাদ হোসেনঃ আমি ১৯৮০সাল থেকে ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে দোহার থানা আওয়ামী লীগের সদস্য, প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে এখন সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছি। জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে আমার এই ৪০বছর জীবনে সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করে আসছি। আমি যদি সাধারণ সম্পাদক হতে পারি, তাহলে বিগত দিনের ন্যায় আগামীতেও আমি আমার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করবো আওয়ামীলীগের নির্দেশ মত।

মোঃ আল-আমিনঃ আপনার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার/ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে বলুন?
মোঃ আওলাদ হোসেনঃ প্রথম ১৯৮১ সালে নারিশা ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হই। ১৯৮৮ সালে দোহার থানা আওয়ামী লীগের সদস্য নির্বাচিত হই। ১৯৯২ সালে দোহার থানা আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হই। ২০০৩ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হই। সেইসাথে এক সময় ঢাকা জেলার ছাত্রলীগের সদস্য ছিলাম। গতবার আমাকে নারিশা ইউনিয়নে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করি কিন্তু আমাদের দলের কিছু নেতৃবৃন্দের কারনে আমি অল্প ভোটে হেরে যাই।

অন্য খবর  দোহার ও নবাবগঞ্জের মাদ্রাসার এতিমদের সহায়তায় সেনাবাহিনী

মোঃ আল-আমিনঃ সাধারণ সম্পাদক পদে কেন কাউন্সিলর-রা আপনাকে ভোট /সমর্থন দিবে?
মোঃ আওলাদ হোসেনঃ আমি একজন সাধারণ মানুষ। আমার সাথে সকল সাধারণ মানুষ, কর্মি, নেতা,অসহায়দের যোগাযোগ আছে। সবার সাথে ভালো সুসম্পর্ক আছে। আমাকে সবাই আওলাদ ভাই হিসেবে চিনে। প্রত্যেক ইউনিয়নের সভাপতি, সেক্রেটারি সহ সকল কাউন্সিলররা আমায় চেয়েছে ও সমর্থন দিইয়েছে। তাই, আমি আশা করি আমিই সাধারণ সম্পাদক হবো। তাই আমি মনে করি আমি সাধারন সম্পাদক হতে পারলে দলের ভিত্তি মজবুত হবে। আমি দলের জন্য কাজ করতে পারবো। যেকোন দায়িত্ব সহ ভুমিকা পালন করতে পারবো।

মোঃ আল-আমিনঃ দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগ নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ ভাবনা কি?
মোঃ আওলাদ হোসেনঃ দোহার-নবাবগঞ্জে যে সকল উন্নয়নের জন্য যে মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে আমাদের মাননীয় এমপি মহোদয় সালমান এফ রহমান তার কাজে সার্বক্ষনিক সাথে থাকবো। সেই সাথে আমাদের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত কে শক্তিশালী করার জন্য উন্নয়ন মুলক কাজে অংশ গ্রহন করবো।

মোঃ আল-আমিনঃ সভাপতি হিসেবে আপনি কাকে চান?
মোঃ আওলাদ হোসেনঃ বর্তমানে দোহারের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ আছে বিগত দিনে ২০০৩সালে সম্মেলনে মাধ্যমে সভাপতি হন নজরুল ইসলাম বাবুল, সাধারণ সম্পাদক হিসাবে নির্বাচিত হন আলী আহসান খোকন শিকদার তারা নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তবে বর্তমানে আমাদের যুগ্ম সম্পাদক , দোহা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বার বার নির্বাচিত। কারন তিনি সাধারণ মানুষের সাথে এতো মিশতে পারে এবং সকল কে সময় দেন ও কথা শুনেন। তার কোন দূর্নীতি নাই। তাই সে যদি সভাপতি হয় তাহলে দোহারে সঠিক নেতৃত্ব ও ভালো একজন অবিভাবক পাবে। দলকে আরো শক্তিশালী করে গরে তুলতে পারবে। তার যোগ্য স্থানে আসার মত কেউ নাই বা আগামী প্রজন্মেও আসবে কিনা আমি জানিনা।

অন্য খবর  প্রতিমন্ত্রীর ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন

মোঃ আল-আমিনঃ দল যদি আপনাকে বাদ দিয়ে অন্য কাওকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনয়ন দেয়, আপনি কি মেনে নেবেন?
মোঃ আওলাদ হোসেনঃ আমরা সবাই দলের জন্য কাজ করতেছি। দল যে সিদ্ধান্ত নিবে /দিবে সেটাই আমরা মেনে নিবো।আমরা দলের বাইরে কোন কাজ করবো না। তবে আমি মনে করি দল আমাকে চাইবে ও সাধারণ সম্পাদক পদ দিবে এটাই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

মোঃ আল-আমিনঃ বিএনপি/ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে সামনে কিভাবে মোকাবিলা করবেন?
মোঃ আওলাদ হোসেনঃ আমরা কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে উন্নয়নের কাজের ধারা অভ্যাহত রেখে দলের নির্দেশ মত কাজ করবো। আমরা কোন হয়রানি, মারামারি চাইনা। আমরা চাই শান্তিপূর্ণভাবে একসাথে কাজ করতে।

মোঃ আল-আমিনঃ সভাপতি পদে কেন একজন ব্যাতীত অন্য কেউ প্রার্থী হচ্ছে না বলে, আপনি মনে করেন?
মোঃ আওলাদ হোসেনঃ দোহারে সভাপতি, জেলা সভাপতি, সেক্রেটারি হওয়ার মত অনেক যোগ্য নেতা কর্মি আছে তবে আমাদের দোহার উপজেলার চেয়ারম্যান মোঃ আলমগীর হোসেনের মত কেউ নাই। কারন তার মত পরিশ্রমি,যোগাযোগ, নেতৃত্ব, শক্তিশালী দল গঠন,সাধারণ মানুষের সাথে মিশে কাজ করার মত আর কেউ নাই। তাই আমি মনে করি আলমগীর ভাই সভাপতি পদ পাওয়ার দাবিদার রাখে। প্রতিটা মানুষ ও প্রোগ্রামের উপস্থিত হন।আলমগীর ভাই সকল নেতা কর্মির সাথে সুসম্পর্ক সহ রাতদিন যোগাযোগ রাখেন

মন্তব্য