
শামিম হোসেন, রায়পাড়া ♦ বাংলাদেশে জোকের মত জেকে আটকে আছে এম এল এম কোম্পানী। হায় হায় এসব কোম্পানী স্বপ্ন বিক্রির মাধ্যমে নিজেরা যেমন রাতারাতি কোটিপতি বনে যাচ্ছে তেমনি রাতারাতি কোটিপতির স্বপ্ন দেখাচ্ছেন সাধারন মানুষকে। কর্মকর্তারা গাড়ি বাড়ি করলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না সেই স্বপ্ন দেখা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের। কোম্পানীর প্রতিনিধিরা বিনজনেস বা ব্যবসা বললেও আদৌও কি ব্যবসা তা খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ব্যবসা বললেও তারা প্রতারণা করে যাচ্ছে প্রতিটি পদক্ষেপে। প্রতারণার এ ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ডেসটিনি ২০০০ লি.। প্রশাসনের নিশ্চুপতায় দিনের পর দিন অপকর্ম করে গেলেও প্রতিকার নেই। যেন অপ্রতিরোধ্য শক্তি তাদের সামনের দিকে টানছে। দেশের সুশীল সমাজসহ আপমর জনগণ চাইলেও সরকারি সংস্থাগুলো এখনও যেন হাতপা গুটিয়ে বসে আছে। আর এই সুযোগে এসব হায় হায় কোম্পানি মানুষের দৃষ্টি অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করছে।
এম এল এম ব্যবসা বাংলাদেশে নতুন নয়। ২০০০ সাল থেকে শুরু হয়। হয়ত পরিকল্পনা করা হয় আরো আগে থেকে। অনেক প্রতিষ্ঠান কোম্পানির অফিস গুটিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে। প্রশ্ন হল ব্যবসা ভাল হলে ঐসকল কোম্পানি ব্যবসা বন্ধ করল কেন? ডেসটিনির সেমিনারে বলা হয় সাধারণ মানুষ ব্যবসা করে প্রচালিত পদ্ধতিতে। আমাদের টাকা তিন শ্রেণীর ব্যবসায়ী ভোগ করে। ব্যবসায়ীরা নাকি আমাদের ঠকিয়ে মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খায়। তারা পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে আমাদের ঠকায়। পক্ষান্তরে ডেসটিনি ২০০০ লি. এম এল এম ব্যবসার মাধ্যমে ২১ জনকে কমিশন প্রদান করে। সঙ্গত কারণেরই প্রশ্ন থাকে ৩ জন লাভ করে বেশি নাকি ২১ জনকে কমিশন দিতে বেশি ব্যয় হয়। তার উপর আবার কোম্পানির লাভের টাকা দিতে হয়। কোম্পানির কয়েকজন প্রতিনিধি আমাকে দেখানো একটি সেমিনারে বলেছিলেন, শতকারা কোম্পানি ২১ পয়সা লাভ করে। বর্তমানে কোম্পানির দাবী অনুযায়ি তাদের ৭৮ লাখ গ্রাহক। ৭৮ লাখ গ্রাহকদের নিকট থেকে শতকারা ২১ পয়সা লাভ করে ৩৭ টি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব কিভাবে?
বিভিন্ন ছোট বড় সেমিনারে তারা মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য কয়েকজন প্রতিবন্ধির উদাহরণ দেয়। কিন্তু তাদের কেউ দেখেছে বলে আমার জানা নেই। টাইবাবুদের পরিচয় তারা সম্মান জনক ব্যবসা করছে। কিন্তু প্্রশ্ন হল এম এল এম ব্যবসা কিসের? এটা কোন ব্যবসা নয়। এটা স্বপ্ন বিক্রি করে মানুষের মধ্যে ধোকাবাজি দিয়ে টাকা আয় করা মাত্র। ব্যবসা হয় পণ্য নিয়ে। কোন পিন নম্বর নিয়ে, সেন্টার কোড নিয়ে কখনই ব্যবসা হতে পারে না। টাইবাবুরা কোম্পানীর পণ্য বিক্রি করে। মানুষের ব্যবসা নামক গোলক ধাধা বুঝিয়ে তাদের বোকা বানিয়ে পণ্য ক্রয় করায়। ব্যবসা তখনই হবে যখন আপনি নিয়মিত পণ্য কোন-বেচা করবেন। কিন্তু আপনার কোম্পানির প্রতিনিধি হয়ে পণ্য বিক্রি করছেন। প্লিজ ভাই এটাকে ব্যবসা বলবেন না, বলবেন সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ। কারণ আপনি মানুষ ধরতে না পারলে আপনার কমিশন নেই। আপনার ড়্গতিও নেই। কিনত্ম ব্যবসায় পণ্য বিক্রি করতে না পারলে ড়্গতি আছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পজিশন ভাড়া সার্ভিস চার্জ এগুলো ড়্গতি হয়।
ডেসটিনি ২০০০ লি. এর সেমিনারে বলা হয়, প্রত্যেক মানুষ সফল হবে। সপ্তাহে ৬-৭ ঘন্টা, ২২-২৪ মাস সময় দিলে সফল হবে। সেও হতে পারে ডায়মন্ড, ক্রাউন, সিলভর প্রভৃতি। মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় হবে। দেওয়া হবে গাড়ি, বাড়িসহ আনেক কিছু। আমার প্রশ্ন হল কিভাবে। ইংরেজি একটি কথা আছে মানুষ সহজে যা করতে পারে। ৭৮ লাখ সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ মধ্যে বড় জোর ২ হাজার সেলস রিপ্রেজেনটেটিভকে সাবলম্বী করা যায় বাকীদের করা যায় না। ৭৮ লাখ সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ এর সর্বশেষ ব্যক্তি স্বাবলম্বী হতে পারে না। কারণ তার সাইকেল পূরণ করতে তার জীবন শেষ হতেও পারে। কোম্পানির সর্বশেষ ধোকাহল দুই হাত পূরণ করা। অর্থাৎ ডান ও বাম হাত পূরণ করতে না পারলে কোন সেলস রিপ্রেজেনটেটিভ বোনাস পাবে না। ফলে উপরে উঠার প্রতিবন্ধকতা বন্ধ। সেলস রিপ্রেজেনটেটিভের মতই টার্গেট পূরণ করতে না পারলে কোম্পানি তাকে আসত্মাকুড়ে নিড়্গেপ করে। তাদের খোজ আর রাখবে না। তবে মজার বিষয় হল কোম্পানি এ সব সেলস রিপ্রেজেনটেটিভদের বিশ্বাস করে না। যদি বিশ্বাস করত তাদের হাতে পণ্য দিয়ে মাঠে নামাতো। কিন্তু বিশ্বাস করে না বলেই কোম্পানি বলে তোমরা মাঠে যাও আর মানুষ ধরে নিয়ে আস। তাহলে তোমাদের কমিশন দেওয়া হবে।
এম এল এম কোম্পানিগুলো টাকা ছাড়া কিছু চেনে না। বাংলাদেশের বড় বড় কোম্পানি তাদের কর্মীদের নিয়োগের পরে সামান্য হলেও প্রশিক্ষন দিয়ে থাকে। ডেসটিনি ২০০০ লি.ও প্রশিক্ষন প্রদান করে। কিন্তু টিকিট বিক্রির মাধ্যমে। এখানে প্রশিক্ষন কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই। প্রশিক্ষন না নিলেও তাদের কোন ক্ষতি নেই। বরং প্রশিক্ষন নিলে কোম্পানি আর্থিক ভাবে লাভবান হয়। কারণ যারা প্রশিক্ষন নেন তাদের টাকা পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ আগে থেকে স্টেডিয়ামে খেলা বা গান শোনার মত এম এল এম কোম্পানির স্বপ্ন বিক্রির খেলা দেখার জন্য টিকিট সংগ্রহ করতে হয়। এছাড়া বিভিন্ন সময় শ্রেষ্ঠ বিক্রেতাদের জন্য সেলিব্রেটি আয়োজন করে কোম্পানি। কিন্তু দেখা যায় সেখানেও ডেসটিনি কোন টাকা খরচ করে না। ৩০০ টাকা মূল্যে ২৫০ টাকা মূল্যে টিকিট বিক্রি করে খরচের অর্থ আয় করে। ফলে তাদের সেলস রিপ্রেজেনটেটিভরা প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে।
এম এল এম কোম্পানির প্রধান টার্গেট কলেজ পড়ুয়া উঠতি বয়সী যুবক। যাদের সামনে রঙ্গিন স্বপ্ন। তাদের বোঝানো হয় চাকরি করে কত টাকা আয় করা হয়। যদি ডেসটিনি করে মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা মাত্র ২ বছরে আয় করা যায় তবে ক্ষতি কি। এভাবে তাদের লেখাপড়া ধ্বংস করে প্রলুব্ধ করা হয়। তবে মজার বিষয় হচ্ছে যারা ডেসটিনি করে বা এম এল এম করে তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আসার নজির খুব কম আছে। যদি সপ্তাহে ৬-৭ ঘন্টা ব্যয় করে ২২-২৪ মাস পরে ৪০-৫০ হাজার টাকা সহজে আয় করা যায় তাহলে তাদের পরিবারের সকল সদস্যদের কেন নিয়ে আসছে না। কেন অনেকে ডেসটিনি করে ঝরে যাচ্ছে। যারা একদিন মানুষের স্বপ্ন দেখাতো তাদের স্বপ্ন ভঙ্গ হল কিভাবে।
সরকারের উচিৎ সাধারণ মানুষের সাখে এই প্রতারণার খেলা এখনই বন্ধ করা। এতে সরকারকে সাধারণ মানুষ বাহবা দিবে। সরকারকে ভিতরের খবর জানতে হবে ডেসটিনির সাথে মানুষ আর নেই। সাধরণ মানুষ এমএলএম ব্যবসা ঘৃণা করে। এদের এখনই রুখতে হবে। তবে বাংলার মানুষ আপনাদের বাহবা দিবে। সেই তিনটাই দেখার অপেক্ষায় বাংলার মানুষ।