
স্পোর্টস ডেস্ক ♦ তামিম ক্রিজে নামলে নিজে থেকেই একটু রেগে যেতে চান। বোলারের সাথে মানসিক দ্বন্দে আটকে যেতে চান। এতে অবশ্য তিনি স্বস্তিবোধ করেন। বোলারের উপর রেগে গিয়ে যে বোলারের ওপর ব্যাট চালান।
ঢাকা প্রিমিয়ার লীগের প্রায় সবাই জানে তামিম ব্যাটিংয়ে নেমে ইচ্ছাকৃতভাবে বোলারদের সাথে হাল্কা বাক্যালাপ করেন, তাতে যদি বোলার রেগে গিয়ে দুএকটা কথা তামিমকে শুনিয়ে দেন তবেই হয়েছে। এরপর তামিম ব্যাটকে তলোয়ার বানিয়ে বোলারকে কাটাকুটি করেন।
এটাই তামিম ইকবাল, প্রচন্ড জেদী। এবার এশিয়া কাপে তামিমের জেদ আবার দেখল ক্রিকেট বিশ্ব। উপলব্ধি করল পুরো বাংলাদেশের সমর্থকরা। সবচে বেশী উপলব্ধি করলেন বিসিবি প্রধান মুস্তফা কামাল। তিনিই যে এশিয়া কাপের স্কোয়াড থেকে তামিমকে বাদ দিয়েছিলেন ইনজুরি ছুতোয়।
বাদ পড়ার প্রতিবাদে পদত্যাগ করলেন তামিমের চাচা প্রধান নির্বাচক আকরাম খান। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আকরাম আবার ফিরলেন। অনেক নাটকের পর তামিমও দলে সুযোগ পেলেন। সুযোগ পেয়েই তামিম বোধহয় শপথ করে বসলেন ব্যাটে জবাব দেয়ার। জবাব দিলেনও বটে, একেবারেই কড়া জবাব যাকে বলে।
টানা চারটি অর্ধশতক করে কেবল শান্ত থাকলেন না প্রতিদিন করলেন আলাদা আলাদা উদযাপন। উদযাপন যতটা না উদযাপন তারচে বেশী কিছু বিসিবি প্রধানকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া। ওয়ানডেতে টানা চারটি অর্ধশতক এর আগে বাংলাদেশী কেউ করেনি।
এদিক দিয়ে বাংলাদেশের সমর্থকরা মুস্তফা কামালকে ধন্যবাদ দিলেও দিতে পারেন। তিনিইতো তামিমকে তাতিয়ে দিলেন। এর আগে পাকিস্তানের সাথে সিরিজে তামিমকে হোটেল থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করার ঘটনাও শোনা যায়।
পাকিস্তানের সাথে প্রথম ম্যাচে অফফর্মে থাকা তামিম নিজেকে থিতু করতে সময় নিলেন। ৮৯ বলে করলেন ৬৪ রান। পঞ্চাশ রান করেই ব্যাট দিয়ে কাটাকুটি করার অভিনয় করলেন। ভারতের সাথে দ্বিতীয় ম্যাচেও চেনা তামিম থেকে ভিন্ন ষ্টাইলে ব্যাট করে ৯৯ বলে ৭০ রান করলেন।
শ্রীলংকার সাথে অলিখিত সেমিফাইনালের সে ম্যাচে দেখা গেল সেই পরিচিত তামিমকে। প্রথম বল থেকে বোলারদের উপর চেপে বসে ৫৭ বলে করলেন ৫৯ রান। এবার এল প্রতিক্ষিত ফাইনাল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গতকালের ফাইনালে ৬৮ বলে ৬০ রান করলেন তামিম। এবার ফাইনাল উদযাপনটাও করলেন তিনি। এক এক করে চারটি আঙ্গুল বের করে দেখালেন টানা চারটি অর্ধশতক করার সংকেত। উদ্দেশ্য যে বোর্ড প্রধান তা বাংলাদেশি ক্রিকেট দর্শক মানেই জানেন।
টানা চারটি অর্ধশত করে বোর্ড প্রধানকে জবাব দিলেন। এরচেয়ে ভাল জবাব আর কোনভাবেই হতে পারত না। জেদ এবং আক্রমনাত্মক স্বভাবের জন্য তামিম যেমন প্রশংসিত তেমনই সমালোচিতও বটে। লর্ডসে বলে কয়ে সেঞ্চুরী করা তামিম সমালোচিত হলেন জিম্বাবুয়েতে। সাকিবের সাথে সহ অধিনায়কত্ব হারালেন। তবে ক্রিকেট সমর্থকরা তার কোন যৌক্তিক কারন পেলেন না।
জেদ তামিমকে এশিয়া কাপে জিতিয়ে দিয়েছে মুস্তফা কামালের সাথে। তামিম যদি ব্যর্থ হতেন তবে নিশ্চিত বোর্ড সভাপতি মুখ খুলতেন। তামিম কেবল টানা চারটি অর্ধশতকই করলেন না বোর্ড প্রধানের মুখে কলুপ এঁটে দিলেন। তামিমকে দেখে বলতেই হয়, "জেদ যদি ভাল কিছু করে তবে জেদই ভাল।" চলুক না তবে বাংলাদেশের সব ক্রিকেটার এমন জেদ নিয়ে!