
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ♦ আফ্রিকা মহাদেশের রাষ্ট্র মালির রাজধানী বামাকোতে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সম্প্রচার কেন্দ্র বুধবার দখল করে নিয়েছেন বিদ্রোহী সেনারা। সেখান থেকে প্রচারিত এক বিবৃতিতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাছাড়া বিদ্রোহের শুরুতেই বিদ্রোহী সেনারা দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে আক্রমণ চালিয়েছে বলে জানায় সংবাদমাধ্যম।
টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বিদ্রোহীদের মুখপাত্র জানান, সংবিধান স্থগিত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে বিলুপ্ত। গতকাল মালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একটি সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শনের সময় এই বিদ্রোহের সূত্রপাত হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম।
সরকারের প্রতি বিদ্রোহী সেনাদের অভিযোগ, বিদ্রোহী তুয়ারেগদের বিরুদ্ধে লড়ার জন্য সরকার সেনাবাহিনীকে পর্যাপ্ত অস্ত্রে সজ্জিত করেননি। বিদ্রোহীদের মুখপাত্র লে. আমাদো টেলিভিশনে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে জানান, তারা বর্তমান প্রেসিডেন্ট আমাদো তোমানি তুরের অযোগ্য শাসন অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটিয়েছেন। তুয়ারেগ বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়তে সরকারের দুর্বল অবস্থানের নিন্দা জানিয়ে বিদ্রোহী সেনারা এসময় দাবি করেন, তারা গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত সরকারের হাতে শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত করবেন। এর প্রতিক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট তুরের তরফ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকার অনুগত সেনাদের লড়াই চলছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা। গতকাল সারাদিনই রাজধানী বামাকোতে গুলির আওয়াজ পাওয়া যায়। অনেক সাঁজোয়া যান এসময় প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ রক্ষা করতে এগিয়ে যেতে দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ এখনও সরকার অনুগতদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রাসাদ রক্ষীদলের এক সদস্য। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স বিদ্রোহী সেনা এবং সরকার উভয়পক্ষকেই শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, মালিতে আগামী কিছু দিনের মধ্যেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশটিতে নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে গেল বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্রঃ আল জাজিরা